মহেশখালী প্রতিনিধি
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিনের ছোট ভাই রুহুল কাদেরকে গুলি ও কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে আরো ৭ / ৮ জনকে অজ্ঞাত দেখানো হয়েছে। যার মামলা নং জি আর-২৯৭/২০২১।
মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৮ টার সময় নিহত রুহুল কাদেরের পিতা মোহাম্মদ আমিন বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় এ মামলা দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হাই।
তবে উক্ত মামলায় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধানে ১/২ জন নিরহ লোকজনকে এজাহার নামীয় আসামী করা হয়েছে বলে তাঁদের পারিবারিক সূত্র দাবি উঠেছে।
অপরদিকে এজাহার নামিয় ৭ নং আসামী সরওয়ার কামাল মহেশখালী সদরে সিনিয়র এজিএম প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসুরেন্সর কোঃ লিঃ তথা সুজন বীমা ডিভিশন কমর্রত আছে।
তিনি ঘটনার রাতে অফিসিয়াল কাজে এলাকার বাইরে ছিলেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে দাবী তুলেছেন। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলা আসামী করা হয়েছে বলে মামলাটি তার পরিবার সুষ্ঠু ও নিরপক্ষ তদন্তের দাবী জানান।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আমার ছেলে রুহুল কাদের উল্লেখিত আসামীদের এলাকায় অবৈধ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন পূর্ব থেকে শক্রতা পোষণ করে এ নির্মমভাবে হত্যাকান্ড করেছে। ঘটনার রাত সাড়ে ৯ টার সময় কালারমারছড়া বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে ফকিরজুম পাড়া সাবেক মেম্বার নুর কাদেরের বাড়ীর সামনে সড়কে পৌঁছলে আগে থেকে উৎপেতে থাকা পেশাদার কিলার আসামীরা থাকে এলোপাতাড়ি দায়ের কুপ ও আমার ছেলের ডান পাজরে এবং বাম পাশের বুগলে গুলি করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পরে স্থানিয় লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। লোকমুখে খবর পেয়ে আমার বড় ছেলেও স্থানীয়রা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারে করে চকরিয়া হাসপাতালে নেওয়া গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
জানা গেছে, সেই চিরচেনা মানুষের পথচারণে মুখরিত থাকা বৃহত্তর কালারমারছড়া বাজার নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর মানুষ ঘরমুখী হওয়ায় দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা বাড়ী চলে যাচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।
কালারমারছড়া বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজার কেন্দ্রীক ও আশে পাশ এলাকায় বিভিন্ন সময় হত্যাকান্ড সংগঠিত যেন রেওয়াজে পরিনিত হয়েছে এখানে। শান্তি আর রইলনা।
স্থানীয় ও তার পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে তার পরিবারকে কোনঠাসা করতে স্থানিয় তারই এলাকার একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী কিলার জোটবদ্ধ হয়ে ঠান্ডা মাথায় রুহুল কাদের (৩৫) কে গুলি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আবার অনেকে মনে করছেন তাদের একটি এলাকায় বলয় থাকায় আগামী ইউপি নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় হতে না পারার জন্য এ হত্যাকান্ড সংগঠিত হতে পারে।
প্রসঙ্গত: সোমবার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯ টার সময় উপজেলার কালারমারছড়া বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে বাজার সাথে লাগায়ো ফকিরজুম পাড়া সড়কে পৌঁছলে ৮/৯ জনের একটি সন্ত্রাসী দল রুহুল কাদের (৩৫ ) কে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে।