ডা. জাহিদুল মোস্তফা:
এ ক’দিনে আমাদের দেশের অন্যান্য স্থানের মত কক্সবাজারেও কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশংকাজনকহারে বাড়ছে। কারণ বিগত কয়েকদিনে আমরা বিজ্ঞানসম্মতভাবে লকডাউন, আইসোলেশন, অথবা কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধ কোনটাই ঠিকমতো করতে পারিনি।
আপনারা হয়তো ভাবছেন, আক্রান্ত হলেই আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেব। কিন্তু আপনি কি জানেন, কক্সবাজার জেলায় কোভিড-১৯ চিকিৎসার বেড সংখ্যা কত? অথবা ধারন সংখ্যা কত? আপনি হয়তো ভাবছেন কক্সবাজারে কি চিকিৎসা নেব? উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্রগ্রাম কিংবা ঢাকায় আইসিউ সংবলিত হাসপাতালে চিকিৎসা নিব, আমার তো মনেহয় সে আশাও গুড়েবালি কারণ ওইখানে আপনার চেয়ে অনেক বড় ভিআইপিরাও লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
সুতরাং এখানেই কিছু একটা করুন, সেটা হতে পারে কোন ফিল্ড হাসপাতাল। যেটাতে হাজার খানেক মৃদু আক্রান্তের চিকিৎসা হতে পারে। আর হাজার খানেক রোগীর আইসোলেশন করা যায়। সেটা হতে পারে যেকোন জায়গায়। স্টেডিয়ামেও হতে পারে অথবা জেলে পার্ক মাঠে। ভাবছেন হাসপাতাল করতে গেলে স্থাপনা লাগবে? যেখানে আমরা লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে ঘর বানিয়ে জায়গায় দিতে পেরেছি, সেখানে এটাতো কিছুই নয়। সাথে সামান্য কিছু মেডিকেল সরঞ্জাম লাগবে।
নিজের জন্য নিজে চিন্তা করুন নিজে কিভাবে ভাল থাকবেন চিন্তা করুন:
প্রিয় পৌরবাসী এই যুদ্ধে সবাইকে সক্রিয় হতে হবে, নেতৃবৃন্দের করোনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে প্রয়োজনীয় আরো নির্দিষ্ট বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে। প্রয়োজনে ওয়ার্ড ভিত্তিতে কাউন্সিলরদের সংযুক্ত করে কাজ করতে হবে। এমনকি মহল্লার সবাই একত্রিত হয়ে গরীব দুস্থদের সাহায্য ও বিজ্ঞান ভিত্তিক লকডাউন রোগীদের প্রয়োজনীয় আইসোলেশন।সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন, নিজের ভাল নিজে দেখুন, সার্থপর হোন, তাহলেই দেশ জাতি সবাই সুস্থ থাকবে।
বিঃদ্রঃ একান্তই নিজস্ব ভাবনা এটা হয়তো বাস্তবতার সাথে মিল না ও হতে পারে।
ছবিটা অপ্রাসঙ্গিক দিলাম এই কারনে কারণ আমি বেড়াতে ভালবাসি। ছবিটা তোলা হয় আগ্রা ফোর্ডের সম্রাট শাহজাহান এর শেষ বয়সের যে রুমে বন্দী অবস্থায় ছিল সেই রুমের পার্শ্বে। মৃত্যুর আগপর্যন্ত এখানেই কাটিয়েছেন শাহজাহান। যেখান থেকে দেখা যায় তাজ মহল।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, হৃদরোগ বিভাগ,
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ।