আবু সাদাত:
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে যখন মানবিক বিপর্যয় ঘটছে এবং এর প্রাদুর্ভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমগ্র বিশ্ব তথাপি তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল রাষ্ট্র আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ সার্বিকভাবে হিমশিম খাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে কক্সবাজারের একঝাঁক মানবতাবাদী তরুণ উদ্যোক্তা ও মানবাধিকার কর্মী ত্রাণকর্তায় আবির্ভূত হয়ে গঠন করেছেন “করোনা সহায়তা তহবিল” ।

এতে স্বল্প সময়েই ব্যাপক সাড়া দেয় সর্বস্তরের মানুষ। জমা হয় প্রচুর পরিমাণে নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী। উক্ত তহবিলে নাগরিক সমাজ, পুলিশ প্রশাসন, হোটেল ব্যবসায়ী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।

এরপর শুরু হয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা বিতরণ কর্মসূচি। এই খাদ্য সহায়তা বিতরণে রিকশা চালক, ভ্যান চালক, বিধবা থেকে শুরু করে হোটেল শ্রমিক, বীচ কর্মী , পথশিশু ও নানা পেশার নিম্নবিত্ত মানুষ, যারা করোনার কারনে কর্মহীন হয়ে বেকার জীবন যাপন করছে । এমন কেউই বাদ পড়েনি যা সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়নে যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং “করোনা সহায়তা তহবিল” গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক এইচ,এম নজরুল ইসলাম।

সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্নবিত্ত কর্মহীন মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই যেন তার একমাত্র লক্ষ্য। তার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কক্সবাজার বাসী। কক্সবাজারের প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে খাদ্য ঘাটতি রয়েছে সেখানেই প্রশাসনের পাশাপাশি ত্রাণকর্তা হিসেবে ছুটে যাচ্ছেন নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়ক ও রিপোর্টারস ইউনিটি কক্সবাজারের সভাপতি এইচ,এম নজরুল ইসলাম।

অন্যান্য দিনের মত আজও (০৭ এপ্রিল; মঙ্গলবার) দিনব্যাপী কক্সবাজার শহরের রূমালিয়ারছড়া,এবিসি ঘোনা,বাছামিয়া ঘোনা,সমিতি বাজার সহ বিভিন্ন জায়গার ১১০ টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।

এতে করোনার কারনে সৃষ্ট মহামারীর প্রাদুর্ভাব নিরসনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে এইচ,এম নজরুল ইসলাম বলেন, “বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট আসন্ন মহাদুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা মানবাধিকার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবি উদ্যোক্তাগণ সম্মিলিত ভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে কিছুটা হলেও দায়মুক্তি হবে বলে মনে করছি । আমরা মানবিক কারনে দায়বদ্ধতা থেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছি সর্বশেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে যাবো এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানাবো তারা যেন এ ধরনের কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।