বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। এখানে শত শত শিশু, কিশোর-কিশোরী, যুবকেরা সার্ফিং করে। সবচেয়ে দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ সার্ফিং এর জন্যও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এখানে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সার্ফিং প্রতিযোগিতা। বিচারক হিসেবে অংশ নেয় টম বাওয়ারের মত খ্যাতিমান সার্ফারেরা। সমুদ্রসৈকতের ক্ষুদে সার্ফার মো. ইউনুস। বাংলাদেশ সার্ফ লাইফ সেভিং ক্লাবের হয়ে সার্ফিং শিখে সে। ওই ক্লাবে শুধু সার্ফিং নয়, সমুদ্রে বিপন্ন মানুষের জীবন কৌশলও শেখানো হয়। দুই বছর ধরে সার্ফিং শিখছে ইউনুস। গত ১৭ আগস্ট সৈকতে খেলার সময় মো. সাগর (৭) নামে এক শিশু সাগরের পানিতে ভেসে যায়। পরে ইউনুস তাৎক্ষণিক সমুদ্রে ঢেউ ডিঙিয়ে সাতার কেটে বিপন্ন শিশু সাগরকে উদ্ধার করে। সার্ফিং শিখতে পেরে বেশ খুশি ইউনুস। তার স্বপ্ন বড় হয়ে সে একজন আন্তর্জাতিক মানের সার্ফার হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্রে বিপদে পড়া মানুষকে উদ্ধার করবে। ইউনুসের বাবা পেশায় একজন জেলে। গেল বছর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে। বর্তমানে ইউনুস ও তার সৈকতে ঝিনুক বিক্রি করে সংসার চালায়। পাশাপাশি সার্ফিং করে ইউনুস। কক্সবাজারে সার্ফিং এর পাশাপাশি জীবন রক্ষার কৌশল শেখানোর একমাত্র ক্লাব “বাংলাদেশ সার্ফ লাইভ সেভিং ক্লাব”। এই ক্লাবের প্রশিক্ষক সাইফুল্লাহ সিফাত। তিনি ইংল্যান্ড থেকে সার্ফিং এ উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তার ক্লাবে বর্তমানে ইউনুস সহ ৩০ জন সার্ফার আছে। এরমধ্যে নারী সার্ফারও আছে।