বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্নিঝড় দানার প্রভাবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত উত্তাল রয়েছে। এতে ঢেউয়ের উচ্চতা স্বাভাবিকের চাইতে কিছুটা বেড়েছে। এ নিয়ে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজারে ঘুরতে আসা পর্যটকদের গোসলে নামা বিপদজনক বলে জানিয়েছেন লাইফগার্ড কর্মকর্তাসহ প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা।
তারা জানিয়েছেন, উত্তাল সাগরে পর্যটকদের গোসলে না নামতে লাইফগার্ড, বিচ কর্মি ও ট্যুরিস্ট পুলিশ নিষেধ করে মাইকিং করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) কক্সবাজার প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি জানিয়েছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সী সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার ওসমান গণি বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় বড় বড় ঢেউ তীব্র বেগে সৈকত উপকূলে আঁচড়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি সাগরে গোসলে নামা নিরাপদ নয়। এ কারণে পর্যটকদের গোসলে না নামতে লাইফগার্ড কর্মিদের পাশাপাশি বিচকর্মি ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা মাইকিং করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তারপরও পর্যটকদের অনেকে নির্দেশনা না মেনে গোসল করছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে সাগরে তোড়ে বার্জের ধাক্কায় কক্সবাজারে উখিয়ার ইনানী সৈকতের নৌবাহিনীর জেটিটি ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড় দানার প্রভাবে জোয়ারের পানির তোড়ে একটি বার্জের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে জেটি ভেঙে যাওয়ায় চলতি পর্যটন মৌসুমের শুরুতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণেও দেখা দিয়েছে বিপত্তি।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কক্সবাজার আকাশ মেঘলা রয়েছে। মাঝে মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। এর প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলবর্তী সাগরে পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চাইতে অন্তত ১ থেকে ২ ফুটের কিছুটা বেশী।