• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

৩০ দিনে ৩০ বাইক পাল্টায় কলেজ ছাত্র ইমু!

নিজস্ব প্রতিদেক / ১০৮৭ বার ভিউ
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

আরফাতুল মজিদ

প্রতিদিন কক্সবাজার শহরে নিত্যনতুন নামি-দামি বাইক চালিয়ে এদিক ওদিক ঘুরেন তিনি। ৩০ দিনে ৩০টি নতুন বাইক হাত বদল হয়। টেকনাফ টু কক্সবাজার আবার কক্সবাজার টু চট্টগ্রাম হয়ে বিভিন্ন জায়গায় দামি বাইক গুলো হাত বদল হয় ফরহাদ খান ইমু নামে এক যুবকের মাধ্যমে। গত দুই বছরে হাজারের অধিক বাইক হাত বদল করে বিক্রি করেছেন তিনি।

এসব বাইকের অধিকাংশই অবৈধ। বলতে গেলেই তিনি টানা (অবৈধ) বাইকের জমজমাট একজন ব্যবসায়ী। অল্প বয়সে তার আলিশান জীবন-যাপন ও নিত্যনতুন বাইক ব্যবহারে অবাক অনেকেই। তাছাড়া টানা বাইকের ব্যবসার মাঝখানে ইয়াবা ট্যাবলেটের ছোঁয়াও লেগেছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে ফরহাদ খান ইমু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। ইমুর বড় ভাই ফয়সাল হিরুও ইয়াবাসহ আটক হয়ে কারাগারে গিয়েছিল। ইমুর পরিবার ফেন্সিডিল ব্যবসাতেও জড়িত বলেও অনেকের অভিযোগ

ফরহাদ খান ইমু (২৫) উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা হলদিয়াপালং পাতাবাড়ি গ্রামের শাকের আলীর ছেলে। বর্তমানে রামু সরকারি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ইমু। কলেজে পড়াশুনার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়ে টানা বাইক ব্যবসায়। কক্সবাজার জেলায় অবৈধ নামি-দামি বাইক ব্যবসায়ী হিসেবে একনামে পরিচিত ইমু।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইমুর রয়েছে টানা (অবৈধ) বাইকের একটি বড় সিন্ডিকেট। সেখানে কয়েকজন পুলিশ কনষ্টেবলও জড়িত বলে জানা গেছে। ওসি প্রদীপ কুমার দাসের সময়ে টেকনাফ থানায় জব্দ হওয়া বেশির ভাগ টানা দামি বাইক গুলো অল্প দামে কিনে নিতেন ইমু। কনষ্টেবল মুন্নার মাধ্যমে বাইক গুলো কিনে কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামে বেশি দামে বিক্রি করতেন তিনি। তবে কক্সবাজার থেকে ইমুর মাধ্যমে চট্টগ্রামে বাইক গুলো কিনে নিতেন হেলাল নামের এক কনষ্টেবল। কনস্টেবল হেলাল ইমুর বাল্যকালের বন্ধু। হেলাল চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় রয়েছে বলে জানা গেছে। কক্সবাজারে আসলে ইমুর কাছ থেকে টানা বাইক কিনেই চট্টগ্রামে যেতেন হেলাল।

ইমুর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ইয়ামাহার এফজেড-এস ও ফ্রেজার মডেলের বাইক বেশি বিক্রি করে ইমু। এফজেডএস এফ১ ভার্সন২ (এসই), এসজেডআরআর ভার্সন২ (এসই), সেল্যুটো ড্রাম, সেল্যুটো ডিস্ক এবং সেল্যুটো ডিস্ক (এসই)। এসব মডেলের টানা বাইকের ব্যবসা করে বিপুল টাকা আয় করেন ফরহাদ খান ইমু। প্রতিদিন তিনি টানা গাড়ি হাত বদল করেন। বেশির ভাগ গাড়ি কিনতেন টেকনাফ থানা থেকে। প্রতিটি গাড়ি থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় তার। টানা গাড়ির ব্যবসার আড়লে তিনি নিজ এলাকা উখিয়ার মরিচ্যা একটি গাড়ির গ্যারেজ গড়ে তুলেন। যে গ্যারেজে চোরাই বাইক ও টানা বাইক গুলোর সরঞ্জাম পাল্টানো হয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ইমুর বড় ভাই ফয়সাল হিরু (২৯) চারবছর আগে ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কুমিল্লায় গ্রেপ্তার হয়েছিল। ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি হিরুও টানা বাইকের ব্যবসা করেন। বর্তমানে তার কাছে টানা বাইক রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে তারা দুই ভাই টানা বাইকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে একটি টিআরএক্স (নোহা) ক্রয় করেছে বলে জানা গেছে।

ইমু বিয়ে করেন কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকা থেকে। বেশির ভাগ সময় ইমু বাহারছড়া এলাকায় থাকেন। বউয়ের বড় ভাইসহ মিলেই টানা বাইকের সিন্ডিকেট করেছে জমজমাটভাবে। একটি ইয়াবা ট্যাবলেটের ঘটনায় মাইনুল হাসান আটক হয়ে কারাগারেও গিয়েছিল। এছাড়া কক্সবাজারের কলাতলী আদর্শ গ্রাম এলাকায় ইমুদের ঘরসহ জমিও রয়েছে। সেখানেও নিয়মিত ইয়াবা সেবন ও বিক্রি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগে ওই ঘরের কেয়ারটেকার জনৈক রাশেদকে ইয়াবাসহ আটক করেছিল পুলিশ।

দীর্ঘদিন দিন প্রকাশ্যে কক্সবাজার শহরে টানা বাইকের ব্যবসা করে আসলেও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রতিদিন তার নিত্যনতুন দামি বাইক ব্যবহারের বিষয়টি নজরেও এনেছিল সদ্য বিদায়ী কক্সবাজারের পুলিশ প্রশাসন।

কক্সবাজার থেকে সদ্য বদলি হওয়া এক ডিবি পুলিশের ইন্সেপেক্টর জানিয়েছিলেন, শহরে কয়েকজন অবৈধ দামি বাইক বিক্রেতার মধ্যে ফরহাদ খান ইমু অন্যতম। একজন কলেজছাত্রের প্রতিদিন দামি বাইক ব্যবহার ও হাত বদলের বিষয়টি বৈধ আয়ে কোনদিনও সম্ভব নয়।

বাইক ক্রয়-বিক্রয়ের কথা স্বীকার করে ফরহাদ খান ইমু বলেন, অবৈধ গাড়ি আমি বিক্রি করি না। আমার পরিবারে অনেক সম্পদ আছে। তাছাড়া গ্রামের বাড়িতে দোকানও রয়েছে। আমার অবৈধ কিছু করতে হয় না। পুলিশ কনষ্টেবলরা তার পরিচিত বলে জানান। অনেক আগে তার ভাই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইয়াবাসহ আটকের বিষয়টি সঠিক জানিয়ে তার পরিবারে কেউ অবৈধ ব্যবসায় নেই বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে পুলিশের পুরো টিম এখন নতুন। হয়ত টানা বাইক সিন্ডিকেট সনাক্ত করতে একটু সময় লাগবে। তারপরও কোনো তথ্য পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো। যেই হোক না কেন আইন বিরোধী কোনো কাজে জড়িত এমন সঠিক তথ্য পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন