• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

গণহত্যা সনদ মেনে চলার নির্দেশ জারি করল মিয়ানমার সরকার

নিজস্ব প্রতিদেক / ৫৪৮ বার ভিউ
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২০

ডেস্ক রিপোর্ট:

গণহত্যা সনদ মেনে চলা এবং রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত সব সহিংসতার সাক্ষ্যপ্রমাণ সংরক্ষণের জন্য মিয়ানমার সরকার আকস্মিকভাবে নির্দেশনা জারি করেছে। গত ৮ এপ্রিল মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দুটো আলাদা আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদালত আইসিসির নির্দেশ পালনের অংশ হিসেবেই মিয়ানমার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় গণহত্যা সনদ লঙ্ঘন থেকে নিবৃত্ত রাখা ও গণহত্যার অপরাধের সব সাক্ষ্য-প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গত ২৩ জানুয়ারি এক আদেশ জারি করে। আইসিসির ওই আদেশ প্রতিপালনে দেশটি কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে তার একটি প্রতিবেদন আগামী ২২ মের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার কথা। আদালতে প্রতিবেদন পেশ করার সময়সীমার ঠিক এক মাস আগে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট এই নির্দেশ দুটি জারি করলেন।

দেশটির সব মন্ত্রী, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় সরকার প্রশাসন, সামরিক এবং বেসামরিক নিরাপত্তাবাহিনীর সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি জারি করা এই আদেশে গণহত্যা সনদের বিধি ২ ও ৩–এর কোনো লঙ্ঘন যাতে না ঘটে তা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইসিসি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে সর্বসম্মতভাবে মিয়ানমারের প্রতি যে চার দফা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সেগুলো মেনে চলা মিয়ানমারের জন্য বাধ্যতামূলক।

গাম্বিয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে গণহত্যার ঝুঁকি থেকে রক্ষায় অন্তর্বর্তী একটি আদেশ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হলে গত ডিসেম্বরে সেই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত অন্তর্বর্তী আদেশ জারির পর গণহত্যার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা সে বিষয়েও শুনানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং গাম্বিয়াকে তার পূর্ণাঙ্গ আরজি পেশ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

আইসিসির অর্ন্তর্বতী নির্দেশনার মধ্যে ছিল: ১. গণহত্যা সনদের বিধি ২ অনুযায়ী মিয়ানমারকে তার সীমানার মধ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা, জখম বা মানসিকভাবে আঘাত করা, পুরো জনগোষ্ঠী বা তার অংশবিশেষকে নিশ্চিহ্ন করা এবং তাদের জন্মদান বন্ধের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ থেকে অবশ্যই নিবৃত্ত থাকা। ২. সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো অনিয়মিত সশস্ত্র ইউনিট বা তাদের সমর্থনে অন্য কেউ যাতে গণহত্যা সংঘটন, গণহত্যার ষড়যন্ত্র, প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে গণহত্যার জন্য উসকানি দেওয়া, গণহত্যার চেষ্টা করা বা গণহত্যার সহযোগী হতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা। ৩. গণহত্যা সনদের বিধি ২ এর আলোকে গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত সব সাক্ষ্য প্রমাণ রক্ষা এবং তার ধ্বংসসাধনের চেষ্টা প্রতিরোধ করা। এবং ৪. এই আদেশ জারির দিন থেকে চার মাসের মধ্যে মিয়ানমার আদালতের আদেশ অনুযায়ী যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে সেগুলো আদালতকে জানানো এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস পর পর এ বিষয়ে প্রতিবেদন পেশ করা।

মিয়ানমার আইসিসির শুনানিতে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং অন্তর্বর্তী আদেশ জারির মতো কোনো পরিস্থিতি নেই বলে দাবি করে। তবে এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিল। গণহত্যা সনদের লঙ্ঘন ঘটার মতো কোনো অপরাধের চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র সম্পর্কেও প্রেসিডেন্টের দপ্তরকে জানানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা ১ / ২০২০ এবং নির্দেশনা ২ / ২০২০ স্মারকে জারি করা এ দুটি আদেশ স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্টের দপ্তরের স্থায়ী সচিব খিন লাট।

সূত্র: প্রথম আলো


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন