নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজার জেলায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। তবে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। একই সাথে কক্সবাজার শহরেও বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে স্থানীয়রাও আতঙ্কে রয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার আক্তার কামাল বলেন, আমার এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ডেঙ্গু আতঙ্কে রয়েছে। এমনকি অনেক পরিবারের সদস্য ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
কক্সবাজার সমিতি পাড়ার মোবারেকা বেগম বলেন, আমার ৮ বছরের ছেলে ফরহাদ হোসেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখন অবস্থা একটু উন্নত হয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, কক্সবাজারের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে এক দিনে ভর্তি রয়েছে ৫২ জন। আইসিওতে রয়েছে ৩ জন। গত এক মাসে স্কুল ছাত্রসহ মারা গেছেন ৫ জন।
এদিকে গত ১ বছরে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২ হাজার ২৪৬ জন রোগীর মধ্যে ১১ হাজার ৬৫৮ জন রোহিঙ্গা। আর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ২৩ জনের মধ্যে ২২ জনই রোহিঙ্গা। বাকি ১ জন স্থানীয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান।
উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, তার স্ত্রী ও সন্তান কয়েকদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। প্রথমে ক্যাম্পের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত তার সন্তান ও স্ত্রীর অবস্থা ভালো নয়।
উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্প, ইস্ট ব্লক ডি/৮ এর বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ছোট ছেলেকে নিয়ে ৪ দিন ধরে হাসপাতালে আছি। এখনো জ¦র একটু কমলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি আমার ছেলে। তাকে নিয়ে ভয়ে আছি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ আশিকুর রহমান জানান, সদর হাসপাতালে অন্যান্য মাসের চেয়ে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। জাতীয় গাইডলাইন অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। মশা বিস্তারের স্থান ধ্বংস করা এবং মশারী সহ নানা প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাইরাসজনিত এই রোগ থেকে বাঁচতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, কক্সবাজারে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। বর্ষাকালে চিপসের প্যাকেটসহ প্লাস্টিকের নানা বর্জ্যে পানি জমে থাকে। আর এই প্যাকেটই এডিস মশা প্রজননের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মাঝে। উখিয়া-টেকনাফের প্রতিটি ক্যাম্পে ডেঙ্গু চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি এনজিও-আইএনজিওগুলো কাজ করছে। চিকিৎসার সঙ্গে প্রতিরোধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেখানে সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলা, ঘরের আশপাশে পরিষ্কার রাখা ও রাতের বেলায় ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেন এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।