জয়নাল উদ্দিন:
বাঁকখালী নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে আনুমানিক তিন লাখ ঘনফুট বালি তুলে ভরাট করা হয়েছে জলাশয়। সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে অনুমোদনবিহীন ভবন। এর আগে গড়ে তোলা বিলাসবহুল কমিউনিটি সেন্টারের নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এসব ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণে সেখানে দখল করা হয়েছে সড়ক বিভাগের আনুমানিক এক একর জমি। কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া দরগাহর ভাঙা ব্রীজ এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে এসব কর্মযজ্ঞ চলছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ঝিলংজার পূর্ব মোক্তারকুল দরগাহর ভাঙা ব্রীজ এলাকায় মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে ওই এলাকার মৃত কবির আহমদের জমি রয়েছে। এসব দীর্ঘদিন ধরে ডোবা ও জলাশয় হিসেবে ছিল। এক বছর আগে কবির আহমদের পুত্র আজিজুল হাকিম, খোরশেদ আলম ও ফরিদুল আলম বাঁকখালী নদী থেকে বালি তুলে এসব ডোবা ও জলাশয় ভরাট শুরু করেন। অবৈধভাবে বাঁকখালী নদী থেকে বালি উত্তোলনের ঘটনায় সেখানে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু বালি উত্তোলন বন্ধ হয়নি। বালি তুলে ইতিমধ্যেই সেখানে বিশাল আয়তনের বিলাসবহুল একটি কমিউনিটি সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। যা এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে সেখানে বালি উত্তোলনের পাশাপাশি আরও একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই সেখানে আনুমানিক তিন লাখ ঘনফুট বালি উত্তোলন করা হয়েছে। বালি তুলে ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি আনুমানিক এক একর সড়ক ও জনপদ বিভাগের সরকারি জমি দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
৭০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মালেক বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে এটি খালের মতো ডোবা ছিল। সেখানে এলাকার লোকজন এক সময় মাছ ধরতো। কিন্তু পানি কমে যাওয়ায় পাশের জমির মালিক কবির আহমদের ওয়ারিশরা এটি বালি তুলে ভরাট করে ফেলেছে।’
পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্ট পিপল’ এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, ‘অবৈধভাবে বাঁকখালী নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে আনুমানিক তিন লাখ ঘনফুট বালি উত্তোলন করে জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। এখন সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এতে সরকারি সম্পদ বেহাত হওয়ার পাশাপাশি বালি উত্তোলন ও জলাশয় ভরাটের মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।’ দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বালি তুলে জলাশয় ভরাটে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদুল আলম বলেন, ‘আমাদের জমি আমরা ভাইয়েরা মিলেমিশে ভরাট করেছি। আমরা সেখানে অনুমোদন নিয়েই স্থাপনা নির্মাণ করছি। সরকারি জায়গা খালি রেখেছি। এছাড়া প্রশাসনের অভিযানের বিষয়টিও সমাধান করা হয়েছে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ব্যতিত নদী থেকে বালি উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফিন বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ইতিমধ্যেই এটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।’