• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

পাহাড় ধসের আশংকা; মাইকিংয়ে সাড়া দিচ্ছে না কেউ

নিজস্ব প্রতিদেক / ৭০০ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ৬ জুন, ২০২১

আরফাতুল মজিদ

কক্সবাজারে গত সপ্তাহ থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মাঝে মাঝে ভারী বৃষ্টিও হচ্ছে বিভিন্ন উপজেলায়। এরিমধ্যে শনিবার (৫জুন) উখিয়া ও টেকনাফে পাহাড় ধসে দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরও ৪ জন। নিহতরা হলেন, টেকনাফের চাকমারকুল ক্যাম্পের নুরুল আলমের স্ত্রী নূর হাসিনা ও উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের রহিম উল্লাহ। এছাড়া ভারী বর্ষণে রোববার (৬জুন) দিবাগত রাতে খুরুশকুল পূর্ব হামজার ডেইল এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এসময় নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শাহানু আক্তার আহত হয়। পাহাড়ধসের পাশাপাশি ঘরবাড়িও বিলীন হয়েছে অনেকের। অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে সড়ক যোগাযোগও। এরপরও জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারী অন্তত ২ লাখ মানুষকে সরিয়ে আনা যাচ্ছে না। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় থেকে সরিয়ে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কক্সবাজার পৌরসভার দিন-রাত মাইকিং করে যাচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে। কিন্তু এতে কেউ সাড়া দিচ্ছে না।

পরিবেশ সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার পৌরসভার অন্তত ১২টি পাহাড়ে বসবাস করছে আড়াই লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে আছে অন্তত ৪০ হাজার। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে কক্সবাজার শহরতলীর ফাতেরঘোনা, বৈদ্যঘোনা, মোহাজেরপাড়া, লাইটহাউস, ঘোনারপাড়া, কলাতলীর উত্তর আদর্শগ্রাম, দক্ষিণ আদর্শগ্রাম, চন্দ্রিমার ঘোনা, বখতিয়ার ঘোনা, লারপাড়া, বাস টার্মিনাল এলাকার, বাদশাঘোনা, পাহাড়তলী ও খাজামঞ্জিল পাহাড়ে দেখা গেছে, পাহাড়ের খাদে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বসতি। এসব পাহাড়ে বসবাস করছে মানুষ।

জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা কার্যালয় সূত্র জানায়, পৌরসভার অভ্যন্তরে ১২টির বেশি পাহাড়ে ভূমিধসের ঝুঁকিতে আছে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। এসব পাহাড়ে ১২ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি তৈরি করে বসতি করছে দুই লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে অন্তত ৮০ হাজার মিয়ানমারের অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন, ‘মাইকিং কিংবা প্রচার-প্রচারণায় পুরোপুরি পাহাড় ধস ঠেকানো যাবে না। পাহাড়ের নিচে অবৈধ বসবাসকারীদের অনতিবিলম্বে কক্সবাজারের বৃহৎ স্বার্থে সরিয়ে নিতে হবে। উচ্ছেদ করতে হবে অবৈধ স্থাপনা। নতুন করে পাহাড়ের নিচে যাতে কেউ অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলতে না পারে তা প্রশাসনের নজরদারিতে রাখতে হবে।’

পরিবেশবাদি সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপলস্- এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, গত ১০ বছরে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় ছয় সেনাসদস্যসহ অন্তত ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে। সর্বশেষ শনিবার (৫জুন) পাহাড় ধসে উখিয়া টেকনাফে দুই রোহিঙ্গা নিহত হন। ভারী বর্ষণে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, পাহাড় কাটার কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে। আগে পাহাড় কাটা রোধ করতে হবে। তাহলে ধসের পরিমাণ কমে যাবে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসীনতা রয়েছে। পাহাড়ে অভিযানের পর ফলোআপ করে না পরিবেশ অধিদফতর বা জেলা প্রশাসন। বর্ষা এলেই মাইকিং করে দায়িত্ব শেষ করে। আগে থেকেই পরিকল্পনা নিতে হবে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের কি করতে হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ভারী বর্ষণে ভূমিধসে প্রাণহানি ঘটতে পারে, তাই লোকজনকে পাহাড় ছাড়তে অনুরোধ জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। স্বেচ্ছায় তারা সরে না এলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, পাহাড় কাটার মাটি বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভেসে এসে শহরের নালা-কালভার্ট ভরাট হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হবে শহরের অলিগলি। এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

এদিকে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে মহেশখালী উপজেলায় পাহাড় ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির লোকজনকে অন্যত্র সরে যেতে মাইকিং করে প্রচারণা চালাচ্ছে। কিন্তু পাহাড়ে বসবাসরত লোকজনের ভেতর এ নিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এতে যেকোনো মুহূর্তে পাহাড় ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২০০৭, ২০০৮ ও ২০১২ সালে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে একই পরিবারের আটজনসহ ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এরপরও ছোট মহেশখালী, শাপলাপুর, কালারমারছড়া ও হোয়ানক ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরে পাহাড়ের পাদদেশে বসতি স্থাপনের সুবিধার্থে পাহাড় কাটা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব কাটা পাহাড়ের নিচে হাজার হাজার বসতি স্থাপন করে বসবাস শুরু করেছে বসবাসকারীরা। যার ফলে প্রতি বৎসর বর্ষা মৌসুমে কোন না কোন পাহাড় ধসের দূর্ঘটনায় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটছে। ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়। তাই এসময় পাহাড় ধসে পড়ার আশংকা থাকে বেশি। এতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে টেকনাফ, মহেশখালী, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর উপজেলা সহ প্রত্যন্ত অঞ্চল। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক পাহাড়ে অবস্থানরত মানুষদের মাইকিং করে অবগত করানো হলেও তেমন একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে না মনে করছেন জেলার সচেতন মহল।

কক্সবাজার রাডার স্টেশনের পশ্চিমাংশের ভূমি ধসে দুই পরিবারের শাহ আলম (৪৫), তাঁর স্ত্রী রোকেয়া আক্তার (৩৩), তাঁর ভাতিজি রিনা আক্তার (১৬) এবং পাশের পরিবারের জুনু বেগম (২৮), তাঁর মেয়ে নীহা মনি (৭) এর মর্মান্তিক প্রাণহানী হয়। এতে আহত অবস্থায় উদ্ধারও করা হয় কয়েকজনকে। পাঁচ বছর আগে কক্সবাজারের দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকার জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের পূর্ব পাশের হিলটপ সার্কিট হাউজের কক্সবাজার রাডার স্টেশনের পশ্চিম পাশে এই ধসের ঘটনা ঘটে। এরপরের বছর ঝিলংজার মুহুরী পাড়া এলাকার আবু তাহের নবম শ্রেণী পড়ুয়া কন্যা ফারজানা আকতার পাহাড় ধসে প্রাণ হারান।

এছাড়াও ২০১০ সালের ১৫ জুন হিমছড়ি এলাকায় সেনা ক্যাম্পে ৬ সেনা সদস্য নিহত হন পাহাড় ধসে। একই সময়ে টেকনাফ, রামু, কক্সবাজার শহরসহ অর্ধ শতাধিক নিহত হন পাহাড় ধসে। এইভাবে প্রতি বৎসর বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর পরই প্রবল বর্ষণে কিংবা মাঝারি বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসে নিহত হওয়ার আশংকা বেড়ে চলেছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন