জয়নাল উদ্দিন:
কক্সবাজার ঝিলংজা মেডিকেল কলেজের পিছনের এলাকায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মো. নুর (২৮) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নুর ঝিলংজা জানার ঘোনা এলাকার মৃত রশিদ মিস্ত্রির ছেলে। তবে পরিবারের দাবী পরিকল্পিতভাবে নুরকে হত্যা করা হয়েছে।
অপরাপর শ্রমিকের বরাত দিয়ে নুরের স্ত্রী সাবেকুনাহার বলেন- মেডিকেল কলেজের পিছনের এলাকায় সোলাইমান নামে একব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনে কয়েকদিন ধরে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিল আমার স্বামী মো. নুর। ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও সেখানে কাজে যায়। কিন্তু দুপুরের দিকে ভবনের মালিক সোলাইমান ও তার স্বজন ফরিদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। ঢালাই কাজে একটি ভাইব্রেটর মেশিন দিয়ে কাজ করতে বলে মালিক পক্ষ। কিন্তু ভাইব্রেটর মেশিনে বিদ্যুতের একটু ঝামেলা থাকায় সেই মেশিন দিয়ে কাজ করতে অনিহা প্রকাশ করে মো. নুর। তারপরও জোর করে সেই মেশিন দিয়ে কাজ করান ভবনের মালিক। কাজের এক পর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে অপরাপর শ্রমিকরা তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আশিকুর রহমান বলেন- সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মো. নুর নামে ওই ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হওয়ার কারণে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছে। তবে মরদেহ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর প্রতিবেদন পাওয়া গেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন- বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার কথা শুনেছি। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়না তদন্তের পর আসল ঘটনা জানা যাবে। তবে এবিষয়ে কেউ এখনো এজাহার বা অভিযোগ দায়ের করেনি।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবী- অবৈধভাবে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সোলাইমান নামে ওই ব্যক্তি প্রভাবকাটিয়ে ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছে। এতে আশপাশের অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নেওয়া হয়নি। সোলাইমানের স্বজন ফরিদ এই ভবনটি নির্মাণের নেতৃত্বে দিয়ে যাচ্ছে।