• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

সামাজিক কুসংস্কার ও মূর্খতা

নিজস্ব প্রতিদেক / ৬৩৭ বার ভিউ
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

আবদুর রব পারভেজ রবি:

সমাজ সম্পর্কে আমাদের দিনে দিনে ধারণা বদলেছে বেশ। মানুষ হিসেবে আমরা বসবাসের জন্য সমাজ তৈরি করি। আজকাল প্রশ্ন দাড়ায়, সমাজের জন্য মানুষ নাকি মানুষের জন্য সমাজ? আমাদের সমাজের প্রতি যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি সমাজেরও আমাদের প্রতি কর্তব্য রয়েছে।

সমাজ আবার কে? আমি, আপনি আর আমরাইতো। সেজন্য সমাজের কর্তব্য পালন করতে এগিয়ে আসবে আমাদের সমাজের মানুষগুলো একে অপরের জন্য এটাই নিয়ম।
কিন্তু সমাজে কিছু মূর্খ ও কিছু শিক্ষিত লোকের মূর্খ মানসিকতার জন্য আমাদের সমাজকে, দেশকে অনেক খোরপোশ দিতে হয়েছে এবং হচ্ছেও।

যে মূর্খ সেতো মূর্খই, মূর্খামি করে করেই তার জীবন পার হচ্ছে এবং হবেও কারণ নিজেকে নিয়ে আর মূর্খমি করতেই সে ব্যস্ত, তার আবার ভালো মন্দের জ্ঞানইবা কিসের?
আর যে শিক্ষিত অথচ মূর্খ মানসিকতা সম্পূর্ণ, এদের কথা সমাজ আর দেশের মানুষ বেদবাক্য জ্ঞানে বিশ্বাস করে বসে যাচাই বাচাই বাদেই। সমাজে যত কুসংস্কার সব এসকল লোকদের দান।

হাঁচলে কি হয়, কাশলে কি হয়, পেছনে ডাকলে কি হয়, হছট খেলে কি হয়, হাতের তালু চুলকানোর মানে কি, টিকটিকি টিকটিকের অর্থ কি, পেঁচা ডাকলে কি হয়, মুরগী লড়ায়ের কারণ কি, পিঁড়ি পরার রহস্য কি, এচাড়াও অমবর্ষা, পূর্ণিমা, চন্দগ্রহণ, তাবিজ, কবজ, মাদুলি, পাথর ইত্যাদি ইত্যাদি সব বুঝি ওনাদের শােস্ত্র লেখা আছে। তারা তিলাকে তাল করে, এই বাড়ির কথা ওই বাড়ী চড়ায়, মিথ্যে কথায় চেড়া ভেজায়, এ পুকুরের পানি ওই পুকুরে চিটাই, নিজেদের কথার গল্প ফুটায়, মাঝে মাঝে বাণী চিটাই- ‘স্বামীর মৃত্যুতে সারাজীবন ত্যাগ স্বীকারের ভার স্ত্রীর উপর বর্তাবে’ -এসব বাণী ফুটানোর আগে বাণী চিটানোর মত তার সেই ঢালা আছে কি কিংবা কতো ভারি, নিজে কি ক্ষতিয়ে দেখেছে কোন দিন।

মিথ্যা রটানোর জন্য আপনার শত্রুর প্রয়োজন একদমই পড়বে না, সমাজের মানুষগুলো মনে হয় সরকারি ভাবে মিথ্যে রটানোর লিজ নিয়ে নিয়েছে পুরো মাসকে মাস বছরকে বছরের জন্যে।

আপনি খুব ভালো করেই জানেন, তপুর মা খুব সুদর্শনা! কিন্তু, তার ঘরে একটু ফুটফুটে বাচ্চা জন্ম নিয়েছে আজ তবে একটু শ্যামলা হয়েছে বটে। কি সৌভাগ্য তপুর মায়ের মিষ্টি বিলানোর আগেই সমজে কথাটা যেতে না যেতে শুরু হলো তপুর মায়ের ও তাঁর ছেলের গুণকীর্তনের। শুরু হলো- শ্যামলা হয়েছে, অন্যজন- কালো হয়েছে, অন্যজন- কথা টেনে নিয়ে, তপুর মায়ের কুচকুটে কালো ছেলে হয়েছে, অরেকজন- কাকের মত কালো, তারপরের জন বলবে- তপুর মায়ের গর্ভে কাক হয়েছে। এভাবে স্বার্থ বিহীন কথা চওড়া হতে থাকবে- সেই কাক কথাও বলতে পারে। তাকে ঘিরেই পুলিশ এসেছে, বাড়ী ঘেরাও করেছে, তার গায়ের মাংস নিয়েছে। তপুদের বাড়ী লকডাউন দিয়েছে! যে যাবে সে কাক হয়ে যাবে। আর খুব হৈহল্লা জুড়ে সেই বাড়ীর মানুষকে নিয়ে মজা করবে, কটু কথা বলবে, তামাশা করবে এটাই আমাদের সমাজ।

মনে রাখবেন তপুর মায়ের গর্ভে যে কাক হয়েছে। আর যে যাবে তপুদের বাড়ী সেও কাক হবে। কিন্তু সে বাড়ীতে যারা আছে তাদের কি হবে? তাঁদের ভাগ্য নিশ্চয়ই তারা লিখবে না। এখন তাঁরা কি কাক হবে না চিল হবে? সময়…. বলে দেবে। আপাতত তাদের বাড়ীতেই পাড়ি জমাতে হবে!

কি ভাগ্যবান আমরা! আমারা সমাজের মানুষগুলো কেন যে এতোটা মূর্খ হয়ে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করি। কোন কিছু হলে যাচাই বাচাই না করে, চিলে কান নিয়েছে বলে কানে হাত না দিয়ে চিলের পেচনে পেচনে ঘুরি। চিন্তা করে দেখছেন কি বোকামি হচ্ছেনাতো। উল্টে পড়ে চিল আপনাকেও আঘাত করতে পারে, কিংবা তপুর মায়ের মত কাল আপনার বা আরনার স্ত্রী অথবা আপনার মায়ের গর্ভেও কাক হয়েছে বলে সমাজ আপনাকে নিয়েও তামাসা করবে। সমাজে যে যা করে সে তা ফেরত পায়।

আমাদের সমাজগুলো আজ আর সমাজ নেয়, আমরা মনে হয় যেন চিড়িয়াখানায় বন্ধি হয়েছি। পাতি নেতা, মূর্খ আর শিক্ষিত মূর্খ কালিমুদ্দিদের কাছে জব্দ গয়ে আছে আমাদের সংস্কৃতি, প্রথা, ঐতিহ্য, সমাজের রীতিনীতি সৌন্দর্য আর ভারসাম্য।

তবে কি ভালো লোক সমাজে নেই বললেই চলে! না আছে যারা আছে তা কেউ নিপীড়ন, নির্যাতন, তিক্ততার স্বীকার হয়ে বেঁচে আছে আমাদের তৈরী এই জব্দ সমাজের কাছে।
এধনের সামাজিক মূর্খতার কারণে আজ সমাজ দেশ খণ্ডবিখণ্ড। সমাজে এসব কীটের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া জরুরি। কারো কারো আবার বুদ্ধির সাগর বইছে দেখছি। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত বুদ্ধি মূর্খতার আরেক নাম। সামাজে কুসংস্কার রটানো নিতান্তই মূর্খতা। প্রতিটা সমাজ ভালো থাকুক। দূর হোক মূর্খতা, ছড়িয়ে পড়ুক আলো।

লেখক: আবদুর রব পারভেজ রবি- এলএল.বি (অনার্স), এলএল.এম (জবি), পিজি.ডি (ঢাবি)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন