• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

সরকারি পাহাড় বিক্রির ধুম, কর্তন করে বসতি, উজাড় হচ্ছে বনের গাছও

নিজস্ব প্রতিদেক / ৫৯৯ বার ভিউ
আপডেট সময় : বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

আরফাতুল মজিদ

কক্সবাজার শহরের কলাতলী চন্দ্রিমার ঘোনা ও বখতিয়ার ঘোনা এলাকায় এক ধরণের পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতা চলছে। প্রকাশ্যে যেমন চলছে পাহাড় কর্তন, তেমনি বনের ভিতরে গড়ে উঠছে অবৈধ ঘর। এক শ্রেণির ভূমিদস্যুরা এসব সরকারি পাহাড়ি জমি ও বনের জমি এবং বাগান দখল করে নিম্ন আয়ের মানুষদের বিক্রি করছে প্রতিনিয়ত। যার কারণে বনের ভিতরে পাহাড় কেটে গড়ে উঠছে বসতি। সেই সাথে উজাড় হচ্ছে বনের গাছও।

চন্দ্রিমার ঘোনা ও বখতিয়ার ঘোনা এলাকায় ১৫টি স্থানে চলছে পাহাড় কর্তন। একই সাথে ২০টির অধিক জায়গায় পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে ঘর। বনের ভিতরে ভিতরে শতাধিক ঘরও তৈরি হয়েছে গত তিনমাসের মধ্যে। গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়।

চন্দ্রিমার ঘোনার দক্ষিণে মসজিদের দক্ষিণ পাশে ৬ জন শ্রমিক দিয়ে পাহাড় কাটা চলছে। বিশাল উচুঁ পাহাড় কেটে সাবাড় করছে শ্রমিকরা। চারপাশে বাউন্ডারি দিয়ে তোড়জোড়ভাবে চললে পাহাড় কর্তন। সেখানে দালান নির্মাণের প্রস্তুুতিও চলছে। পাহাড় কর্তন করা জমিটি বাহারছড়া এলাকার আবুল হোসেন নামে একব্যক্তির বলে জানা গেছে। একই পাশে সোহেল নামের একব্যক্তিও পাহাড় কেটে নিচু জমি ভরাটের কাজ শেষ করেছে। পাহাড় কেটে বিশাল সমতলেও পরিণত করেছে সোহেল। এখনো কাটা অবস্থায় পাহাড়টি দাঁড়িয়ে আছে।

চন্দ্রিমার ঘোনার পর বখতিয়ার ঘোনা এলাকার অবস্থা আরো ভয়াবহ। সেখানে খন্ড খন্ড করে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ চলছে। প্রায় ১০টির অধিক জায়গায় পাহাড় কেটে ঘর তৈরির কাজ চলছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, যেসব জায়গায় পাহাড় কাটা হচ্ছে আর ঘর তৈরি করা হচ্ছে সব সরকারি জমি। কিছু জমি বন বিভাগের আর কিছু জমি জেলা প্রশাসনের ১ নং খাস খতিয়ানের। সব গুলো পাহাড়। পাহাড় কেটেই নিয়মিত তৈরি হচ্ছে ঘর। মনজুর ও আব্দুল মজিদ নামে দুই ব্যক্তি এসব পাহাড়ি জমি নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে বিক্রি করছে বলে জানা গেছে। গন্ডা প্রতি ১ লাখ থেকে দেড় লাখের মধ্যে এসব সরকারি পাহাড় বিক্রি করে যাচ্ছে তারা দুই ব্যক্তি। ইতিমধ্যে যারা জমি কিনে পাহাড় কেটে ঘর তৈরি করেছে তাদের কাছে স্ট্যাম্পও রয়েছে। স্ট্যাম্পে মনজুর ও আব্দুল মজিদের নাম আছে বিক্রেতা হিসেবে।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দখল করে এসব সরকারি পাহাড় ও বনের জমি তারা বিক্রি করে যাচ্ছে। তাদের বিক্রি করা প্রায় ৭টি জায়গায় বর্তমানে পাহাড় কাটা চলছে। ইতিমধ্যে পাহাড় ও বনের গাছ কেটে তৈরি হয়েছে প্রায় শতাধিক ঘরও। জমি বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে মনজুর বলেন, যেসব জমি বিক্রি করেছি সব আমার ক্রয় করা জমি। কাগজমূলে বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে সরকারি কোনো জমি বা পাহাড় নেই।

স্থানীয়রা আরও জানান, জায়গা বিক্রিতে মনজুরের বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। এরমধ্যে সাবেক কাউন্সিলর সালামত উল্লাহ, নাছির উদ্দিন, মহি উদ্দিন, মোজাম্মেল, জাহাঙ্গীর, আজিজ, হিরু ও সাজুসহ একটি সিন্ডিকেট। তারা সিন্ডিকেট করে এখনো সরকারি পাহাড় বিক্রি করার পায়তাঁরা চালিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের কলাতলী বিট অফিসার সোহেল রানা বলেন, চন্দ্রিমার ঘোনা ও বখতিয়ার ঘোনা এলাকায় কিছু জমি জেলা প্রশাসনের খাস খতিয়ানে আর কিছু বন বিভাগের। বন বিভাগের জমিতে নতুন করে কোন ঘর উঠেনি। তারপরও বিষয় গুলো দেখে শুনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লোকবল সংকটের কথা জানিয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জ অফিসার সমির রঞ্জন সাহা বলেন, আমি এক মাসও হয়নি যোগদান করেছি। এলাকাটি এখনো আমার অজানা। তারপরও পাহাড় ও গাছ কর্তন এবং সরকারি জমি বিক্রির বিষয়টি খুঁজ নিয়ে দ্রুত সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, সেখানে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। ইতিমধ্যে অনেক জায়গা থেকে অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শেখ নাজমুল হুদা ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার সুইটি বলেন, সরকারি পাহাড় দখলকারী ও পাহাড় কর্তনে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। চন্দ্রিমার ঘোনা ও বখতিয়ার ঘোনা এলাকায় যারা পাহাড় কাটছে এবং সরকারি পাহাড় দখল করে বিক্রি ও স্থাপনা করে যাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন