• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

আলোর মুখ দেখেনি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিদেক / ২১৫ বার ভিউ
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২
ফাইল ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবশেষ কক্সবাজার সফরে এসেছিলেন ২০১৭ সালের ৬ মে। ওই দিন একই সঙ্গে ১৬ টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তিনি। প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৫টির কিছু কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু ৫ বছরের বেশি সময় পরও আলোর মুখ দেখেনি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্প।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরকে ঘিরে যেসব দাবি আলোচিত হচ্ছে তার মধ্যে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ওই হাসপাতাল চালুর দাবিটি। কক্সবাজারের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসাপতাল চালু করতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডাক্তার মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজার, যশোর, পাবনা ও নোয়াখালী এ ৪ টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্যাডিটের আমব্রলা প্রক্টেজের অধীনে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিলম্বের কারণে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করতে দেরি হয়ে যায়।

‘ফলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্যাডিট থেকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়। এখন বিষয়টি একনেকে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। সেখানে অনুমোদন পেলে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে।’
কক্সবাজারে ২৫ লাখের বেশি মানুষ, যার সঙ্গে রয়েছে ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। এখানে দেশি-বিদেশি সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যটকের আনাগোনা রয়েছে। এখানের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল চিকিৎসা সেবার জন্য পর্যাপ্ত না বলে জানান কক্সবাজার পিপলস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই ৫ বছর আগে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। যেহেতু প্রকল্পটি এখন একনেকে রয়েছে, এটি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হলে, জেলাবাসী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা পাবেন।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ২০০৮ সালে চালু হওয়া এ মেডিকেল কলেজ পূর্ণতা পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছে। কিন্তু নানা জটিলতায় তা হয়নি।

তিনি বলেন, ২০১১ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় এবং মাত্র ৬ বছরের মধ্যে ২০১৭ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়। ২০১৩ সালে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় এবং মাত্র ৪ বছরের মধ্যে ২০১৭ সালে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশ (বিএমএ) কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান জানান, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ওই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। এখন সময় এসেছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালুর ঘোষণার। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই এ ঘোষণা দেবেন।

কক্সবাজারের উন্নয়নে বাড়তি নজর দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান কক্সবাজার চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এখানে যে প্রকল্প চলমান রয়েছে তা হলে বদলে যাবে এই শহর। এখানে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থাকবে না, তা হয় না। প্রধানমন্ত্রী তা বোঝেন।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন, একনেকে যাওয়া কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আর বিলম্ব হওয়ার সুযোগ নেই। ৭ ডিসেম্বর জেলাবাসী প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এমন ঘোষণা পাবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন