• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

মহামারী নিয়ে আদিবাসী ভাবনা

নিজস্ব প্রতিদেক / ৩০৮ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ৩০ মে, ২০২০

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কয়েকশ বছর ধরেই আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো পৃথিবীর মানুষকে বন-জঙ্গল উজাড় করা নিয়ে সতর্ক করে আসছে। এভাবে বন ধ্বংস করলে শুধু রোগ-বালাই ছড়ায় না, জীবন ও সংস্কৃতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। করোনা মহামারীর কালে আদিবাসীদের সেইসব সতর্কবাণী এখন পৃথিবীকে নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এক আদিবাসী নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন পরিবেশবাদী সাংবাদিক র‌্যাচেল নুয়ার। বিবিসিতে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন অবলম্বনে পরাগ মাঝি

নভেল করোনা সুদূরে নয়

চীনের উহানে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবরটি ল্যাভি সুক্রে রোমেরোর কানে আসে জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে। এখন তার বক্তব্য হলো ‘আমি কখনো ভাবিনি এটি এত কাছে চলে আসবে। ভেবেছিলাম ভাইরাসটি দূরেই থেকে যাবে।’

ব্রিব্রি জনগোষ্ঠীর একজন নেতৃস্থানীয় সদস্য রোমেরো। কোস্টারিকার বড় আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এই সম্প্রদায়টি অন্যতম। ব্রিব্রি সম্প্রদায়ের নেতা রোমেরোর বসবাস কোস্টারিকার প্রত্যন্ত তালামানকা অঞ্চলে। কোস্টারিকার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এই এলাকাটি মূলত পাহাড়-পর্বতে ঘেরা। ঘন জঙ্গল আর আঁকাবাঁকা খরস্রোতা নদী এই এলাকাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য। সারা বছর এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাতও হয়। খড়ের ছাউনি আর কাঠের অবকাঠামো দিয়ে বাড়ি বানায় তালামানকার ব্রিব্রি গোষ্ঠীর মানুষেরা। এখানকার মানুষের জীবনাচরণ ও জীববৈচিত্র্য দেখতে প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটকও ভিড় করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন শিল্প থেকে হঠাৎ করেই এলাকাটিতে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলে রোমেরোর বুঝতে বাকি থাকে না যে, করোনাভাইরাস দোরগোড়ায় চলে এসেছে। তার বিশ্বাস, লোভের বশবর্তী হয়ে পৃথিবীর ওপর মানুষের অত্যাচারের জন্যই এই ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটেছে। তার ভাষায়, ‘আমরা বন্য জীবজন্তুর বাস্তুসংস্থানকে ভারসাম্যহীন করে দিচ্ছি প্রতিনিয়ত, গাছপালা কেটে ফেলছি নির্বিচার, এক ফসলি জমির ওপর নির্ভর করছি, দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছি পিচঢালা রাস্তা, নির্মাণ করছি শহর, আর বিভিন্ন রাসায়নিকের যত্রতত্র ব্যবহার করে বেড়াচ্ছি।’ রোমেরোর মতে, এগুলো মানুষের মন্দ অভ্যাস।

জুনোটিক রোগবালাই ও মন্দ শক্তি

সার্স ও মার্স ভাইরাসের মতো কভিড-১৯ ভাইরাসটিও জুনোটিক। অর্থাৎ এই রোগটি কোনো প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে। বিভিন্ন তথ্য ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই ধারণাটি জোরালো হয়েছে যে, ভাইরাসটির প্রথম বাহক ছিল বাদুড়। পরে তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সরাসরি বাদুড় থেকে নয়, বরং বাদুড় থেকে প্যাঙ্গোলিন নামে আরেকটি প্রাণীর শরীর হয়ে চীনের উহানে অবস্থিত সামুদ্রিক মাছের বাজার থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে ভাইরাসটি। এসব তথ্য নিয়ে বর্তমানে নানা মতপার্থক্য থাকলেও নিরন্তর গবেষণায় দেখা গেছে যে, বনজঙ্গল ধ্বংস ও বন্যপ্রাণীর কেনাবেচা জুনোটিক রোগগুলোর সম্ভাবনাকে প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ধরনের রোগবালাই পৃথিবীতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আদিবাসী নেতা রোমেরো বলেন, ‘এই দুটি কাজের জন্য একমাত্র মানুষই দায়ী। এসবের মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি।’

রোমেরো যে সম্প্রদায়ের সদস্য অর্থাৎ ব্রিব্রি সম্প্রদায়ের মানুষেরা বিশ্বাস করেন, তাদের ঈশ্বর হলেন সিবোঁ। তিনিই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। জগতের সব মন্দ শক্তিগুলোকে তিনি বন্দি করে রেখেছেন। রোমেরো বলেন, ‘আমরা যদি প্রকৃতিকে যথাযথ সম্মান না জানাই এবং সহাবস্থান না করি তবে ওই মন্দ শক্তিগুলো বের হয়ে আসে।’

এটাই শেষ মহামারী নয়

আদিবাসী নেতা রোমেরো উত্তর আমেরিকার সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ‘মেসোআমেরিকান অ্যালায়েন্স অব পিপল অ্যান্ড ফরেস্টস’ সংগঠনটিতে সমন্বয়কের ভূমিকায় আছেন। মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর আদিবাসীদের ভূমিরক্ষা আন্দোলনের অন্যতম প্রচার মাধ্যম এই সংগঠন। অন্তত ৫০ হাজার মানুষের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে এটি। আদিবাসী এসব মানুষের বসবাস মূলত ঘন গহিন বন-জঙ্গল পরিবেষ্টিত অঞ্চলগুলোতে।

রোমেরো মনে করেন, পৃথিবীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়েই মানুষ একটি টেকসই সমাজব্যবস্থা ও সম্মানজনক জীবন উপভোগ করতে পারে। তার সম্প্রদায় ব্রিব্রি ছাড়াও আরও অসংখ্য আদিবাসী গোষ্ঠী এই সত্যটিকে তাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে।

গত কয়েক বছর ধরেই রোমেরোসহ অন্যান্য আদিবাসী নেতা বাকি দুনিয়ার প্রতি সতর্কতা উচ্চারণ করে আদিবাসীদের মতো প্রকৃতি ঘনিষ্ঠ হয়ে জীবনযাপনের অনুরোধ করছেন। এক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্যের বাস্তুসংস্থানকে অক্ষত রাখাসহ, টেকসই পর্যায়ে গাছপালা ও পশু-পাখি সংগ্রহ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরামর্শ দেন তারা। বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর অতীতের সেসব কথাই আবারও পুনরাবৃত্তি করছেন আদিবাসী নেতারা। তাদের মতে- ঐতিহ্যগত জ্ঞান, জীবনাচরণ এবং ভূমির অধিকার দেওয়ার মাধ্যমে এই গ্রহকে রক্ষা করা সম্ভব। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানো বা জীববৈচিত্র্য রক্ষাই শুধু নয়, বরং ভবিষ্যতের মহামারী ঝুঁকি কমাতেও এ ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। আদিবাসী নেতারা দাবি করছেন, বর্তমান মহামারীও বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎসের ভুল ব্যবহার ও ভুল জীবনাচরণের জন্য হয়েছে। এক সতর্ক বার্তায় রোমেরো বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের মহামারী এটাই পৃথিবীতে শেষ নয়।’

গবেষণা কী বলছে

আদিবাসীদের দাবি শুধু নয়, অসংখ্য গবেষণায়ও এ ধরনের মহামারী কিংবা রোগবালাইয়ের সঙ্গে পরিবেশবিধ্বংসী কার্যকলাপের সংযোগ পাওয়া গেছে। প্রাকৃতিকভাবেই বিভিন্ন জীবজন্তুর শরীরে নানাবিধ ভাইরাসের অনুপ্রবেশ ঘটে। কিন্তু বন-জঙ্গল উজাড় করার ফলে ভাইরাসআক্রান্ত প্রাণীদের সঙ্গে মানুষের অহরহই যোগাযোগ ঘটে যাচ্ছে। ফলে নতুন নতুন ভাইরাস মানব সভ্যতায় ছড়িয়ে পড়ছে।

২০১৭ সালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, জীববন্তুর শরীর থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাস অনুপ্রবেশের ঘটনা উষ্ণম-লীয় বনভূমি অঞ্চলগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ঘটে। এসব অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশও খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বন-জঙ্গল উজাড় করে নির্মিত হচ্ছে বাসস্থান, খনিজসম্পদ আহরণের জন্য চলছে খননকাজ, পানির প্রাকৃতিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে নির্মাণ করা হচ্ছে বড় বড় বাঁধ, রাস্তাঘাট ইত্যাদি। গবেষকরা দাবি করেন, এ ধরনের কার্যক্রম রোগবালাইয়ের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তুলছে। কারণ এর মাধ্যমে পরিবেশের স্বাভাবিক গতি নষ্ট হচ্ছে এবং মানুষ ও বন্য জীবজন্তুর মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত যোগাযোগ ঘটছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী এরিন মোরদেকাই বলেন, ‘ভাইরাস বহন করছে এমন বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে এখন অহরহই মুখোমুখি হয়ে যাচ্ছে মানুষ। অথচ বসবাসের বিচারে এই দুই প্রজাতির মধ্যে দেখা হয়ে যাওয়াটা অনাকাক্সিক্ষত।’

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বন-জঙ্গল উজাড় করার ফলে ইতিপূর্বে যেসব রোগ পৃথিবীতে দেখা গেছে সে সবেরও উপদ্রব বেড়েছে। মোরদেকাইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ব্রাজিলে ব্যাপক হারে বন ধ্বংস করার ফলে দেশটিতে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির কিছু এলাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে ছয় জনেরও বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। মোরদেকাইয়ের মতে, বেশি বেশি গাছ কাটার ফলে নতুন নতুন বনের কিনারা সৃষ্টি হচ্ছে। এইসব বনের কিনারা ম্যালেরিয়াবাহী মশার প্রজননের জন্য উৎকৃষ্ট স্থান। দেখা গেছে, ব্রাজিলের অন্যান্য অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ না থাকলেও যেসব অঞ্চলে বন-জঙ্গল ধ্বংস করা হচ্ছে সেখানেই রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে। মোরদেকাই বলেন, ‘বন উজাড় করার ফলে যেসব জীবজন্তু মানুষের সংস্পর্শে আসার কথা নয় সেগুলোর সঙ্গে প্রায়ই মানব সভ্যতার সংযোগ ঘটছে। এতে নতুন নতুন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, বৈধ কিংবা অবৈধ দুই উপায়েই জীববৈচিত্র্যের বাণিজ্য নতুন রোগ সৃষ্টির সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলছে। বন থেকে যেসব প্রাণীকে ধরা হচ্ছে তারা অনাহূত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে মারাত্মক সব ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। আর বন্যপ্রাণীদের কেনা-বেচা শহরাঞ্চলেই বেশি হয়ে থাকে, যেখানে এক সঙ্গে অসংখ্য  মানুষ বসবাস করে। ফলে জীবজন্তুর কাছ থেকে কোনো মানুষের শরীরে একটি ভাইরাস প্রবেশ করলে সহজেই তা অসংখ্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

বন্যপ্রাণী কেনা-বেচার সঙ্গে বন-জঙ্গল উজাড় করার গভীর সংযোগ রয়েছে। শিকারি ও চোরাকারবারিরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাতায়াত করছে। ফলে নতুন নতুন রাস্তা ও পরিবহনের সূত্রপাত হচ্ছে। আর এটি করতে বিপুল পরিমাণ বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংরক্ষণবাদীরা কয়েক দশক ধরেই স্বাস্থ্য ঝুঁকির অন্যতম কারণ হিসেবে বন্যপ্রাণী কেনা-বেচাকে দায়ী করে আসছেন। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর চীনে বন্যপ্রাণী কেনা-বেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার কারণে এক বছর দেশটিতে এই বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা আবারও শুরু হয়ে যায়।

ক্ষতিকর উন্নয়ন মডেল

বলা হচ্ছে, মহামারী যেন বন থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য প্রহরীর ভূমিকায় থাকে আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো। উষ্ণমণ্ডলীয় বনাঞ্চলগুলোতে অসংখ্য আদিবাসী গোষ্ঠী বসবাস করে। ফলে নতুন রোগবালাই আত্মপ্রকাশ করলে তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখোমুখি হয়।

বন-জঙ্গল ধ্বংস করার ফলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় আদিবাসীরা। উষ্ণমণ্ডলীয় বনাঞ্চল ধ্বংসের হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। পৃথিবীতে প্রতি বছর যে পরিমাণ বনভূমি ধ্বংস হয় তার ৯০ ভাগই হয় উষ্ণমণ্ডলীয় বনাঞ্চলগুলোতে। এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে কিছু আদিবাসী মানুষ জড়িত থাকলেও বনভূমি রক্ষায় অন্যান্য আদিবাসীরা অনেক বেশি সক্রিয়। কোস্টারিকার ব্রিব্রি সম্প্রদায়ের কথাই ধরা যাক। এই সম্প্রদায়ের মানুষেরা সাধারণত পরিবার ও সমাজ এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে বসবাস করে। টেকসই সমাজ ব্যবস্থার জন্য তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কিছু নিয়মনীতি গড়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ- এই গোষ্ঠীর মানুষেরা তাদের বাড়ি কিংবা অন্যান্য কাজের জন্য স্থানীয় এক প্রজাতির পাম গাছের পাতা ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে তারা যখন কোনো একটি গাছের ডাল কাটে তখন সেই গাছের অন্তত পাঁচটি ডাল তারা অক্ষত রাখে। এতে গাছটিতে নতুন আরও ডাল গজাতে সহায়ক হয়। অসংখ্য আদিবাসী রয়েছে যারা রাতারাতি ধনী হয়ে যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে বনকে ব্যবহার করে না।

আদিবাসী নেতা রোমেরোর মতে, অস্বাভাবিক বিশ্বায়ন এবং খাদ্যাভ্যাস রুগ্ণ পৃথিবীর অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস ধ্বংস করে উন্নয়নের মডেল নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবা উচিত। এ ধরনের উন্নয়ন কা- পৃথিবীর স্থায়িত্বকে নড়বড়ে করে দেয়।’

মুনাফালোভী বিভিন্ন কোম্পানি, সরকার কিংবা ব্যক্তিবিশেষ এ ধরনের হুমকিকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তোয়াক্কা করে না। বিশ্বজুড়েই আদিবাসীদের ভূমি অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নতুন কৃষিজমি সৃষ্টি, খনিজসম্পদ আহরণ ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের মধ্য দিয়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ৫০টি দেশে অন্তত ১৫০০ পরিবেশ সংরক্ষণবাদী হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন। এই তালিকায় অন্য যে কোনো গোষ্ঠীর চেয়ে আদিবাসীদের নামই বেশি। ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে যত পরিবেশ সংরক্ষণবাদীকে হত্যা করা হয়েছে তার ৪০ ভাগই ছিলেন আদিবাসী। ২০২০ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ব্রাজিলে যে পরিবারগুলো ভূমি বিরোধের সম্মুখীন হয়েছে তার এক-তৃতীয়াংশই ছিল আদিবাসী। এসব ক্ষেত্রে আদিবাসীদের জন্য বাড়তি হুমকি হলো তাদের প্রতি বৈষম্য ও দেশের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করার মনোভাব। অনেক সময় এ ধরনের বৈষম্য সরকার যন্ত্রের মাধ্যমেই করা হয়ে থাকে। সম্প্রতি এক বক্তব্যে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারো তার দেশের আদিবাসীদের ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমাদের মতো মানুষ হিসেবে বিকশিত হচ্ছে তারা।’

রোমেরোর মতে, আদিবাসী অধিকার খর্ব করার অর্থ একটি আলাদা সংস্কৃতিকে আক্রমণ করাই শুধু নয়, একই সঙ্গে এই গ্রহকে ক্ষতিগ্রস্ত করাও। রোমেরো বলেন, ‘বনের ওপর আমাদের অধিকার মানে হলো আমাদের অস্তিত্বের অধিকার। আর এই অধিকার কিছু মাত্রায় মহামারীকে প্রতিরোধ করতেও সক্ষম।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন