বিশ্ব পর্যটন দিবসকে উপলক্ষে করে জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে সপ্তাহজুড়ে উৎসব। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে সমুদ্রসৈকতের লাবনী পয়েন্টে। আর আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর রয়েছে টানা ৩ দিনের ছুটি। তাই এবার লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটবে এমন আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
এদিকে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। পর্যটনে পরিবেশ বান্ধব বিনিয়োগ এ প্রতিপাদে দিবসটি উপলক্ষ্যে কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে ৭ দিনের পর্যটন মেলা ও বীচ কার্নিভাল।
সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান মেলার সার্বিক প্রস্তুুতি পরিদর্শন করেন।
এসময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, পর্যটন মেলায় থাকছে ৭ দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজন। ২৭ তারিখ সকাল ৯ টায় র্যালীর মাধ্যমে উদ্বোধন হবে মেলার। মেলায় বীচ বাইক, সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে সার্কাস, নৌ-র্যালী, বীচ ভলিবল, বীচ ম্যারাথন, বীচ ভলিবল, জেটস্কি সার্ফিং ডিজে ও ফায়ার স্পিনিং শো, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ঘুড়ি উৎসব থাকবে মেলায়।
জেলা প্রশাসক জানান, মেলা উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার বালু ভাস্কর্য নির্মান করা হচ্ছে। সেই সাথে জাতীয় ও স্থানীয় শিল্পী সংগীত পরিবেশন করবে মেলা মঞ্চে। অন্যদিকে ব্যান্ডদল চিরকুট, সোনার বাংলা সার্কাস ও আভাসের কনসার্টে থাকছে মেলায়।
মেলায় বিদেশী নাগরিকদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
মেলা উপলক্ষে হোটেল রেস্তোরাঁ, বাস বিমানের টিকেটসহ ১৫ পর্যায়ে বিশেষ ছাড় থাকছে বলে তিনি জানান। পবিত্র আশুরা ২৮ সেপ্টেম্বর কেবল এদিন কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে না আর বাকী দিন সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে বলে এসময় জানানো হয়। ৩ অক্টোবর শেষ হবে এ মেলা।
এরই মধ্যে আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৩ দিনের ছুটিতে শতভাগ বুকিং হয়েছে বলে জানিয়েছে তারকামানের হোটেলগুলো।
হোটেল সী-গালের ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ রাব্বী বলেন, টানা ছুটি ও সপ্তাহব্যাপি মেলা ও বীচ কার্নিভালকে কেন্দ্র করে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে হোটেলকে। টানা ৩দিনের ছুটিতে হোটেল শতভাগ রুম বুকিং হয়েছে। আশা করি, পর্যটকরা যেমন আনন্দ পাবে ঠিক তেমনি ভাল ব্যবসাও হবে।
হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের ফ্রন্ট অফিসার একে রানা বলেন, পর্যটন মেলা ও বীচ কার্নিভাল উপলক্ষে ছাড় দেয়ায় টানা ৩দিনের ছুটিতে সব রুম বুকিং হয়েছে। এখন পর্যটকরা আসলে তাদের স্বাগত জানাব।
প্রশাসন বলছে, উৎসবে ভিন্নতা আনতে আয়োজনে আনা হচ্ছে নতুন মাত্রা। তৈরি হয়েছে নতুন নতুন স্পট। যা সাজানো হয়েছে রঙ্গিন ছাতায়। একই সঙ্গে সৈকতের বালুকাবেলায় তৈরি হচ্ছে বালু ভাস্কর্য।
ভাস্কর্য শিল্পী শেখ রাসেল বলেন, সৈকতের লাবণী পয়েন্টে দুটি বালু ভাস্কর্য নির্মিত হবে। একটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অপরটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আশা করি, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ শেষ হবে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, সাত দিনব্যাপী চলা এই পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভালে কক্সবাজারসহ দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। বিশ্ববাসীর সামনে কক্সবাজারকে উপস্থাপন করতেই এ মেলার আয়োজন। আশা করি, এ আয়োজনে উৎসবের নগরীতে পরিণত হবে পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিললুর রহমান বলেন, পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সৈকতে কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম আশা করা হচ্ছে। সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কয়েক স্তরের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।