ফরিদ মোহাম্মদ:
আমেনা খাতুন (৭২)। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়েছে। থাকেন শহরের সমিতিপাড়ার একটি কুঁড়ে ঘরে। প্রবল বাতাস আর ঝড়-বৃষ্টিতে সেই ঘরের অস্থিত্ব থাকে না। কোন রকম পলিথিন মোড়িয়ে বসবাসযোগ্য করেছেন।
বিগত ৪ বছর আগে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মৃত্যু হয় আমেনার স্বামীর। এরপর ভরসা ছিলেন একমাত্র ছেলে। এরপর ছেলে সাগরে মাছ ধরে এক বছর বৃদ্ধা মায়ের দেখভাল করেছেন। নিয়তির নির্মম পরিণতি। একটি ঘটনা আমেনার পৃথিবীজুড়ে নেমে আসে অন্ধকারের ঘনঘটা।
ঝড়ের কবলে পড়ে সাগরে প্রাণ হারায় আমেনার আশার আলো ছেলেটাও। তারপর থেকে একা হয়ে যান আমেনা। সংসারের হাল ধরার দুজনই তাকে ছেড়ে পরপারে চলে যায়। এতে বেশ অসহায় হয়ে পড়েন তিনি।
বাঁচার তাগিদে ভিক্ষার পথ বেছে নেন আমেনা। ৭২ বছর বয়সেও এ বাড়ি ও বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করে যা পায় তা দিয়ে পেট চলে তার। ভিক্ষা না করলে জুটে না খাবারও। মাঝে মাঝে অসুস্থ হলে থাকতে হয় অনাহারে-অর্ধাহারে।
আমেনা খাতুন বলেন, ২০১৭ সালে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়েন তার স্বামী ওসমান গণি। পরে সাগর থেকে তার লাশ আসে বাড়িতে। স্বামীর মৃত্যুর এক বছর পর ছেলেও সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণ হারায়।
যার ফলে আয় রোজগার করার মতো কেউ না থাকায় বৃদ্ধ বয়সে ভিক্ষা করে চলতে হচ্ছে। করোনা মহামারীতে আমার পাশে দাড়ায়নি কেউ। ভিক্ষা করেই কোনমতে বেঁচে আছি। দরজায় মৃত্যু কড়া নাড়লেই থামবে এই চির অভিশাপের কষ্টে চলা পথ।