বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজারে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১ মার্চ) অভিযান চালিয়ে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীর উচিতারবিল এলাকায় গিয়াস উদ্দিনের মালিকানাধীন জিএলবি ব্রিকস নামের একটি ইটভাটার আংশিক ধ্বংস করে এই বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভীন। জানা যায়, অবৈধ ইটভাটাগুলো এতদিন জেলা প্রশাসনের একটি গোপনীয় শাখায় অবৈধভাবে টাকা দিয়ে চলে আসছিল।
কক্সবাজারের পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা জানান, আজ একটি ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে। পরিবেশ ছাড়পত্র ও ইট পুড়ানোর ছাড়পত্র না থাকায় অবৈধ ইটভাটা ধ্বংসে দেশব্যাপী অভিযান চলছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজারেও অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ইটভাটাগুলোতে কয়লা পুড়ানোর নির্দেশ থাকলেও নির্দেশ অমান্য করে পুড়ানো হয় হাজার হাজার টন লাকড়ি। আর এসব লাকড়ি সংগ্রহ করা হয়ে থাকে আশপাশের বন উজাড় করে। কয়েকজন ইটভাটা মালিক বলেন, তারা এতদিন জেলা প্রশাসনের একটি বিশেষ শাখায় টাকা দিয়ে ইটভাটা চালিয়েছেন।
কক্সবাজারের পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’ এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘কক্সবাজারে তিনভাগের দুইভাগ ইটভাটা অবৈধ। পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এসব ইটভাটা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এসব ইটভাটা মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের এসব ইটভাটা বন্ধে আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে।’
তিনি অবৈধ সব ইটভাটা বন্ধের দাবী জানান। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহায়তা করেন।