বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। শোকের মাসে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন দেওয়ায় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মেয়রসহ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা ব্যথিত হয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (২০ আগষ্ট) নির্বাচনে দ্বায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার সদর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রাশেদুল হাসান মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের স্বাক্ষরিত একটি নোটিশে অস্বভাবিক পরিবেশ, দ্বন্দ্ব ও মামলাসহ নানা করণের প্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ইউএনওসহ উর্ধতন মহলের হস্থক্ষেপে নির্বাচন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন এই নির্বাচনী কর্মকর্তা।
জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে এ মাসটি অত্যন্ত বেদনা ও শোকের। কিন্তু এই শোকের মাসে জামায়াতের আখড়া খ্যাত খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচন আয়োজন করে শুধু আওয়ামী লীগ নয় গোটা জেলাসীর মনে আঘাত দিয়েছে।
এরআগে শুক্রবার রাতে নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রধান শিক্ষকের সেচ্চাসারিতা, পছন্দের প্রার্থীদের বাছাই করা, শিক্ষক কতৃক হুমকি, নয় ছয় করে তফসিল ঘোষণা, নিজের স্ত্রীকে মহিলা অভিভাবক সদস্য মনোনীত করা, গোপনে দাতা সদস্য সৃজনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বর্জনসহ প্রার্থীতা বাতিলের লিখিত ঘোষণা দেন ৬জন প্রার্থী।
অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ঘিরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বির্তকিত প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক। ইতিমধ্যে তিনি তার ঘনিষ্ঠজনদের নির্বাচিত করার আয়োজন সম্পন্ন করেন তিনি। ইতিমধ্যে সেরে নিয়েছেন তার স্ত্রীকে মহিলা অভিবাবক সদস্য করাও।
বিদ্যালয় প্রতিষ্টার প্রথম জমি দাতা হাফেজা খাতুনকে পরিচালনা কমিটিতে আসার পথ রুদ্ধ করার কুমানসে রহিম উদ্দিন সিদ্দিকি, যুবায়ের মুহাম্মদ এহসান ও আব্দুল মান্নান ভুট্টো নামে তার তিনজন নিকট আত্মীয়দের দাতা সদস্য হিসেবে সৃজন করার অভিযোগ এনে প্রতিষ্টার প্রথম জমি দাতা হাফেজা খাতুন নামের এক বৃদ্ধা কক্সবাজার জজ আদালতে গত ১৭ আগষ্ট একটি মামলা করেন। এইসব অভিযোগ আমলে নিয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জজ আদালতের সহকারি জজ সুশান্ত চাকমা ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন।
মামলায় ওই বৃদ্ধা উল্লেখ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক কতিপয় স্বার্থনেষী ব্যক্তিবর্গের যোগসাজশে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে মনগড়া ম্যানেজিং কমিটির তালিকা তৈরি করে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের চেষ্টা করেন। অথচ তারা কেউই নিয়ম অনুযায়ী দাতা সদস্য নয়। শুধু তাই নয়, পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্যদের খসড়া ভোটার তালিকা গত জুন মাসের ২২ তারিখ প্রস্তুত করলেও প্রধান শিক্ষক ইচ্ছেকৃতভাবে তা প্রকাশ করেনি। নিয়মিত নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গিয়ে দেন নি।
তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে প্রধান শিক্ষক পদে তিনি এখনো টিকে রয়েছে তা সবাইকে বিস্মিত করেছেন। প্রধান শিক্ষকের নজিরবিহীন স্বজনপ্রীতি, ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে নয়ছয়, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা শিরোনামে ভিবিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রিজাইডিং অফিসার রাশেদুল হাসান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।