দিনুর আলম:
আগামি এক দশকের মধ্যেই বাংলাদেশের অন্যতম শিল্পবিপ্লব হবে মহেশখালী দ্বীপে। যথার্থ বলতে গেলে বিপ্লব হবে নয় বরং হচ্ছে। মহেশখালী হবে পুরো এশিয়ার অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির অন্যতম প্লট। এই ভবিষ্যদ্বানী কোনো গণকের নয় বরং কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের।
চ্যানেল ২৪ কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, ‘এভাবে প্রসারিত হবে জাপানের বিগ বি ও ইন্দো প্যাসিফিক অর্থনৈতিক ভিশন। আর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যবহার করা হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় পরিবেশ।’ জাপানি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির গেইম চেঞ্জার হবে। একইসাথে আশিয়ানের অর্থনৈতিক হাব হবে বাংলাদেশ।’
‘এটি হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির গেম চেঞ্জার’- এই ‘গেম’ এর মধ্যেই নিহিত আছে আগামির বাংলাদেশ অথবা আগামির মহেশখালী। এই গেম শুধু অর্থনীতির নয় বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়া সহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আরও অনেক দেশের ভূরাজনৈতিক হিসাব নিকাশ বদলে দেবে। নতুন মোড় নিবে ব্লু- ইকোনোমি।
মহেশখালীতে আরও কতিপয় প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার পথে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সরকারি আদেশ কিংবা পরিপত্র হতে জানা যায় মহেশখালীতে যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে সেগুলো হলো-
১. কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড এর ১২০০ মেগা ওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প।
২. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর এল.এন.জি ও কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প।
৩. মাতারবাড়ীতে ৭০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প।
৪. পেকুয়া-ইটমনি-বদরখালী-মহেশখালীস্থ ইউনুছখালী-কোহেলিয়া নদী পাড় হয়ে মাতারবাড়ী সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প।
চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে:
১. কক্সবাজার ফ্রি ট্রেড জোন।
২. মহেশখালী-১ (অর্থনৈতিক অঞ্চল)।
৩. মহেশখালী-২(অর্থনৈতিক অঞ্চল)।
৪. মহেশখালী-৩(অর্থনৈতিক অঞ্চল)।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হলে মহেশখালীর সার্বিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন আসতে বাধ্য। আমি পরিবেশ বিশেষজ্ঞ নই, কাজেই এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে কী পরিমাণ পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি ও বিপর্যয় হবে, তার ঠিকটাক পরিসংখ্যান দাঁড় করানো আমার জন্য কেবল কঠিন নয় অসম্ভবও বটে। কিন্তু চোখের সামনে যা ঘটছে তার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ পরিবেশ পরিস্থিতি কেমন হবে তা ধারণা করার মতো নূন্যতম জ্ঞান আমার আছে।
. এখন থেকেই কোহেলিয়া নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
. লবণ চাষীদের একটি অংশ পেশা হারিয়েছে।
. ইস্টার্ণ রিফাইনারির তেলের ডিপু তৈরি প্রকল্পে সাগর থেকে উত্তর নলবিলা হয়ে পাহাড়ে রাস্তা করার জন্য স্থানীয়দের উচ্ছেদ করা হয়েছে।
. উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য পরিশোধে দালাল এবং আমলার হামলা নিয়ে থানা-কোর্ট হয়েছে এবং হচ্ছে।
এসব মূূলত প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি। চূড়ান্ত ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে প্রকল্পগুলো চালু হওয়ার পর। পরিবেশবাদী সংগঠন এবং দেশের বুদ্ধিজীবীরা এ নিয়ে মুখ খুললেও কথা বলা জারি নেই।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যেখানেই শিল্প বিপ্লব হয়েছে, শিল্পের সম্প্রসারণ হয়েছে সেখানেই পরিবেশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। পরিবেশ তার স্বকীয়তা হারিয়েছে।
ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের কথা কারোই অজানা নয়। উনবিংশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের সময় শিল্প-কারখানার দরুন বায়ুদূষণের কারণে শহুরে মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় আন্দোলনে নামেন যার ফলশ্রুতিতে ১৮৬৩ সালে ‘আলকালাই অ্যাক্ট’ পাস করার মাধ্যমে পরিবেশ আইন চালু করা হয়।
পরিবেশ ধ্বংসকারী কার্যক্রম বা শিল্পায়নের ফলস্বরূপ পৃথিবীব্যাপি এরকম অসংখ্য আইন হয়েছে কিন্তু পরিত্রাণ মিলেনি। উপরন্তু ইদানীং জলবায়ু পরিবর্তনের ফল পৃথিবীবাসী দেখছে।
এখানে পুরো পৃথিবীতে চলমান পরিবেশ বিপর্যয়ের চিত্র হাজির করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে দ্যা গার্ডিয়ানের ভাষ্যমতে, প্রতি মিনিটে ১০ লক্ষ টন বরফ গলছে। এর ফলে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা কী পরিমান বাড়বে তা গবেষণার বিষয়। ভয়ংকর আরো সব তথ্য গার্ডিয়ান প্রকাশ করেছে।
এসব বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার সময় ও সুযোগ কোনোটাই বাংলাদেশের নেই, অন্তত দেশের শিল্পায়নের স্বার্থে। না হয় বেছে বেছে বাংলাদেশের ফুসফুস খ্যাত পাহাড় কিংবা ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের ভেতর এই পরিবেশ বিধ্বংসী প্রকল্প বাস্তবায়ন হতোনা।
কর্তা ব্যক্তিরা বলছে, পরিবেশের ক্ষতি তেমনটা হবেনা। তাদের এই আশ্বাস আমরা বিশ্বাস করবো পৃথিবীজুড়ে শিল্পায়নের এমন ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত নেই। এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবেই। না হওয়ার কোনো কারণ এখনও দৃশ্যমান নয়। কাজেই একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে সরকারের কাছে মহেশখালীতে এই সব প্রকল্প না করার আহ্বান আমি করছিনা। ফলতঃ এই লেখনীর মাধ্যমে কোনো প্রতিবাদ ব্যক্ত করার ব্যর্থ আস্ফালন করার মতো বোকামি না করাই সমুচিত মনে করছি।
সঙ্গত কারনে এখানে আমাকে বলতে হয়
‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো।’
কানা মামা কেনো ভালো?
তার উত্তর পেতে হলে আমাকে বলতে হয় স্থানীয় পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি ও বিপর্যয় ঘটার পর বাকি যা থাকে সেখান থেকে-
.স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ এবং স্থানীয় তরুণদের প্রাপ্য কি বা কতটুকু?
.প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগণের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম থাকবে কী না?
.থাকলে তা কতটুকু কার্যকর হবে?
এডিবির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা খাতে খরচের দিক থেকে বাংলাদেশ এশিয়ার নিচের দিককার পাঁচটি দেশের একটি। বাংলাদেশের পেছনে আছে শুধু মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভুটান ও লাওস। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ২১তম।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদনে এশিয়ার ২৫টি দেশের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে ‘দ্য সোশ্যাল প্রোটেকশন ইন্ডিকেটর ফর এশিয়া: অ্যাসেসিং প্রোগ্রেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ পরিমাণ অর্থ সামাজিক সুরক্ষায় খরচ করে বাংলাদেশ। তালিকার শীর্ষে থাকার জাপান খরচ করে জিডিপির ২১ শতাংশের বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষা খাতে খরচ করে জিডিপির ১.২ শতাংশ। বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের গগনচুম্বী দুর্নীতি যদি এই খাতে হয়ে থাকে তাহলে প্রকৃত ব্যয় জিডিপির . ৫০ শতাংশ হওয়াটাই যৌক্তিক।
এখান থেকে অনুমান করা যায় একটি দ্বীপের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম কতটুকু বিদ্যমান। কাজেই উন্নয়ন প্রকল্পের কারনে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া স্থানীয়দের সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী নিশ্চিত করতে হবে।
আপনারা বলবেন এসব ভবিষ্যতের বিষয়। হ্যাঁ, আমিও বলছি ভবিষ্যতের বিষয়। তবে সুদূর নয় অদূর ভবিষ্যতের।
. স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্পে তৈরি হওয়া কর্মসংস্থানে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারবে কী না?
. নিজেদেরকে কীভাবে, কোন উপায়ে গড়ে তোলবে তারা?
.কোন ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তারা নিজেদের শিক্ষিত করবে?
এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার প্রকৃত সময় মূলত এখনই।
এই বিষয় নিয়ে স্থানীয় জনগণ এবং সরকার উভয়েরই মাথা ব্যথা করার দরকার আছে এবং তা করতে হবে এখন থেকেই। সরকারের ধারণা মতে এসব প্রকল্পে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এই কর্মসংস্থান সমূহে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ সম্পর্কে আমরা আমাদের নিকট এবং দূরবর্তী অতীতের উদাহরণ সমূহ আমলে নিতে পারি।
রোহিঙ্গা সংকটের কারণে তৈরি হওয়া কর্মসংস্থানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাকরির সংকট থেকেও আমরা শিক্ষা নিতে পারি। এই অঞ্চলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় জেলা শহরের কলেজগুলোতে সীমিত পরিসরে, স্বল্প বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স পড়ানো হয়।ৎ
*কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের নামমাত্র গবেষণাপত্র তৈরি করতে দেওয়া হয়।
*সারা বছর ক্লাস না করে জরিমানা দিয়ে কোনোমতে পরীক্ষায় বসে পাশ করে একটা সনদ নিয়ে বের হয়।
*ফলে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আর এই আমার মতো কলেজে অনার্স-মাস্টার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মাঝে বিরাট পার্থক্য তৈরি হয়।
এর জন্য যেমন দায়ী কর্তৃপক্ষ তেমনি দায়ী শিক্ষার্থীরা। অনার্স-মাস্টার্স শেষ করার পর ওই কাগুজে সনদ নিয়ে শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসতে পারলেও উতরে উঠতে পারছেনা। উপরন্তু আমাদের অনেকের বেসিক লেভেল ও তৈরি হয়না। ফলে দিনশেষে আমরা একেকজন নামেমাত্র শিক্ষিত হিসেবে পরিগণিত হই।
রোহিঙ্গা সংকটের কারণে তৈরি হওয়া কর্মক্ষেত্র গুলোতে মূলত কতিপয় সাধারণ ক্যাটাগরি ছাড়া টেকনিক্যাল এবং প্রফেশনাল ক্যাটাগরিতে স্থানীয়দের চাকরি হওয়ার আদৌ সুযোগ ছিলনা এবং নেই। এটাই স্থানীয়দের জন্য তিক্ত সত্য।
প্রমা ইসরাতকে আমরা তাড়িয়েছি কিংবা আমাদের তোপের মুখে সে কক্সবাজার ছেড়েছে। প্রাথমিকভাবে তার অপরাধ ছিল সে স্থানীয়দের নিয়ে একটি গড়পড়তা মন্তব্য করেছিল যেটা সবার গায়ে লেগেছিল। প্রমা ইসরাত যাওয়ার পর আমাদের অনেকের বোধদয় হয়েছে, আসলে আমরা নিজেদের কতটুকু চৌকস করতে পেরেছি।
কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে আমরা ভালো ক্যাটাগরির চাকরি গুলো পাবো? চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষত্ব কী? উত্তর খোঁজে পাওয়া কঠিন নয় কিন্তু মেনে নেওয়ার মানসিকতা না থাকাটাই সমস্যা।
আমি যখন এসিএফ এ চাকরি করতাম (২০১৮ সালে) তখন ওই সংস্থারই মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কলিগ আমাকে বলেছিলেন, ‘আপনাদের এখানে তো মনোবিজ্ঞান সাবজেক্ট টি নাই, যার কারনে স্থানীয়রা মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেনা। প্রায় প্রতিটি সংস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগে কম-বেশী লোক নেওয়া হয়। কক্সবাজার সরকারি কলেজে যদি মনোবিজ্ঞান সাবজেক্টটি আনা যায় তাহলে ভবিষ্যতে হলেও এই অঞ্চলের চাকরি প্রার্থীদের কর্মসংস্থান হবে আশা করি’। নানা কারনে এই সাবজেক্ট আনার বিষয়ে আমি কলেজ প্রশাসনের সাথে আলাপ করিনি আর।
এরকম কর্মসংস্থান সম্পর্কিত বহু সাবজেক্ট কক্সবাজারে নেই। যার কারনে স্থানীয়রা ওই সব বিষয়ভিত্তিক চাকরি থেকে বঞ্চিত।
কক্সবাজারের কলেজগুলো চাইলে এরকম টেকনিক্যাল সাবজেক্ট গুলো আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। তারমানে এই নয় যে, আমি শিক্ষার বাজারিকরণের কথা বলছি। স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিচার-বিশ্লেষণ করে, স্থানীয়দের স্বার্থে বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করার কথা বলছি আমি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাট চুকিয়ে যে যার ইচ্ছেমতো পেশায় যাবে এটাই স্বাভাবিক।
রোহিঙ্গা সংকট ছিল সবার জন্য অনাকাঙ্খিত এবং পূর্ব নির্ধারিত নয় এমন একটি ঘটনা। কাজেই স্থানীয়রা আগে থেকেই ওই সেক্টরে চাকরি পাওয়ার উপযুক্ত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বা প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু মহেশখালীর এই প্রকল্পগুলোর কাজ যখন থেকে শুরু হয়েছে বা হবে তখন থেকেই স্থানীয় জনগণের স্বার্থ এবং কর্মসংস্থান বিষয় নিয়ে ভাবা দরকার ছিল এবং আছে।
যেহেতু প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে টেকনিক্যাল ক্যাটাগরিতেই অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে সেহেতু স্থানীয় তরুণদের বা শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই কাজটি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য খুব একটা সহজ নয়।
স্থানীয় জনসাধারণ মহেশখালীতে একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য সরকারকে দাবি দিতে পারে। স্থানীয়দের দাবি দেওয়াটা ফরযও নয় আবার। জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর যৌক্তিক স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য এই দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরতে পারেন।
জনগণ কিংবা জনপ্রতিনিধি কেউ এই দাবি না করলেও এখানে খোদ সরকারেই স্থানীয়দের স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। লক্ষাধিক কোটি টাকা যেখানে ব্যয় করা হবে সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা কেবল সদিচ্ছার বিষয়, এর বেশী কিছু নয়। নাহয় স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড যে হবেনা সে আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায়না।
এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে কেবল কক্সবাজারের স্থানীয়দের জন্য অথবা সিংহভাগ আসন তাদের জন্য। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এই অনুপাত অনুসরণ করা যৌক্তিক।
২০২৪ সালে বন্দরের কাজ শেষ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। সবগুলো প্রকল্পের কাজ শেষ হতে দশ বছর লাগতে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।
এরকম আরও বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ঝামেলা এড়ানো এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে। এতে করে সরকার ভবিষ্যতে স্থানীয় গণ অসন্তোষ এবং ঝামেলা থেকে রেহাই পাবে। আর স্থানীয়রা বলতে পারবে ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো।’
কাজেই আগামির শিল্পসমৃদ্ধ মহেশখালীতে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে হলে, নিজেদের স্বার্থ আদায় করতে হলে এখন থেকেই স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম এবং জনসাধারণকে প্রস্তুতি নিতে হবে, কথা বলতে হবে, দাবি দিতে হবে।
লালনের গানে বার্তা আছে-
‘দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
তুমি কেন জানলে না
সময় গেলে সাধন হবে না।’
লেখক: শিক্ষার্থী, কক্সবাজার আইন কলেজ।