বিশেষ প্রতিনিধি:
কোনো ধরণের অনুমতি ছাড়াই সরকারি জমিতে গত তিনমাস ধরে প্রকাশ্যে উঠছে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ। এতো বিধি নিষেধ বা আইন থাকার পরও কোন কিছু পরোয়া না করেই কক্সবাজার শহরের ১২নং ওয়ার্ড লাইট হাউজ এলাকায় বেশ কয়েকটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে হুহু করে। এমনকি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি পরিদর্শনের পরও অবৈধ ভবন নির্মাণ বন্ধ হয়নি। বরং কউকের প্রতিনিধি পরিদর্শনের পর অবৈধ ভবন নির্মাণ চলছে তড়িগড়ি করে। তবে অবৈধ ভবন মালিকদের দাবী, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তপক্ষ (কউক) ম্যানেজ করেই তারা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিনমাস ধরে প্রকাশ্যে দুই’টি বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে লাইট হাজউ এলাকায়। রেস্তোরা সমিতির নেতা ডালিমের বাড়ির পাশেই ভবন দু’টির কাজ চলছে। সরকারি জমিতেই এসব ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আলী জোহর নামে একব্যক্তি বর্তমানে ৩ তলা ভবনের কাজ শেষ করেছে। ৫ তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ করবেন তিনি। ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক লাগিয়ে গতকাল শনিবারও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তড়িগড়ি করে। একই পাশে আক্তার নামে এক ব্যক্তিও একতলার কাজ শেষ করে দু’তলা ভবনের কাজ শুরু করেছে। আক্তারও শ্রমিক লাগিয়ে জোরভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর আশপাশেও আরো বহু স্থাপনা নির্মাণ চলছে।

জানতে চাইলে ভবনের মালিক আলী জোহর মুঠোফোনে বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল একটি বহুতল ভবন করার; তাই করে যাচ্ছি। এটি সরকারি খাস জমি। ভবন নির্মাণের কোন অনুমতি নেই। কেউ অনুমতি দিবেও না। কয়েকবার কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) এর প্রতিনিধি আসছিল। সর্বশেষ গত এক মাস আগেও আসছিলও কউক এর প্রতিনিধি। তাদের সাথে ম্যানেজ করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কত টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। আপনাকে বলা যাবে না।
অপর ভবনের মালিক আক্তার মুঠোফোনে বলেন, বেশ কয়েকবার কউকের প্রতিনিধি আসছিল। কোন অসুবিধা হয়নি। তাদের সাথে সমন্বয় করেই ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
পাশের একটি ভবনের মালিক বলেন, আমার ভবনের কাজ যখন করছিলাম, তখন ম্যাজিস্ট্রেট এসে ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আমার পাশে অনেক ভবনের কাজ চলছে। তাদের কিছুই হচ্ছে না। এমনকি কউকের প্রতিনিধি এসেও তারা কিছু ব্যবস্থা নেয়নি। বরং প্রতিনিধি যাওয়ার পরও তারা অবৈধ ভবনের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ বলেন, লাইট হাউজ এলাকায় ভবন নির্মাণের বিষয়ে আমি অবগত নয়। যদি অবৈধভাবে কেউ ভবন নির্মাণ করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে কউকের প্রতিনিধি যাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।