• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

জেল ফেরত ফারুকের ইয়াবা ব্যবসা, ঘরে সেবনের আসর

নিজস্ব প্রতিদেক / ৮৮০ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ৫ জুন, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইয়াবাসহ আটকের পর প্রায় দেড় বছর কারাগারে ছিল ফারুক। কারাগার থেকে বের হয়ে বদলাতে পারেনি তার পেশা। ফের শুরু করেছে ইয়াবা ব্যবসা। প্রায় একবছর আগে কারাগার থেকে বের হয়ে নিজ এলাকায় খুচরা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ফারুক। তার জমজমাট ইয়াবা কারবারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসীও। শুধু ইয়াবা ব্যবসায় নয়, তার বাড়িতে বসেই ইয়াবা সেবন চলে প্রতিনিয়ত। ফারুক ওরফে ঢাকাইয়ার ছেলে ফারুক হিসেবে পরিচিত। তার বাড়ি কক্সবাজার শহরের ১০নং ওয়ার্ড পূর্ব মোহাজের পাড়া এলাকায় এবং মৃত শেখ রহিম উদ্দিন ড্রাইবারের ছেলে। পূর্ব মোহাজের পাড়া মোরশেদ আলমের বাসার পাশে ফারুকে বাসা। মোরশেদ আলম ওই এলাকার সর্দ্দার। তিনিও ফারুকের ইয়াবা কারবারে অতিষ্ঠ।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, ফারুকের ইয়াবা ব্যবসা বিগত আট বছর আগে থেকেই। ঘোনার পাড়াস্থ বিবেকানন্দ বিদ্যা নিকেতনের একটু পরে রাস্তার পাশে একটি রিকশার গ্যারেজ ভাড়া নিয়েছিল ফারুক। ওই রিকশার গ্যারেজের ভিতরে বসেই ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে সে। নিয়মিত গ্যারেজ থেকে খুচরা ইয়াবা বিক্রি ছড়িয়ে দেয় সবখানে। এমনকি গ্যারেজের ভেতরেও বসে ইয়াবা সেবন চলত নিয়মিত। রিকশা চালকরাও ছিল তার ইয়াবা ট্যাবলেটের কাস্টমার। ৪ বছর আগে ইয়াবার লেনদেনকে কেন্দ্র করে তার রিকশার গ্যারেজে খুন হন একব্যক্তি। এরপর পলাতক ছিল ফারুক। খুনের পর গ্যারেজ রেখে পালিয়ে যায় ইয়াবা কারবারি ফারুক। হত্যার একমাস পর ফের এলাকায় ফিরে ইয়াবা কারবারের স্থান পরিবর্তন করে। অলিগলিতে হেঁটে হেঁটে বিক্রি শুরু করে ইয়াবার। গোলদিঘীর পাড় থেকে ঘোনার পাড়া, বাদশা ঘোনা ও মোহাজের পাড়া এলাকায় তার খুচরা ব্যবসা চলছিল জমজমাটভাবে।

প্রায় তিন বছর আগে ইয়াবাসহ কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের হাতে আটক হন ফারুক। এই আটকের ঘটনায় দীর্ঘ দেড় বছর কারাগারে ছিল ফারুক। গত একবছর আগে কারাগার থেকে বের হয় সে। কিন্তু পুরাতন পেশা বদলাতে পারেনি ফারুক। জেল থেকে বের হয়ে ইয়াবা ব্যবসা বাড়িয়ে দিয়েছে। পূর্ব মোহাজের পাড়া এলাকায় একমাত্র খুচরা ইয়াবা কারবারি হিসেবে পরিচিত ঢাকাইয়ার ছেলে ফারুক। ঘোনার পাড়া ও বাদশা ঘোনা এলাকায়ও ইয়াবা ফারুক হিসেবে খ্যাতি রয়েছে তার।

পূর্ব মোহাজের পাড়া সমাজ নেতারা বলেন- দিন নেই, রাত নেই ফারুকের ইয়াবা ব্যবসা চলছে জমজমাটভাবে। এলাকার কাউকে পাত্তা দিচ্ছে না। প্রকাশ্যে খুচরা ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে জমে উঠে তার ইয়াবা কারবার। পূর্ব মোহাজের পাড়া, ঘোনার পাড়া ও বাদশা ঘোনা এলাকায় ঘুরে ঘুরে ইয়াবা বিক্রি করে সে। তবে রাত ১১ টার পর থেকে তার বাসায় বসে ইয়াবা সেবনের আসর। ঘোনার পাড়া ও বাদশা ঘোনার কিছু চিহ্নিত যুবক তার বাড়িতে ইয়াবা সেবনের আসর বসায় বলে জানা গেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিরাতে তার বাসায় আসে অপরিচিত অনেক লোক।

তার প্রতিবেশিরা জানান, খুচরা ইয়াবা বিক্রির সময় তার সাথে একটি ধারালো ছুরি থাকে সবসময়। নিজের পিঠে কৌশলে ছুরিটি রেখেই অলিগলিতে এবং বাসার সামনে ইয়াবা বিক্রি করে ফারুক। যদি তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে বা ইয়াবা ক্রয় করে টাকা না দেয়; তাহলে ওই ছুরির ভয় দেখায় ফারুক। তার কারণে পুরো এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। ভয়ে কেউ কিছুই বলে না।

এলাকাবাসীর দাবী- এই ফারুককে আইনের আওতায় আনা গেলে পূর্ব মোহাজের পাড়া থেকে ইয়াবা মুক্ত হবে। বন্ধ হবে তার ইয়াবা ব্যবসা। তার বাড়িতে আর বসবে না ইয়াবার আসর।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান বলেন, মাদক কারবারিদের তালিকা করা হচ্ছে। এখন নতুন নামও তালিকায় সংযুক্ত করা হচ্ছে। তালিকাভুক্ত অনেকেই কারাগারে আছে। আবার অনেকেই জামিনে বেরিয়ে পুনরায় ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়েছে। শুধু বিক্রেতা নয়, মাদক কারবারে অর্থ লগ্নিকারী, পৃষ্ঠপোষক, সংরক্ষক, বহনকারী, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন