• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

খরুলিয়ায় ভূমিদস্যু আতঙ্কে ঘুম হারাম এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিদেক / ২১২ বার ভিউ
আপডেট সময় : সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ভূমিদস্যু ও খতিয়ান জালিয়াতচক্র। এদের নির্যাতনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, নিরীহ গ্রামবাসী থেকে সংখ্যালঘু যাদের জমি আছে তারা এখন দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্কে। জাল দলিল সৃজন, জবর দখল, প্রভাব সৃষ্টির পাশাপাশি অবৈধ অর্থে পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পক্ষে রেখে এলাকার সাধারণ মানুষের ওপর ভূমিদস্যুরা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিলংজা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলানা মোক্তার আহমদের ছেলে তারেক বিন মুক্তার। চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় তার বসবাস। একসময় শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার ছিলেন। চার দলীয় সরকারের আমলে বিচার বানিজ্য, আ.লীগ সমর্থীত লোকজনের উপর মামলা-হামলা করে দিনাতিপাত করতেন তিনি। জোট সরকার পতনের পর বংশগত এবং পারিবারিক শক্তির উপর ভিত্তি করে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন তারেক। একের পর এক বিরোধপূর্ণ জায়গা-জমি নামমাত্র কিনে দখল করা যেন তার নেশায় পরিনত হয়। এভাবেই জামায়াত নেতা তারেকসহ তার পরিবারের সদস্যরা সাধারণ জমি মালিকদের কাছে এক মূর্তিমান আতংক হয়ে দাড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারেক জামায়ত নেতা হলেও রাজত্ব কায়েম করেছেন আ.লীগ সরকারের আমলে। খরুলিয়ার চেয়ারম্যান পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার সরকারি, খাস ও অন্যের জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে ভাড়া ঘর গড়েন। প্রথমে তিনি নাম মাত্র জমি কেনার প্রস্তাব দিতেন। প্রস্তাবে সাড়া না দিলে হামলা, তারপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন। তাতেও কাজ না হলে খুন করতেও দ্বিধা করতেন না। এসব অপকর্মের জন্য তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন ক্যাডার বাহিনী। এসব বিষয়ে পুলিশে অভিযোগ করলেও কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঝিলংজার খরুলিয়া চেয়ারম্যান পাড়ার রাস্তার মাথায় ভূমিদস্যু জামায়াত নেতা তারেক স্থানীয় আমির হোসেনের মেয়ে হাজেরা খাতুন, আনোয়ারা খাতুন ও সাকেরা খাতুনের কাছ থেকে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৩ গন্ডা জমি নানান প্রতারণা ও ব্লাকমেলিং করে ক্রয় করেন। পাশে থাকা আরোও ২ গন্ডা জমি স্থানীয় কালুর ছেলে আবুল বশর, আবু ছৈয়দ ও আবুল কালামের কাছে নামমাত্র ক্রয় করেন। এরপর থেকে ওই জমির সামনের অংশে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাথে লাগোয়া স্থানীয় বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ খলিলের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৫ গন্ডা জমির উপর ভূমিদস্যু জামায়াত নেতা তারেক বিন মুক্তারের লুলুপ দৃষ্টি পড়ে।

এরপর থেকে ওই জমি দখলের পাঁয়তারা শুরু করেন। বিভিন্নভাবে জমি দখলে নিতে চেষ্টা চালালে ভুক্তভোগী মালিক বাধা দেন। জমি বাঁচাতে থানায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মান্যগণ্য ব্যাক্তির ধারস্ত হয়েও কোন সাড়া না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন জমির মালিক মোহাম্মদ হোসাইন। এমতাবস্থায় কয়েকদিন আগে হঠাৎ করে জমিটি দখলে নিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেন জামায়াত নেতা তারেক। এসময় বাধা দিতে গেলে জমির মালিক মোহাম্মদ হোসাইনের সাথে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তার ছেলেরা জমিতে গেলে লেগে যায় মারামারি। এতে তারেক আহত হলে তাকে পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, জমিটি তারেক নামমাত্র দামে ক্রয় করার প্রস্তাব দেন। জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০১২ সালে তারেক বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। এতে আমারকেসহ ছেলে শাহজাহান মোর্শেদ, খোরশেদ আলম ও শাহীন রাশেদকে আসামী করা হয়। এছাড়াও আমার ছেলেদের ডাকাতি, হত্যা, মারামারি, নারী নির্যাতন ও ছিনতাইসহ মোট ৬ মামলা দিয়ে পথে বসিয়েছেন। এইসব মামলায় ছেলেরা দীর্ঘদিন কারাভোগ করে বতমানে জামিনে রয়েছেন। পরে বিভিন্নভাবে জানতে পারি, এইসব গায়েবী মামলা তারেক পুলিশকে বিপুল টাকার বিনিময়ে করিয়েছেন। তার উদ্দেশ্য ছিলো, আমার পরিবার মামলায় জর্জরিত হয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়লে; যাতে নামমাত্র জমিটি তিনি অল্প দামে ক্রয় করতে পারে।

তিনি আরোও বলেন, শুধু তাই নয়, গত বছরের জুন মাসে দক্ষিণ মিঠাছড়ির কাটির মাথা এলাকায় তারেকের এক আত্মীয়ের বাড়িতে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় রামু থানায় একটি মামলা করা হয়। সেখানে আমার ছেলে শামীম মোর্শেদকে আসামী করে তারেক। তিনি জমি দখলে নিতে মিথ্যা মামলার হলি খেলায় নেমেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু জমি দখল নয়, জামায়াত নেতা তারেকের সক্রিয় ক্যাডারদের হামলা-মামলায় এলাকার নিরীহ মানুষ এখন জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাংচুর ও প্রিকেটিং হয় তার নেতৃত্বে। নাশকতা, জ্বালাও-পুড়াওসহ ডজন খানেক মামলাও রয়েছে তার। নির্যাতিত এলাকাবাসী ভূমিদস্যু তারেকের গ্রেপ্তার ও প্রতিকারের দাবিতে এখন স্বোচ্ছার হয়ে উঠেছে। তার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে চেয়ারম্যান পাড়া গ্রামসহ আশপাশের অন্যান্য গ্রামের মানুষের দিন কাটে তারেক আতঙ্কে।

এক জনপ্রতিনিধি তারেকের সকল অভিযোগ স্বীকার করে জানান, এলাকার বিভিন্ন মানুষের সাথে তারেক ও তার পরিবারের সমস্যা রয়েছে। যেখানে জমি জায়গার একটু ফাসা আছে সেখানে তারা জমি কিনে নানান ঝামেলা করে এলাকায় অশান্তি ছড়িয়ে রাখে। নির্যাতনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, তারেক গংদের বিরুদ্ধে আমার পরিষদে অসংখ্য অভিযোগ করেছে নির্যাতিত বহু মানুষ। এসমস্ত ঘটনায় অসংখ্যবার শালিস বিচার করেছি। তবে অধিকাংশ সময় তারা পরিষদে হাজির হয় না। এমন অসংখ্য ঘটনায় ভূমিদস্যু তারেক ও তার ভাই লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে হামলা, মামলা করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে স্থানীয় এক ভুক্তভোগী বলেন, মনে হয়েছে দেশে যেন কোন আইন নেই। জামায়াত নেতা তারেকের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নির্যাতিত আরেক ভুক্তভোগী জানান, তার উপর নানাভাবে নির্যাতন করেছে ভূমিদস্যু তারেক গংরা। এছাড়াও তার নামে ৪টি মামলা দিয়ে হয়রানির পাশাপাশি ৩৩ শতক জমি নানা ফন্দি ফিকির করে দখল করে নিয়েছে। আরও দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে তারেকের সাথে বার বার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এবিষয়ে কক্সবাজার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম উদ্দিন বলেন, এই ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন