• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

উখিয়ায় র‌্যাবের নাম ভাঙিয়ে প্রবাসীর লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেন প্রতারক চক্র

নিজস্ব প্রতিদেক / ৭৮৩ বার ভিউ
আপডেট সময় : সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি:

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর নাম ভাঙিয়ে উখিয়ার বালুখালীতে প্রবাসীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নুরুল আলম নামে এক প্রতারক। ভুক্তভোগী প্রবাসী ওই প্রতারক ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক বরাবরে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে র‌্যাব।

নুরুল আলম নিজেকে কমিউনিটি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ লোকজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে ‍নিচ্ছে বলে বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। কখনো র‌্যাবের সোর্স, কখনো ওসির কাছের মানুষ, কখনো ইউএনও’র কাছের মানুষ পরিচয় দেওয়াই নুরুল আলমের প্রতারণার অন্যতম হাতিয়ার।

এভাবে প্রতিদিন জুয়ার আসরে বসেন প্রতারক নুরুল আলম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে উখিয়ার দক্ষিণ বালুখালী জমিদারপাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে আব্দুল গফুর নামে এক সৌদি প্রবাসীকে র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক নুরুল আলম। প্রতারক নুরুল আলম পূর্ব বালুখালী এলাকার মৃত ইসলাম মিয়ার ছেলে। অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চক্রে তার সহযোগী ছিল দক্ষিণ বালুখালী এলাকার অছিয়র রহমান। এ দুই প্রতারক র‌্যাব অফিসের ইয়াবা তালিকায় ও্ই প্রবাসীর নাম আছে দাবী করে সেটি কাটানোর জন্য এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল গফুর লিখিত অভিযোগ করে ভয়েসওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকমকে একটি ভিডিও সাক্ষাতকার দেন।ওই স্বাক্ষাতকারে ভূক্তভোগী আব্দুল গফুর, ‌‌‍‍‌ “দীর্ঘ ২৪ বছর সৌদি আরবের প্রবাস জীবন শেষে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। এরমধ্যে একদিন হঠাৎ নুরুল আলম আমাকে ডেকে বললেন, আমার নাম নাকি র‌্যাবের ইয়াবা কারবারীদের তালিকায় দেখেছেন তিনি। প্রাণে বাঁচতে চাইলে র‌্যাবকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। অন্যথায় কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারীও দেন তিনি।”

ভুক্তভোগী আব্দুল গফুর বলেন, ‍’বিষয়টি শোনে আমি রীতিমত অবাক হয়ে যায়। সারা জীবন প্রবাস যাপন শেষে দেশে ফিরে এমন একটি সংবাদ শোনে খুব কষ্ট পায়। কিন্তু প্রতারক চক্রের বিভিন্ন কায়দায় হুমকিতে ভয় পেয়ে যায়। এক পর্যায়ে বিদেশ থেকে আমার ছোট মেয়ের বিয়ের জন্য আনা স্বর্ণ বিক্রি করে ও নানা উপায়ে এক লাখ টাকা জোগাড় করি। দুই কিস্তিতে তারা এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। প্রথম কিস্তিতে ৭৫ হাজার টাকা নেন নুরুল আলম। দ্বিতীয় কিস্তিতে ২৫ হাজার টাকা নেন তরে সহযোগী অছিউর রহমান। কিন্তু তারপরও ক্ষান্ত হয়নি চক্রটি। তারা আমাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে মানসিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেন।”

তিনি জানান, ঘটনাচক্রে একদিন স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন। পরে তারা (সাংবাদিক) একটি অনলাইন সংবাদ পোর্টালে আমার ভিডিও বক্তব্য প্রচার করেন। তারপর থেকে নুরুল আলম ও তার সহযোগীরা মিলে আমাকে রাস্তায় আটকিয়ে মারধর করার চেষ্টা করে। নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন।

নুরুল আলম নিজেকে র‌্যাবের জন্য গোপনে টাকা সংগ্রহকারী হিসেবে দাবি করে বলেন, “তুমি এই ঘটনায় বেশি বাড়াবাড়ি করলে কঠিন মামালায় আসামী করে দিবো। তাই আমি বাধ্য হয়ে এখন বিষয়টির বিচার চেয়ে র‌্যাব ১৫ এর সিইও, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার এবং গোয়েন্দা সংস্থা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।”

ফেন্সিডিল সেবন করছেন কমিউনিটি পুলিশের কথিত সদস্য পরিচয়ধারী নুরুল আলম।

আব্দুল গফুর আরো বলেন, আমার পাঁচজনই মেয়ে সন্তান। কোন ছেলে না থাকায় সংসারের রীতিমতো অনেক বেগ পেতে হয়। এই নুরুল আলম স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশের লোক দাবী করে আমার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর অনেকটা নিঃস্ব হয়ে গেছি।

তিনি আরো বলেন, নুরুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে তিনি বিভিন্ন লোকজন থেকে বিদেশ পাঠানোর নাম দিয়ে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যা এলাকার সকলের জানা আছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব বিস্তার করার কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত নুরুল আলম একজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারী ও মাদকসেবী। তার মাদক সেবনের ছবি ভয়েসওয়ার্ল্ডের সংগ্রহে রয়েছে। নিজের অফিসে প্রতিদিন বসান মাদক সেবন ও জুয়ার আসর। এছাড়াও আপন ছোট ভাই নুরুল আমিন ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হয়। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার কারাগারে আছেন। ওই ইয়াবাগুলো ছিল নুরুল আলমের।
স্থানীয় অনেক লোকজন জানান, বালূখালীতে ইয়াবা ও চোরাচালানীর কয়েকটি সিন্ডিকেটের মধ্যে নুরুল আলম ও আবছার মেম্বার সিন্ডকেট অন্যতম। তারা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে সাধারণ লোকজন বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিয়ে জিম্মি করে রাখে। তারা কোন কোন সময় নিজেদের পুলিশ সুপারের কাছের লোক, আবার কোন সময় উখিয়া থানার ওসির লোক দাবী করে এলাকায় এক ধরণের ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। আর সাধারণ মানুষ তাদের হাতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয়। এলাকাবাসীর দাবী, এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থি স্বাভাবিক রাখতে এসব অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত।

র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে তদন্তও শুরু হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সতত্য পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন