• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

পেকুয়ায় ছিনতাইকারীদের কললিস্ট বের করতে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ এসআই’র বিরুদ্ধে

ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক: / ১৫৭ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছিনতাইকারীদের মোবাইল কললিস্ট বের করার কথা বলে মো. আজিম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হকের বিরুদ্ধে। অটোরিকশাটি ছিনতাইকারীর কবল থেকে উদ্ধার করতে পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন মো. আজিম। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা উল্টো সেবার বিনিময়ে অগ্রিম ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। অবশেষে কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইকারীদের দিয়ে অটোরিকশাটি উদ্ধার করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব গোঁয়াখালী এলাকার মৃত আবু ছিদ্দিকের ছেলে মো. আজিমের মালিকানাধীন সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি ভাড়া নিয়ে চালান রবিউল আলম নামক এক চালক। গত ২৯ আগস্ট রবিউল আলম অটোরিকশা নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে পেকুয়া আসার পথে আনোয়ারার বরুমছড়া এলাকায় পৌঁছালে সংকেত দেন তিনজন যাত্রী। পরে চালক রবিউল আলম তাঁদের নিয়ে কিছুদূর যেতেই হাত মুখ বেঁধে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেন যাত্রীবেশে গাড়িতে ওঠা ব্যক্তিরা।

তিনদিন পর খোঁজ মেলে চালক রবিউল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে ছিনতাইকারীরা মালিক মো. আজিমের মোবাইলে কল দিয়ে ২ লক্ষ টাকা দাবি করে। এমনকি টাকা আদায় করতে ছিনতাইকারীরা তাকে বিকাশ নাম্বারও দেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার মালিক মো. আজিম পেকুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের তদন্ত করেন পেকুয়ায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক। অভিযোগ পাওয়ার শুরুতে অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে বাদী মো. আজিমের কাছ থেকে ঘুষের চাপ দেন এসআই নাজমুল হক। সর্বশেষ ছিনতাইকারীর মোবাইলের কললিস্ট বের করার কথা বলে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন তিনি।

সিএনজি চালিত অটোরিকশার মালিক মো. আজিম বলেন, নিজের শেষ সস্বল সিএনজি চালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কবলে পড়লে চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়ে। ছিনতাইকারীরা অটোরিকশা ফিরিয়ে দিতে আমার মোবাইলে কল দিয়ে ২ লক্ষ টাকা দাবি করে। উপায় না পেয়ে পেকুয়া থানায় একটি অভিযোগ দিই। অভিযোগ তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় পেকুয়া থানার এসআই নাজমুল হককে। তিনি প্রথমে অভিযোগ হাতে নিয়ে দুই হাজার টাকা নেন। একদিন পর ছিনতাইকারীর কল লিস্ট বের করতে হবে বলে আবারও দশ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি তখন তাঁর হাতে ৮ হাজার টাকা দিয়েছি। বাকি দুই হাজার টাকা পরে দেওয়ার কথা ছিলো।

তিনি আরও বলেন, আমি তাঁর পেছনে ঘুরতে ঘুরতে অনেকটা হতাশ হয়েছি। ছিনতাইকারীরা আমাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে ২ লক্ষ টাকা দাবি করার বিষয়টি জানাতে শতবার ফোন দিয়েছি। কিন্তু তিনি আমার কল ধরেননি। ঘুষ নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি (এসআই) নিজে কল দিয়েছেন, ঘুষ নেওয়ার পরে আর একটি কলও ধরেননি। অবশেষে পুলিশের আশা ছেড়ে দিয়ে নিজের একমাত্র সম্বলটি ছিনতাইকারীদের ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে উদ্ধার করি।

এ প্রসঙ্গে এসআই নাজমুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি গাড়ি চুরি বা ছিনতাই ঘটনার বাদীর কাছ থেকে কোন ধরনের টাকা চাইনি ও নিইনি। গাড়ি উদ্ধারে সহযোগিতা চাইলে বাদী যথাসময়ে যোগাযোগ না করে কারো প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্য একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি কোন সাংবাদিকের সাথে খারাপ বা আপত্তিকর বক্তব্য বা কথা বলিনি। হয়তো কেউ আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে উদ্দেশ্যমুলক ষড়যন্ত্র করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন