• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

প্লাস্টিক দূষণ! ৭০০ কোটি মানুষের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করবো না নিঃস্ব

নিজস্ব প্রতিদেক / ৫৫৮ বার ভিউ
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০

জান্নাতুল মাওয়া:

আমাদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ। বর্তমান সময়ে বিশ্ববাসীর সামনে অন্যতম একটা চ্যালেঞ্জ হলো এই প্লাস্টিক। আজকে আমার মাথায় একটা বিষয় বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে যে,পরিবেশ দূষণ নিয়ে/ প্লাস্টিক দূষণ প্রতিবেদন। তাই লিখতে বসলাম।আমরা কি পারি না আমদের পরিবেশ টাকে বাচাতে।

‘৭০০ কোটি মানুষের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করি না নিঃস্ব’—স্লোগান সামনে রেখে এ বছরের পরিবেশ দিবস পালিত হয়। সম্পদের ভোগ ও উপভোগ যাতে পৃথিবীর প্রাণশক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং প্রকৃতিকে বিরূপ করে না তোলে, সে জন্য পৃথিবীবাসীকে সচেতন করতে হবে।

প্লাস্টিক দূষণ (plastic pollution)

প্লাস্টিক দূষণ হলো পরিবেশ কর্তৃক প্লাস্টিক পদার্থ যা পরবর্তীতে বন্যপ্রাণ ও মানবজাতীর ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে৷

আমরা আজকের দিনে তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে সবকিছুই আমাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু তারপরও কিছু অমীমাংসিত সমস্যার সম্মুখীন হয়ে চলছি, যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে আমাদের থমকে যেতে হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্বের বড় বড় নেতৃবৃন্দ আজ পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবাই একসাথে হাত মেলাচ্ছেন। আর সেই প্রধান সমস্যা হলো “জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা”।এসব যতটা না প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট তার থেকেও বেশি মানুষ করছে।

নিয়মিত প্লাস্টিক পদার্থের ব্যবহার প্লাস্টিক দূষণের মাত্রাকে অতিরিক্ত বাড়িয়ে তুলছে৷ পলিথিন ব্যাগ, কসমেটিক প্লাস্টিক, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যের বেশিরভাগই পুনঃব্যাবহার হয় না৷ এসব পরিবেশে থেকে বর্জ্যের আকার নেয়৷

মানুষ সচেতন না থাকায় প্লাস্টিক দূষণ হচ্ছে ৷প্লাস্টিক এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যা পচতে অথবা কারখানায় পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করতে প্রচুর সময় লাগে ৷ তাই একে “অপচ্য পদার্থ” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

প্লাস্টিক দূষণের স্লোগান

বিশ্ব পরিবেশ দিবস হলো ৫ জুন। দিবসটির মূলভাব হলো,আসুন প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করি এবং প্লাস্টিক পুনঃব্যবহার করি, না পারলে বর্জন করি।

প্লাস্টিক দূষণের ফলাফল

গ্রিনহাউস প্রক্রিয়ায়(greenhouse process)
প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থগুলো তৈরি করা হয় জীবাশ্ম জ্বালানী দিয়ে যেমন- তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসকে ব্যবহার করে। যখন তেল বা খনিজ পদার্থ ভূ-ত্বক হতে নিষ্কাশন হয় তখন বিপুল পরিমাণে দূষিত পদার্থের নির্গমন ঘটে।

যেমনঃ কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, ওজোন, বেনজিন এবং মিথেন গ্যাস।আবার আমরা যে সমস্ত প্লাস্টিক বোতল ব্যাবহার করি তার মূল উপাদান হলো পলিইথিলিন।
গবেষণায় দেখা গেছে, এক আউন্স পলিইথিলিন তৈরি করতে গেলে পাঁচ আউন্স কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়ে থাকে। অর্থাৎ আমরা যে পরিমাণ প্লাস্টিকদ্রব্য প্রস্তুত করছি তার চেয়ে বেশি পরিমাণ দূষিত পদার্থ বায়ুতে নির্গমন করছি।

আমরা সবাই জানি যে, এসব পদার্থের জন্যই মূলত গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। এভাবেই গ্রিনহাউস প্রক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যে কারণে হিমালয়ের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নিচে অবস্থানরত দেশগুলোর প্রায় অনেক অঞ্চলই সমুদ্রের তলদেশে চলে যাবে।
অতএব, আমরা যদি এই গ্রিনহাউস প্রক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে চাই তাহলে আমাদের প্লাস্টিক এর ব্যবহার কমাতে হবে।

Enviroment Bottle Pollution

সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ ( plastic pollution in the ocean)
সমুদ্রে প্লাস্টিক এর ব্যবহার ব্যাপক। আমরা যা কিছু ব্যাবহার করি তার সব বর্জ্য গুলো সমুদ্রে ফেলে দেই। এভাবে গবেষণায় পাওয়া যায় যে, পৃথিবীতে উৎপাদিত মোট প্লাস্টিকের শতকরা ২ ভাগ জমা হচ্ছে মহাসাগরে।২০১২ সালের এক গবেষনায় জানা যায় যে, সমগ্র বিশ্বের সমুদ্রে প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য রয়েছে।

১৯৫০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তৈরি হয় ৮.৩ বিলিয়ন টন প্লাস্টিক। এর মধ্যে কিছু পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে এবং বেশিরভাগই যাচ্ছে মহাসাগরে। যার ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্রের ওপর এর প্রভাব দিনের পর দিন ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে।

২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল The Seattles Time (দ্য সীটল টাইম) নামক দৈনিকে প্রকাশিত এক খবর বিশ্ববাসীকে জাগিয়ে তোলে। সমুদ্র সৈকতে একটি মৃত বিশালদেহী তিমিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে এই তিমিকে গবেষণা করে দেখা যায় যে, এর পাকস্থলী ভর্তি বহু প্লাস্টিক পদার্থ দিয়ে। এজন্য গবেষকরা ধারণা করেন এসব প্লাস্টিক পদার্থই তিমিটির মৃত্যুর কারণ।

পরিযায়ী পাখিদের উপর প্লাস্টিকের প্রভাব(Plastic effects on mature birds)

সামুদ্রিক পাখির পেটে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক পাওয়া যায় ৷বাংলাদেশে বিশেষ করে শীতকাল মৌসুমে পৃথিবীর নানা দেশ থেকে পরিযায়ী পাখি আসে বেড়াতে। এসব পাখি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের সরকার কিছু মৌসুমে পাখি শিকার নিষিদ্ধ করেছে শুধু তাদের অবাধ প্রজননের জন্য। কিন্তু তারপরও দেখা যায়, দিন দিন এসব পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

কারণ সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিককে না চিনতে পারায় পাখিরা গ্রহন করে ফেলে ৷ গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ পাখি প্লাস্টিক খাওয়ার কারণে মারা যাচ্ছে। ২০০৪ সালে গবেষণার মাধ্যমে জানা যায় যে “সামুদ্রিক গিল” এর পেটে ৩০ খন্ডের সম পরিমাণ প্লাস্টিক পাওয়া যায় ৷

বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে, ২০৫০ সালে প্রায় ৯৯ শতাংশ পরিযায়ী পাখির পাকস্থলীতেই প্লাস্টিক পাওয়া যাবে।
প্লাস্টিক পদার্থ থেকে বিষাক্ত রাষায়নিক পলিক্লোরিনেটেড বায়োফেনল নির্গত হয় যার জন্য দেহের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মানুষের উপর প্লাস্টিকের প্রভাব(The effect of plastic on humans)

প্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।প্লাস্টিক উৎপাদনে ব্যবহৃত উপাদান মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর করে। তিন পদ্ধতিতে প্লাস্টিক মানবদেহে প্রবেশ করে থাকে। যেমনঃবাতাস ও পানি এবং খাবার। যার ফলে ক্যান্সার, জন্মগত ত্রুটি, জেনেটিক পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস, আলসার, বধিরতা, চর্মরোগ, লিভার সমস্যা হতে পারে।

সর্বশেষ, আমাদেরকে প্লাস্টিক দুষণ বন্ধ করতে হবে

লেখক: শিক্ষার্থী, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ।

প্লাস্টিক ব্যাংক বাংলাদেশ এর সৌজন্যে লেখাটি সংগৃহিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন