বিশেষ প্রতিবেদক:
বৈরি আবহাওয়ায়ও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের ভীড় জমেছে। জন্মঅষ্টমীসহ টানা তিনদিনের ছুটিতে অবকাশ যাপনে লাখ লাখ পর্যটক ছুটে এসেছে দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস-রেস্ট হাউস গুলোর প্রায় ৫০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, গত কয়েকদিনের বিরূপ আবহাওয়া ও লঘুচাপের কারণে লন্ড ভন্ড হয়ে যায় কক্সবাজার সৈকতের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা। সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলীর ডলফিন মোড় পর্যন্ত সৈকত এলাকায় বড় বড় ঢেউয়ের তোড়ে বিভিন্ন এলাকার বালু সরে যাচ্ছে। এতে ভাঙন দেখা দিয়েছে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে। ভাঙনের কারণে সৌন্দর্য হারাচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। তাও কিন্তু সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা কোনভাবেই কম হয়নি। সৈকতের ভাঙা অংশে দাড়িয়েও পর্যটকরা উপভোগ করছেন কক্সবাজারের সৌন্দর্য।
বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম বলেন, শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে অনেক পর্যটক হয়েছে। এতো বিরূপ আবহাওয়ায়ও এভাবে পর্যটক বেড়ে যাবে তা কল্পনাও করিনি। সকাল থেকে সৈকতের ৩-৪টি পয়েন্ট থেকে পর্যটকরা নামছেন। কেউ কেউ দলবদ্ধ হয়ে সৈকতে নামছেন, কেউ ঘোড়ায় চড়ে মজা করছেন, ছবি তোলছেন, আবার কোনো কোনো মা-বাবা বাচ্চাদের নিয়ে পানির কাছে মাটির ঘর বানিয়ে আনন্দে মেতেছেন। তাদের সচেতন করতে আমরা মাঠে রয়েছি। মাইকিংয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সচেতনতার ব্যাপারে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সী সেইফ লাইফ গার্ডের সদস্য মো. ইউসুফ জানান, আমরা ওয়াচ টাওয়ার থেকে পানিতে নামা পর্যটকদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখছি। কেউ যেন গভীর পানিতে না নামেন সে বিষয়ে সজাগ করা হচ্ছে। নিজেরা পানিতে গিয়ে তাদের সচেতন করছি। আর দূরে অবস্থান করা পর্যটকদের বাঁশি দিয়ে অ্যালার্ট করছি।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি দিদার বলেন, এবার জন্মঅষ্টমীর ছুটিতে আমাদের ইচ্ছে ছিল কক্সবাজার ঘুরতে আসবো। সরকারি চাকুরির কারণে তেমন একটা ছুটিও পাওয়া যায় না। তাই ছুটি পাওয়ার সাথে সাথেই চলে এলাম প্রিয় কক্সবাজারে। এখানে খাবারের দাম ও হোটেলের রুম ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে আছে বলে মনে হলো। যা গত বছরের তুলনায় অনেকটা কম।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, কক্সবাজারে এই মুহুর্তে হালকা বৃষ্টি হলেও গত বৃহস্পতিবার থেকে পর্যটক এসেছে। শুক্র ও শনি যথারীতি পর্যটক থাকে। তবে লোডশেডিংয়ের কারণে পর্যটক ও হোটেল মালিকপক্ষ চরম সমস্যায় রয়েছে। সামনে এরকম হলে হোটেল মালিকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, টানা ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটক উপস্থিতি বাড়ায় বিভিন্ন স্পটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ টিমও কাজ করছে। তাই পর্যটকরা নিরাপদে কক্সবাজার ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটকরা যেন স্বাচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে পারেন সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ সবসময় মাঠে আছে। এছাড়া পর্যটন স্পটগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকধারী টিমসহ কয়েকটি টিমে কাজ করছে।