প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
করোনা ভাইরাসের সরকার ঘোষিত লকডাউন পুরো দেশ। বন্ধ কক্সবাজার শহরের খাবার হোটেলগুলো। রাস্তায় যাদের বসবাস, অনেকের কাছে তারা পাগল কিংবা টোকাই নামে পরিচিত। স্বাভাবিক সময়ে পথচারীদের কাছ থেকে যা পায় তাই খায়। কিন্তু লকডাউনে তারা চরম অসহায়। পথে নেই পথচারী। তাই খাবার নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।
শহরের ফুটপাতে পড়ে থাকা এসব অসহায় ছিন্নমূল বিপাকে পড়া মানুষের পাশে থেকে দিনরাত খাবার বিতরণ করে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হোটেল আল গণি রেস্তোরাঁ। আজ প্রায় দুই মাস ধরে খাবার বিতরণ করে যাচ্ছে এই রেঁস্তোরা।
আল গণি রেস্টুরেন্টের উদ্যোগে প্রতিদিন ফুটপাতে পড়ে থাকা ভবঘুরে ছিন্নমূল পথশিশুসহ ১০০ জনের জন্য দুপুরের খাবার এবং ২০ রমজান পর থেকে এতেকাফে অবস্থানরত ৪২ জন মুসল্লির জন্য প্রতিদিন ইফতার ও সেহেরী দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রাস্তাঘাটে আটকে পড়া পথচারী মুসাফিরদের জন্য প্রতিদিন ১০০ জনের খাবার দিচ্ছে।
করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে খাবার বিতরণের এমন দৃশ্য সবার নজর কেড়েছে। এ অন্যান্য উদ্যোগের জন্য এই্ রেঁস্তোরা বেশ সুনাম কুড়িয়েছে সাধারণ মানুষের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ থেকে সরকার ঘোষিত লকডাউন এ আল-গনি কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ৪০০ মানুষের জন্য শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে এসব অসহায় ছিন্নমূল ভবঘুরে পথ শিশুদের খাবার নিয়ে আসছেন। হোটেল আল গণি কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। সচেতন মহল বলছে, নিঃসন্দেহে হোটেলে আল গণি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার। তাদের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নজিরবিহীন হয়ে থাকবে।
হোটেল আল-গণি স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ রুবেল উদ্দিন এর কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই দুঃসময়ে অসহায় মানুষের পাশে থাকতে পেরে খুব ভালো লাগছে। বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অসহায়ত্বের মধ্যে দিন পার করছে। দরিদ্র মানুষগুলো সরকারী ত্রাণসহায়তা পাচ্ছেন। অথচ যারা রাস্তায় পড়ে থাকেন যাদের ঘরবাড়ি নেই তাদের পাশে নেই কেউ। এই জন্য আমি মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এসময় তিনি শহরের অন্যান্য হোটেল রেস্টুরেন্ট মালিকদের প্রতি অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।