• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে ভে‌‌জাল ‘প্রাণ দুধের’ ছড়াছড়ি, আতঙ্কে ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিদেক / ৯৫১ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০
প্রাণ দুধের প্যাকেটে দুধের পরিবর্তে পানি আর ময়দা পেয়েছে কাস্টমারেরা। একারণে প্রাণ দুধ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন নিয়মিত গ্রাহকেরা।

সিরাজুল ইসলাম

কক্সবাজার শহরের অলি-গলিতে ভেজাল প্রাণ দুধের প্যাকেট ছড়িয়ে পড়েছে। প্যাকেটে দুধের পরিবর্তে পাওয়া যাচ্ছে পানি। এই ভেজাল দুধ বাজারে ছড়িয়ে পড়ার জন্য ডিলারকে দায়ী করছেন দোকানদারেরা।

অন্যদিকে প্রাণ দুধের এমন ভয়ংকর প্রতারণায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। দ্রুত প্রাণ দুধ কোম্পানী ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী তুলছেন সাধারণ ভোক্তারা।

জানা গেছে, কক্সবাজারে প্রাণ দুধের ডিলার হিসেবে রয়েছেন কক্সবাজার শহরের মেসার্স হাজী কাশেম এন্ড সন্স নামে প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক জামায়াত নেতা মোস্তাক আহমেদ সওদাগর। এই প্রতিষ্ঠানের দাবী, এবারের অর্থাৎ ১০/১৫ দিন আগের চালানে ঢাকা থেকে ভেজাল দুধ পাঠানো হয়েছে। অসাবধানতাবশত: দুধগুলো বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অভিযোগও এসেছে।

শহরের একাধিক দোকানদারের সাথে কথা বললে তারা এবারের প্রাণ দুধের প্যাকেটে নষ্ট দুধ পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তারা জানান, ভেজাল দুধ কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। ভেজাল দুধের কারণে নিয়মিত কাস্টমারেরা অন্যান্য তরল প্রোডাক্ট নিয়েও সন্দেহ করছেন। এজন্য তারা ডিলারের উদাসীনতা ও গাফেলতিকে দায়ী করছেন। এখন প্রাণ দুধের বিকল্প খুঁজছেন গ্রাহকেরা। প্রাণ দুধের কাস্টমারেরা এখন বিকল্প কোম্পানীর দুধ সংগ্রহ করছেন।

জানা গেছে, শহরের ৯নং ওয়ার্ডের ঘোনারপাড়া এলাকায় বারী ট্রেডিং ও নোমান ষ্টোরে ৫০০ গ্রামের প্রাণ দুধের প্যাকেটে নষ্ট দুধ পাওয়া গেছে। এই দুই দোকানের অভিযোগ করে বলেন, কাসেম এন্ড সন্স প্রাণ দুধের দুধের ডিলার। তারা ৭দিন অন্তর অন্তর প্রাণ দুধ দিয়ে যায়। কোম্পানী ও ডিলার মিলে তাদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছেন।

ঘোনারপাড়া এলাকার বারী ট্রেডিং এর মালিক জামাল বলেন, গত এক সপ্তাহে বিক্রি করা তিনটি প্রাণ দুধের প্যাকেটে নষ্ট হাওয়ায় ফেরত দিয়েছে ক্রেতারা। শুধু তাই নয়, আর কখনো প্রাণ দুধ ক্রয় করবে না বলে টাকা ফেরত নিয়েছে। কিন্তু প্রাণ দুধের ডিলার কাশেম এন্ড সন্স এখনো দুধগুলো ফেরত নিচ্ছে না।

পৌর ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ দিনে দুটি দোকান থেকে পাঁচটি প্রাণ দুধের প্যাকেট ক্রয় করেছি। সেখানে দুইটি দুধের প্যাকেট খুলে দেখা গেছে দুধের পরিবর্তে পানি আর মায়দা। প্যাকেটের গায়ে ৪ মাস মেয়াদ থাকলেও দুধের দামে পানি বিক্রি করছে প্রাণ কোম্পানি।

প্রাণ দুধ কিনে ভেজাল পাওয়া কাস্টমারেরা জানান, দুধের প্যাকেটে এই ভেজাল দুধ দেখে মনে হচ্ছে দুধ উৎপাদনে গাভী না পুষেও সম্ভব। প্রকৃতপক্ষে আমরা ভেজাল দুধই কিনে খাচ্ছি।

জানা গেছে, দুধ থেকে যন্ত্র দিয়ে ছানা বের করে নেওয়ার পর, পড়ে থাকা পানিতে মেশানো হচ্ছে কস্টিক সোডা, ইথাইল অ্যালকোহল, হাইড্রোজেন ও পারঅক্সাইডসহ সামান্য গুঁড়ো দুধ। এর সাথে থাকে দুধের গন্ধযুক্ত রাসায়নিক এবং আরও কিছু পদার্থ, যা পান করছে শিশু, বয়স্ক থেকে শুরু করে রোগীরাও। চিকিৎসকদের মতে, প্যাকেটের ভিতরে এমন নষ্ট দুধ যদি শিশু তো বটেই, এই দুধ মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বয়স্কদের ওপরও।

কক্সবাজার শহরের বড় বাজার এলাকার “মেসার্স হাজী কাশেম এন্ড সন্স” এর মালিকের ছেলে মামুন ভেজাল দুধ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এইবারের চালানে অর্থাৎ ১০/১৫ দিন আগের চালানে তাদের কাছে ঢাকা থেকে এমন ভেজাল দুধ এসেছে। তবে তাদের দাবী, কোন চালানে ভাল বা কোন চালানে নষ্ট দুধ আসে তারা জানে না। এমন কি শহরের বেশ কিছু দোকানদার এবারের প্রাণ দুধের প্যাকেটে নষ্ট দুধ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বলে জানান ডিলার কতৃর্পক্ষের মামুন।

স্থানীয়দের মতে, আমাদের জেলায় নামিদামি কিছু প্রতিষ্ঠান এই ভেজাল দুধ বিক্রি করেন। তারা তো নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে এমন ভেজাল দুধ ফেলে দেয়ার জন্য কেনেন না। অবশেষে নানা হাত ঘুরে আমাদের মতো নিরীহ ভোক্তাদের গাঁটের টাকা খরচ করে কেনা সেই ভেজাল দুধ মা পরম মমতায় তুলে দেন ছেলে-মেয়েদের মুখে।

এসব নষ্ট প্রাণ দুধের বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো ইমরান হোসাইন বলেন, দুধের প্যাকেটে এমন অভিযোগ আগেও পেয়েছি। নষ্ট প্রাণ দুধের প্যাকেট বিক্রির বিষয়ে ডিলারের খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন