• শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে চাহিদা দেড় লাখ, আশানুরূপ বাণিজ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন খামারিরা

নিজস্ব প্রতিদেক / ৪৫৪ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

মোহাম্মদ ফরিদ: এবার কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে তেমন বসছে না গবাদি পশুর হাটবাজার। সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুমিত দেয়া হবে বাজার বসানোর। বাজারে অধিক ভীড় করাও যাবে না। এজন্য জেলা প্রশাসনের নানা নির্দেশনা রয়েছে। আর পশুর হাট কম হলে আগের তুলনায় জমজমাট হবে না বাজার। এতে আশানুরূপ বিক্রি হবে না কোরবানি পশু। ফলে বড় ধরণের লোকসান গুণতে হতে পারে ব্যবসায়ীদের। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে কক্সবাজারের প্রান্তিক খামারিরা।

কক্সবাজার প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৩ হাজার ১৩৫ জন খামারি রয়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে এর সংখ্যা আরও বেশি। এসব খামারি আসন্ন কোরবানির জন্য ১ লাখ ৫ হাজার ৫০টি গবাদিপশু প্রস্তুত রেখেছে। বিগত এক বছর ধরে খামারিরা গবাদিপশু লালন-পালন করে মোটাতাজা করছেন। এছাড়া মিয়ানমার থেকেও ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ এসেছে গবাদিপশু। সব মিলিয়ে এবার কোরবানির পশুর কোন সংকট সৃষ্টি হবে না।

সূত্র আরও জানায়, কক্সবাজারে নিয়মিত ৫৬টি গরুর হাট রয়েছে। তবে করোনার প্রাক্কালে কমে আসতে পারে হাটের পরিধি। হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধিসহ নানা নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে থাকবে ২টি করে মেডিকেল টিম। প্রতিটি টিমে থাকবে ১ জন ডাক্তার ও ১ জন উপ-সহকারি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনলাইনেও চালু হয়েছে গরুর হাট। কিন্তু করোনা ভাইরাস প্রকোপে আশানুরূপ বাণিজ্য নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন খামারিরা।

খামারিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, কোরবান উপলক্ষে তারা অনেক আগে থেকেই গরু মোটাতাজা করছেন। এতে অনেক খরচ হয়েছে। কিন্তু খরচের বিপরীতে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

সদর উপজেলার গরু ব্যবসায়ী নুরুল কবির বলেন, করোনায় ভাটা পড়েছে ব্যবসায়। লকডাউনের কারণে গরু বিকিনিকি করা যাচ্ছে না। দিন দিন খরচ বাড়ছে। কোরবানিতেও পালন করা সব গরু বিক্রি হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার গরু ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, কোরবানি উপলক্ষে তিনি প্রতি বছর ২০-২৫ গরু হাটে তুলেন। এবার একটিও গরু কেনা হয়নি। শুধু ৩টি গরু নিয়ে মোটাতাজা করে বিক্রি করা হবে। করোনার কারণে কমে যেতে পারে দাম।

আলির জাহাল গরু ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিবার তিনি বিভিন্ন হাট ঘুরে পাইকারি দামে গরু কিনে বিক্রি করতেন। এবার গরুর চাহিদা কম। তাই পরিস্থিতি বুঝে গরু নিতে হবে। নতুবা গুণতে হবে লোকসান।

জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম বলেন, গেল বার ১ লাখ ৩১ হাজার গরু কোরবানি করা হয়েছে। এবারও পর্যাপ্ত পরিমাণ গবাদিপশু মজুদ রয়েছে। তবে করোনা ভাইরাসে মনে হয় কোরবানি দেয়ার পরিমাণ কমে যেতে পারে। এ জন্য ২০ শতাংশ বিক্রি হবে না।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মাঠে থাকবে কক্সবাজার প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর। হাটগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে মেডিকেল টিম। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন