বিশেষ প্রতিবেদক:
বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নি¤œচাপেরর কারণে সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো সাগর মোহনায় রয়েছে। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল।
রোববার (১৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ মিয়া।
এদিকে সতর্ক সংকেত থাকায় কক্সবাজারে অবস্থান করা পর্যটকদের সমুদ্রস্নান কিংবা পানিতে নামার ক্ষেত্রে সর্তক করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সৈকতে পর্যটক সেবায় নিয়োজিত বীর্চ কর্মীরা।
তবে, এর কোনো প্রভাব পড়েনি কক্সবাজার সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের বিচরণে। উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গেই খেলছেন হাজারও পর্যটক। রোববার সকাল থেকে কালো মেঘে ছেয়ে আছে কক্সবাজারের পুরো আকাশ। থেমে থেমে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিও হচ্ছে।
কক্সবাজার সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, সাগরের উত্তাল ঢেউ আঁছড়ে পড়ছে তীরে। তা উপেক্ষা করে কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে উল্লাসে মেতেছেন নানা বয়সী পর্যটক।
পর্যটক সেবায় নিয়োজিত বীর্চ কর্মী মাহাবুবুর রহমান বলেন- উত্তাল সাগরে পর্যটক না নামতে আমরা নিয়মিত মাইকিং করে সতর্ক করে যাচ্ছি। কিন্তু অনেক পর্যটক সতর্ক সংকেত না মেনেই সাগরে গোসল করতে নেমে পড়ে।
লাইফগার্ড কর্মী মো. ইউসুফ বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত পর্যটকদের নিরাপত্তায় সজাগ থাকি। সমুদ্রে ৩ নম্বর সিগন্যাল পড়েছে শুনে আমরাও সতর্ক হই। কোনো পর্যটক যাতে পানির গভীরে না যায় সেদিকে নিয়মিত খেয়াল রাখছি।’
কক্সবাজার জেলা বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ জানিয়েছেন, সাগর উত্থাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলার গুলো উপকূলের মোহনায় নোঙ্গররত অবস্থায় রয়েছে। কিছু কিছু ট্রলার আবার সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। সতর্ক সংকেত কেটে গেলে আবার ট্রলার গুলো মাছ ধরতে সাগরে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরো ঘণীভূত হয়ে নিম্নচাপ আকারে ভারতের উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের অদূরে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জোয়ারের পানিতে কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন হয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় সাগর উত্তালের কারণে পর্যটকদের পানিতে নামতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। পর্যটকদের সচেতনতায় নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।’
এদিকে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, উখিয়া ও টেকনাফ এলাকার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সাগর উত্তাল থাকার পাশাপাশি প্রচন্ড বাতাস থাকায় জোয়ারের পানির স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।