ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক:
টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপকে ধর্ষক দাবি করে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার পঞ্চম দফায় প্রথম দিনে ২০তম সাক্ষী বেবী বেগম।
রোববার (১০ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টায় জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে বেবী বেগমকে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের জেরা দিয়ে পঞ্চম দফার বিচারকাজ শুরু হয়।
এর আগে চতুর্থ দফার সাক্ষ্য শুনানির শেষ দিনে বেবী বেগম আদালতকে বলেন, ওসি প্রদীপ ও তার বাহিনী ২০২০ সালে আমার কিশোরি কন্যাকে তুলে নিয়ে দীর্ঘদিন থানায় দ্বিতীয় তলায় আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এরপর মেয়ে বাড়ি ফিরে এসে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।
সেসময় প্রশাসন ওসি প্রদীপের পক্ষে থাকায় কোন মামলা করার সাহস পাননি দাবি করে বেবী বেগম বলেন, পরে মেজর সিনহা হত্যা মামলার পর তিনি সাহস পেয়ে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণ মামলা করেছেন।
বেবী বেগমের জেরা শেষে রোববার সেনা সদস্য লে. আরেফিন, কর্পোরাল নুর আহমদ, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সৈয়দ মঈন ও রুহুল আমিন এবং লেন্স কর্পোরাল আবু জাফরের সাক্ষ্যগ্রহণ করে আদালত। সেনা সদস্যরা সকলেই মেজর সিনহা হত্যার রাতে সেনা সদস্যদের সাথে ওসি প্রদীপের দুর্ব্যবহার ও মেজর সিনহা হত্যাকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেজর সিনহা হত্যা মামলা বিচারকাজে যুক্ত একাধিক আইনজীবী।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌশূলী ফরিদুল আলম বলেন, মামলায় সাক্ষ্যদানের জন্য ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫৯ জনকে আদালত নোটিশ দিয়েছেন। গত ২৩ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ২৫ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রোববার পঞ্চম দফায় প্রথম দিনে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৯ জন সাক্ষি আদালতে উপস্থিত থাকলেও ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পেরেছেন আদালত।
সূত্র: মহানগর