নিজস্ব প্রতিবেদক :
লাখো পর্যটক আর ভক্তদের উপস্থিতিতে বিশে^র দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে হয়ে গেল সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে দুর্গোৎসবের।
সনাতন ধর্ম মতে, এবার দেবীদুর্গা জগতের মঙ্গল কামনায় হাতিতে চড়ে মর্ত্যে এসেছেন। এতে ঝড়বৃষ্টি হবে এবং শস্য ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, বিদায় নেবেন নৌকায় চড়ে। ফলে জগতের কল্যাণ সাধিত হবে।
বিসর্জনের দিনে বুধবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে ভীড় করেছিল সকল সম্প্রদায়ের লাখো মানুষ। একে একে সৈকতের তীরে আনা হয় জেলার দুই শতাধিক প্রতিমা। তারপর বিকেল ৫ টা ২০ এর দিকে একে একে বিসর্জন দেয়া হয় প্রতিমা।
তার আগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, সৈকতের সকল ধর্মের মানুষের জমায়েত বলে দেয়, এ দেশে জঙ্গীবাদের অবস্থান নেয়। মৌলভীবাদীরা এদেশে অরাজকতার প্রশ্রয় পায় না। একটি গোষ্ঠীর বাংলার মানুষের সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতিতে আঘাত করছে। বার বার তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাদের প্রতিহত করছে। আশাকরি আগামীতে এ ধরণের গোষ্ঠী আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম , র্যাব ১৫ এর অধিনায়ক খায়রুল ইসলাম সরকার। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান।
এদিকে বুধবার সকাল থেকে কক্সবাজার জেলার পূজামন্ডপগুলোতে ভক্তদের মাকে বিদায় দেওয়ার অশ্রুসিক্ত প্রদ্ধাঞ্জলি দিতে দেখা যায়। বুধবার দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন মন্ডপ থেকে প্রতিমা বহনকারী ট্রাকগুলো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দিকে আসতে থাকে। পুরো শহর জুড়ে নেয়া হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিকেল তিনটার পর থেকে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ভক্ত আর পর্যটকদের পদচারণায় লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। লাবনী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত সনাতন ধর্মবলম্বী, সৈকত আগত পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিসর্জন হলেও সৈকতে নানা ধর্ম-বর্ণ মানুষের মিলন ঘটে। বিসর্জন দেখতে আসা মালা রাখাইন বলেন, আমরা বন্ধু-বান্ধব প্রতিবছরই বিসর্জন দেখার জন্য সৈকতে আসি। এবারও এসেছি। অনেক ভালো লাগছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক বেন্টু দাশ বলেন, কক্সবাজারের ৩০৮টি পূজা মন্ডপে বিদায়ের সূর। সকালে দশমীবিহিত পূজা করে পূজার্থীরা। পূজা শেষে দেয়া হয় দর্পণ বিসর্জন। বিকেলে বিসর্জন দেয়া হয়েছে। কুতুবদিয়া-মহেশখালী ছাড়া বাকি মন্ডপগুলোতে থেকে প্রতিমা আনা হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে।
তিনি আরও জানান, বান্দরবান জেলার কয়েকটি উপজেলা থেকেও প্রতিমা এসেছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে সৈকতে এ উৎসবের সমাপনী হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় শারদীয়া দুর্গাপূজা। ১ অক্টোবর ষষ্টী, ২ অক্টোবর সপ্তমী, ৩ অক্টোবর অষ্টমী, ৪ অক্টোবর নবমী ও ৫ অক্টোবর দশমীর মধ্যদিয়ে আজ সমাপ্ত হয় ৫ দিনব্যাপী শারদীয়া উৎসব। কক্সবাজার জেলায় প্রতিমাপুজার সংখ্যা ছিল ১৪৮টি ও ঘটপুজার সংখ্যা ছিল ১৫৮টি।