সেলিনা আখতার:
হাজার হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা যারা গ্রহণ করবেন তারা আসলে কতটুকু লস করেছেন হিসাব করা দরকার। মোট কতদিন বন্ধ থাকার কারণে তাদের কতো ক্ষতি হয়েছে। ঠিক একই সাথে তাদের জন্য জনগণের কত ক্ষতি হলো তাও হিসাব হওয়া উচিত বলে মনে করি। তাদের খেয়ালের জন্য একটা দেশ একটা জাতির বিপদগ্রস্ত হতে হয়েছে।
২৫ শে মার্চের আগে পরে গার্মেন্টসের কর্মীরা যে যার মতো ঢাকা ছেড়েছিল। সেটা কোনো স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে হয়নি যা সারা বিশ্ব দেখেছে। মাত্র কদিন যেতে না যেতে তাদের আবার খুবই অমানবিক উপায়ে ফেরত আনা হলো এবং তাৎক্ষণিক আবার ফিরিয়ে দেয়া হলো।
অবাক বিস্ময়ে দেখি, আবারও কয়েকদিন যেতে না যেতে এই দরিদ্র মানুষেরা কাজের জন্য পিপড়ার সারির মতো বড় শহরে ফিরেছে। সব দেখে নিশ্চিত হয়েছি যে, যারা বিত্তের সাথে বসবাস করেন তাদের কল্পনা শক্তি কিছুটা হলেও দুর্বল অথবা তারা তাদের সবল সচেতন চিন্তা শক্তিকে ঘুম পাড়িয়ে টাকা গুনতে ব্যস্ত বেশি। এখন টিভি খুলে খবর দেখতে ইচ্ছে করেনা। যা দেখি তার সাথে একমত হতে পারিনা। রোজ দেখা মৃত্যু গুলো কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। আরো অনেক দেখতে হবে তাও জানি।
মান্যবর শিল্পপতি গণ আপনারা আপনাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজে ঢোকানোর সময়ে হাত পা পরিস্কার করে, তাপমাত্রা আছে কিনা পরিস্কার করে নিচ্ছেন। কিন্তু কাজ শেষে এই শ্রমিকেরা যে বাসস্থানে ফিরে যায় সেখানকার কোনো পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনাদের ধারণা আছে কি? কিভাবে গাদাগাদি করে থাকে? একটা বাথরুম কতজন শেয়ার করে? কোথায় রান্না করে? কিভাবে রাস্তায় গাদাগাদি করে হাটে? জানেন কি? নিশ্চিত আপনাদের ধারণা নাই। একটা রাত তাদের আশ্রয়ে কাটাতে পারবেন? হয়তো করোনা ওই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে যাবেনা, তাই ভেবেছেন।
করোনা প্রকাশের জন্য ১৪ দিন সময় নিতে পারে তবে এই সময়ে নিজে অপ্রকাশিত থেকে হাজার মানুষের শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে। সুতরাং বিষয়টি ভাববেন। হয়তো কারো করোনা হলে প্রতিষ্ঠান লক ডাউন করবেন, কিছু মানুষ কোয়ারান্টাইনে যাবে। কারো প্রান গেলে যাবে। আপনার প্রণোদনার অংক আরো বড়ো হবে।
শুধু বুঝতে পারছিনা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কি হবে?
লেখক: শহীদ পরিবারের সন্তান ও দুদক কর্মকর্তা।