শাহীন রাসেল:
ধুলোর রাজত্ব চলছে পর্যটন শহরে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। অনেক পর্যটক বিরক্ত হয়ে কক্সবাজার ছাড়ছেন। ধুলোর জন্য সড়কের সংস্কার কাজকে অজুহাত হিসেবে দেখালেও মূলত এরজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গাফেলতি ও দায়িত্বহীনতা বলে দাবী করছেন সচেতন মহল। একইসাথে নেতৃত্বহীনতাকেও দায়ী করেন অনেকে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লিংকরোড থেকে টার্মিনাল পর্যন্ত বেশির ভাগ অংশ দেখে চেনার উপায় নেই এটি মহাসড়ক নাকি গ্রামীণ সড়ক। ছমুদা ব্রীজ থেকে কলাতলী পর্যন্ত মহাসড়কটি চার লেন উন্নীত করণ কাজ চলায় বিভিন্ন স্থানে ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে। ধুলার কারণে মহাসড়টিতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। ফলে এ মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে।
একই অবস্থা শহরের প্রত্যেকটি সড়ক-উপসড়কের। উন্নয়ন কাজ চলার অজুহাতে বেহাল অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে সড়কগুলো। পৌরসভার পানির গাড়ির থাকলেও সেই গাড়ির ব্যবহার চোখে পড়ে না। ফলে ধুলোর যন্ত্রণা মাথায় নিয়ে চলাফেরা করতে হয় শহরবাসীকে।

লক্কর ঝক্কর অবস্থায় সড়ক ফেলে রাখায় প্রতিনিয়তই সড়কে যানবাহন বিকল হওয়াসহ নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কের আশপাশের ঘর-বাড়ি, দোকান আর গাছপালাও এখন ধুলায় ছেয়ে গেছে। সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় ধুলায় কিছুই দেখা যায় না, এমনকি নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয় চালক ও যাত্রীদের। তাছাড়া মহাসড়ক সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্টানে কাজ করা ও মসজিদে নামাজ আদায় করা কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়কের পাশে বসবাসকারীরা জানান, এ সমস্যা আজকের নয়। টানা দুই বছর ধরে চলছে। মহাসড়কের উন্নয়নের কাজ শুরু করা হলেও তা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে। ফলে সড়কের পাশে থাকা দোকানি ও বাড়ির মানুষদের অবস্থা খুবই খারাপ। এছাড়া সড়কের পাশের বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যরা শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে নাম মাত্র পানি দিয়ে ভিজিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য ধুলা নিবারণ করলেও সেটা কোনো কাজে আসছে না।
টার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসা মারছা পরিবহনের সুপারভাইজার হায়দার আলী, পিকআপ ভ্যানের চালক হারুন, ইটভর্তি ট্রাকের চালক আব্দুল্লাহ জানান, সামনে থাকা যানবাহন চলে গেলে পেছনের যানবাহনের চালক ধীর গতিতে যান চালিয়ে থাকেন। এতে সময় বেশি লাগছে। তাছাড়া ধুলার কারণে সামনে প্রায় ২৫/৩০ গজ কিছু দেখা যায় না । এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পথচারী ও যাত্রীরা জানান, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা এখন চরম দুর্ভোগের ব্যাপার। অসুস্থ কোনো মানুষ এ সড়কে চলাচল করলে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে। সড়ক দিয়ে বড় ধরনের কোনো যানবাহন গেলে ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায় চারদিক। তাছাড়া যানবাহন চলার সময় ছোট-বড় গর্তের ঝাঁকুনিতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সিএনজি চালক বশির আলম, জাকের হোসেন ও আলী হোসেন বলেন, ধুলার কারণে তাদের ঝুঁকি নিয়ে যান চালাতে হচ্ছে।
ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চালক কাইছার আলম ও শহিদুল্লাহ জানান, তাদের গাড়ি এমনিতেই ছোট। তারমধ্যে পর্যাপ্ত ধুলা। খুব হিসেব করে গাড়ি চালাতে হয়।
রামু চৌমুহনী থেকে আসা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী হাবিব উল্লাহ জানান, তিনি দাঁতের চিকিৎসা করাতে মঙ্গলবার সকালে শহরের হাসপাতাল সড়কে আসেন। মহাসড়কে ধুলার কারণে রামু লাইনের ( মিনি বাস) ভেতর থাকা সবাই অস্বস্তি বোধ করেন।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ধুলার কারণে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে আসা, গ্রাহক ছাড়াও মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত মানুষের নানা প্রকার সমস্যা হচ্ছে।
রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: আবু নাসের মোহাম্মাদ ফয়েজ বলেন, ধুলাবালির কারণে সাধরণত ফুসফুসের বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। এছাড়া এলার্জিজনিত ঠান্ডা, কাশি, চোখের সমস্যাও হতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে মাস্ক ও সানগ্লাস ব্যবহার করা জরুরি। তাছাড়া বাসায় ফিরে নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
এ বিষয়ে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, সড়কে কাজ চলমান থাকার কারণে একটু অসুবিধা হচ্ছে। নিয়মিত পানি দিলেও অতিরিক্ত রোদ হওয়ায় তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।
তিনি আরোও বলেন, আগে দুটি গাড়ি দিয়ে পানি দেওয়া হতো। ধুলাবালি বেশি হওয়ায় আরো গাড়ি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।