নিজস্ব প্রতিবেদক
“আমার মাথা ভর্তি প্ল্যান ঘুরতেছে আর গরীবের কষ্ট চোখে পড়তেছে। এসব আমি মানতে পারবো না।
এই দূর্যোগে মানুষের কাছে ভিক্ষা করে হলেও মেহনতি মানুষের হাতে আমরা কিছু তুলে দিবো।” অন্তিক চক্রবর্তী
অন্তিক চক্রবর্তীর এমন একটি বক্তব্য গত শনিবার রাতে স্ট্যাটাস লিখে ফেসবুকে পোস্ট করেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ক্লোরিন চাকমা। নিজের সহযোদ্ধা ও বন্ধু,শুভানুধ্যায়ীর মায়ের প্রতি একটি সাবান উপহার পাঠিয়েছেন। করোনা প্রতিরোধে হাত ধোঁয়ার পক্ষে সচেতনতার প্রয়াসে নিজের ও সংগঠনের কর্মী সর্মথকেরা অন্তিক চক্রবর্তীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্তিক চক্রবর্তীকে ঘিরে এমন কিছু স্ট্যাটাস করোনা সংক্রমণে লক ডাউনের দিন হতে ফেসবুকের ওয়ালে দেখা যাচ্ছে।

অন্তিক চক্রবর্তী। কক্সবাজার জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি। আন্তর্জাতিক সেচ্ছাসেবী সংস্থা Action Against Hunger- এর ম্যানেজমেন্ট ডির্পাটমেন্টের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমন থেকে মানুষকে বাঁচাতে যে কজন তরুণ নিবেদিত প্রাণ হিসেবে লড়াই করছেন কক্সবাজারের অন্তিক তাঁদেরই একজন।
বাংলাদেশ সরকার যেদিন থেকে করোণা সংক্রমন রোধে কাজ শুরু করেছেন অন্তিক ও তাঁর সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এর আগে থেকে কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন।
সমুদ্র শহর কক্সবাজারের কোলে বেড়ে উঠা অন্তিক চক্রবর্তী সমাজহিতৈষী প্রয়াত ডাঃ হীরেন্দ্র লাল চক্রবর্তীর পৌত্র। সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা অশোক চক্রবর্তী ও স্কুল শিক্ষিক মা স্বপ্না ভট্রাচার্য্যের প্রথম সন্তান।

করোনা সংক্রমন রোধে দেশী বিদেশী পর্যটকদের নিরাপদে নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো, লক ডাউনে থাকা বাড়ি সমূহে খাবার পৌঁছে দেওয়া,শহরের অলিগলি ও বাজার সমূহে হ্যান্ড ওয়াশিং পয়েন্ট স্হাপন ও হ্যান্ড ওয়াশিং টেকনিক সর্ম্পকে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষকে ধারনা প্রদান,কর্মহীন শ্রমজীবি মানুষের মাঝে ৯৯৯ টাকায় ১ সপ্তাহের রেশন,পথশিশু দের মাঝে সাবান,হরলিক্স, বিস্কিট বিতরন, রাস্তার অভুক্ত প্রাণীদের মাঝে খাদ্য বিতরন।

কক্সবাজার পৌরসভা ও সদর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপকরণ বিতরন। কক্সবাজারের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাঝে ১ মাসের বাজার খরচের দ্বায়িত নেন কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাহবুবুর রহমান।শ্রমজীবি ও রাস্তায় বসবাসরত ভাসমান মানুষদের মাঝে হ্যান্ড সেনিটাইজার,সাবান,খাদ্য বিতরণ সহ বহুমুখী কর্মকান্ড পরিচালনা করছে ছাত্র ইউনিয়ন।
অন্তিক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আজিজ রিপন কে আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তনয় দাশ সবুজের নেতৃত্বে BSU COX COVID-19 RESPONSE TEAM. নামে একটি ইউনিট সক্রিয় ভাবে কাজ করছে।

উল্লেখ্য,কর্মহীন শ্রমজীবি মানুষদের এক বেলার অাহার পৌঁছে দিচ্ছে Action Against Hunger ( ACF) অন্তিক চক্রবর্তীর অনুরোধে কর্মহীন শ্রমজীবি মানুষের জন্য এই মানবিক আবেদনে সাঁড়া দিয়ে Door to Door 1 day meal এর বন্দোবস্ত করেছেন এসিএফের চট্রগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মাহাদী মোহাম্মদ।
প্রকৌশল বিদ্যায় পড়াশোনা হলেও পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান রাজনীতিকে।
ছাত্রদের অধিকার আদায়ে গণ মানুষের লড়াই সংগ্রামে তাঁকে কখনো পিছু হটতে দেখি নি। ওর স্বপ্নের দেওয়াল জুড়ে বিদ্রোহ লেখা আছে বলে মন্তব্য করেন রিপোর্টাস ইউনিটি কক্সবাজারের সভাপতি নজরুল ইসলাম।

কক্সবাজার জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় বলেন, আমাদের পরিচয় দীর্ঘ দিনের। আমার আদরের অনুজ ভাই। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আমাদের বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ়।
অন্তিক চক্রবর্তী কক্সবাজারের তারুন্যের মাঝে পরিচিত নাম। চাল চলনে বাউন্ডুলে ও বিপ্লবী। ভালোবাসেন কবিতা লিখতে ও স্লোগান ধরতে। মাঝখানে ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেও সময় পরিক্রমা একরোখা, মানবিক, স্বপ্নবাজ এই তরুণকেই দীর্ঘ ৬ দশকের ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়।

কক্সবাজারের গণজাগরন মঞ্চের সংগঠকের দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। কক্সবাজার পলিটেকনিক ইন্স: ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি নির্যাতনে গুরুতর হয়। তনু হত্যার বিচার দাবীতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে সহ অনেক গুরুত্বপূর্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
কক্সবাজার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারন সম্পাদক নজিবুল ইসলাম বলেন, মানুষকে কাছে টেনে নেওয়ার এক অসাধারন গুন আছে অন্তিকের মাঝে। প্রতিবাদের সৎ সাহস,নতুন কিছু করবার স্বপ্ন দুটোই আছে।

অন্তিক চক্রবর্তীর সাথে কথা হচ্ছিলো সেলফোনে। রাত ১১ টা তখনো তিনি রাস্তায়। লকডাউনে কক্সবাজার বাসীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মীদের হাতে শুভেচ্ছা পৌঁছে দিচ্ছেন।
বললাম কথা আছে। তিনি বললেন ফোন দিচ্ছি। খানিক বাদে ফোন পেলাম।
প্রতিবেদক : টায়ার্ড নিশ্চয়
অন্তিক চক্রবর্তী: এই দুর্দিনে ক্লান্তি আমার ক্ষমা করুক প্রভু।
প্রতিবেদক : আপনার অনুপ্রেরণা
অন্তিক : আমার মা, আমার মাটি, আমার সমুদ্র,আমার সংগঠন ও সহযোদ্বারা (ভিপি রিপন ভাই, সেক্রেটারি উত্তম, তনয়, শুভ, বাবু, ক্লোরিন সহ যারা লড়ছে মানুষ বাঁচানোর লড়াইয়ে).
প্রতিবেদক – আপনি ও আমাদের কাজ স্মরনীয় হয়ে থাকবে।
অন্তিক – স্মরনীয় হওয়ার কি আছে। পৃথীবিতে ভালোবাসা ও ঘৃণা পাশাপাশি থাকে। আমি ভালোবাসি প্রাণ-প্রকৃতি,মানুষ। মানুষের বিপদে মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়ানোটাই মানুষের কাজ। সেইটুকুই করছি শুধু।