• শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

কক্সবাজারে এনগেজমেন্ট অনুষ্টানের ‘খাবারই’ কাল হলো দম্পতির

নিজস্ব প্রতিদেক / ৩০৫ বার ভিউ
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
গত ২৫ আগস্ট ইনগেজমেন্ট অনুষ্টানের ছবি।

বিশেষ প্রতিবেদক:
গেল আগষ্টের ২৫ তারিখ। কক্সবাজার শহরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে ভালবাসার মানুষ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন (২৪) এর সাথে এনগেজমেন্ট অনুষ্টানে বসেছিলেন মাহমুদা আনজুমান মিলি (২২)। হঠাৎ বর পক্ষের লোকজন চলে যেতে দেখে এনগেজমেন্টের আনন্দঘন পরিবেশে উৎফুল্লমিলি (কনে) বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তিনি জানতে পারেন খাবারের অজুহাত দেখিয়ে অনুষ্টানস্থল থেকে বরকে সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন তার বাবা-মা।

এরপর থেকে মিলি কাবিননামা ও যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের কাছে যান। সেদিন থেকে তিনি বহুবার তার বরসহ শ্বশুরবাড়ির সাথে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু বর সাজ্জাদ হোসেন তার প্রতি শুধু উদাসীনতা ও অবহেলা দেখিয়েছেন। উল্টো শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে লাঞ্ছনা এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রতিনিয়ত প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
সাজ্জাদ হোসেন কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলি সমিতির সভাপতি ও দক্ষিণ পাহাড়তলি এলাকার বাসিন্দা মো: ইউসুফের ছেলে।

মিলি দাবি করেছেন, বর সাজ্জাদের পরিবারের কথা মতো এনগেজমেন্ট অনুষ্টানের খাবারের ম্যানু ঠিক করা হয়েছে; যেখানে ১২ থেকে ১৪ রকমের আইটেম ছিলো। কিন্তু খাবারের অজুহাত দেখিয়ে তাকে (মিলি) ফেলে ছেলেকে নিয়ে গেছেন তার বাবা-মা। সাজ্জাদের সাথে দীর্ঘদিন প্রেম করে গোপনে কাবিন করাসহ টানাপোড়নের সংসারে মিলির কথামতো এনগেজমেন্ট অনুষ্টান আয়োজন করায় তার পরিবারের আর্থিক অনেক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এতে নিরুপায় হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন মিলি। যার নং ৭৭৮/২২।

মিলির পরিবার এবং মামলার নথি থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর কাউকে না জানিয়ে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর বিয়ে করেন মিলি এবং সাজ্জাদ। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অনেক প্রতিবন্ধকতার পর দুই পরিবারের সম্মতিতে গেল আগষ্টের ২৫ তারিখ তাদের বিয়ের এনগেজমেন্ট অনুষ্টান আয়োজন করে মিলির পরিবার। তখন সাজ্জাদের বাবার দাবি ছিলো, তাদের পক্ষ থেকে সমাজের নামী-দামি লোকজন আসবেন তাই খাবারের তালিকায় বাহারি রকমের আইটেম থাকতে হবে। সব দাবি মেনে নেন মিলির পরিবার। সাজ্জাদের পক্ষ থেকে ৮০ জন এনগেজমেন্ট অনুষ্টানে অতিথি আসার কথা থাকলেও ওইদিন ১৫০ জনের অধিক অতিথি আসেন বরপক্ষ থেকে। এতে খাবারের কিছুটা টানাপোড়ন হয়। তারপরও বরপক্ষ থেকে আসা অতিথিদের সাধ্যমতো আপ্যায়ন করতে চেষ্টা করেছেন।

অনুষ্টান শেষের দিকে হঠাৎ সাজ্জাদের পক্ষ থেকে আসা লোকজন তাদের যথাযথ আপ্যায়ন করা হয়নি দাবি করে একে একে সবাই চলে যেতে থাকেন। এক পর্যায়ে অনুষ্টানের স্টেজে বসে থাকা বর সাজ্জাদকে ফুসলিয়ে টেনে নিয়ে চলে যায় তার মা। এরপর থেকে সাজ্জাদ মিলির সব নাম্বার ব্লক করে দেন এবং পুরো পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর মিলি কেন সাজ্জাদের দোকানে গিয়ে মিলি যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন এমনটি দাবি করে তার মা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুনা যায় প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ডে।

মিলি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, সামান্য খাবারের অজুহাতে অনুষ্টান থেকে তার বাবা-মার তাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে কিভাবে ব্রেইন ওয়াশ করেছে জানিনা। এখন আমাকে সে চিনেও না। আমার কারণে পরিবারের আর্থিক ক্ষতি হওয়ায় আমার পরিবারও এখন আমার পাশে নেই। ইনগেজমেন্টে সবার সামনে এভাবে চলে যাওয়ার কারণে এখন আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

এবিষয়ে জানতে সাজ্জাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে মিলি তার স্ত্রী বলে স্বীকার করেন। অনুষ্টানে তার বাবা-মাকে যথাযথ সম্মান না করার করণে তিনি এই সম্পর্কের ইতি টানতে চাইছেন বলে জানিয়ে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে মিলি তাকে বিয়ে করেছেন বলেও সাজ্জাদ দাবি করেন।

কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী জামশেদ বলেন, ওই অনুষ্টানে আমিও অতিথি হিসেবে ছিলাম। যথাযথ সম্মান করা হয়নি দাবী করে হঠাৎ সাজ্জাদের বাবাকে কান্না করে চলে যেতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি মিমাংশা করে দিতে চেষ্টা করলেও মামলা পর্যন্ত গড়িয়ে যাওয়ায় তা আর হয়ে উঠেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন