• মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

আত্মগোপনে কলেজ ছাত্রের ইয়াবা গ্যাং; আলোচনায় দুবাই জসিম

নিজস্ব প্রতিদেক / ৬২০ বার ভিউ
আপডেট সময় : সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

আরফাতুল মজিদ

কক্সবাজারের তারাবনিয়ারছড়া ফ্ল্যাট বাসা থেকে তিন কলেজছাত্র ইয়াবাসহ আটকের পর আত্মগোপনে চলে গেছে তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যরা। অনেকেই নিজের এলাকাও ত্যাগ করেছে। বিশেষ করে ভয়েস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকমে “কোটিপতি কলেজ ছাত্রের ইয়াবা গ্যাং; রোহানের উত্থান দুবাই জসিম” শিরোনামে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরপরেই সবাই আত্মগোপনে চলে যায়। সংবাদে সবর্ত্রে তোলপাড় তৈরি হয়। এই কলেজ ছাত্রের ইয়াবা গ্যাংয়ের নেপথ্যে দুবাই জসিমের কানেকশন উত্থাপিত হলে বিষয়টি সবার মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়।

টেকনাফের এক ব্যক্তি বলেন, সাইমন মোহাম্মদ জসিম ওরফে দুবাই জসিমের বাড়ি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মিঠাপানির ছড়া এলাকায়। টেকনাফ ষ্টেশনে একটি দোকানও ছিল তার। সবাই থাকে বাবা (ইয়াবা) ব্যবসায়ী হিসেবে চিনেন। এলাকায় আলিশানভাবে জীবন যাপন করত। নামে মাত্র একটি দোকান ছিল। আর দৃশ্যমান কিছুই ছিল না। কিন্তু চলাফেলা কোটিপতি স্টাইলে। বিভিন্ন সময় দেশের বাইরে অবস্থান করত। কিছু দিন দুবাই। এরপর মালেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করত। টেকনাফে বেশি দিন অবস্থান করত না। তবে সবাই ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে চিনেন।

  সাইমন মোহাম্মদ জসিম ওরফে দুবাই জসিম

তিনি আরো বলেন, টেকনাফে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সময় পলাতক ছিল এই দুবাই জসিম। যখন লাগাতার ক্রসফায়ার ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা ঘটে; তখন থেকেই আত্মগোপনে ছিল। কিন্তু কক্সবাজার অবস্থান করত বলে শুনেছি। জসিমের মতো আরো হাজারো ইয়াবা কারবারি পলাতক ছিল। টেকনাফ ষ্টেশনে উপরের বাজারে জসিম স্টোরের মালিক এই জসিম। একটি মাত্র দোকানে সে আজ কোটিপতি। দুবাই-মালেশিয়া নিয়মিত ভ্রমণ তার।

চলতি বছরের ২৮ মে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শহরের তারাবনিয়ারছড়া জামে মসজিদের পূর্ব পার্শ্বে হাজেরা পারভিনের মালিকানাধীন ৫ম তলা বিল্ডিং এর ৪র্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৬ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক কারবারে ব্যবহৃত ৪টি স্মার্ট মোবাইল, ২টি বাটন মোবাইল ফোন এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজনকে আটক করে।

তারা হলেন, টেকনাফ নতুন পল্লান পাড়া এলাকার মৃত বশির আহমদ এর ছেলে মোহাম্মদ শাহ আলম ওরফে রোহান (২৫), কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও সিকদার পাড়া এলাকার মোতাহের আহমদ এর ছেলে এমদাদুল হাসান ওরফে রিমন (২৪) এবং দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকার মো: রশিদের ছেলে তৌহিদুল হাসান (২২)। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে। এরমধ্যে শাহ আলম ওরফে রোহান কক্সবাজার সিটি কলেজের অনার্স (বিজ্ঞান বিভাগ) ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। বাকি দুইজনও কলেজের ছাত্র বলে জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, রোহান ও রিমনের এই ইয়াবা কারবারের উত্থানের পিছনে রয়েছে সাইমন মোহাম্মদ জসিম। যে দুবাই জসিম নামে পরিচিত। ওসি প্রদীপের আমলে পলাতক ছিল এই জসিম। পালিয়ে আশ্রয় নেন কক্সবাজার শহরের গাড়ির মাঠ এলাকায়। গাড়ি মাঠ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন জসিম। এরিমধ্যে (ওসি প্রদীপের আমলে) বিভিন্ন সময় দুবাই ও মালয়েশিয়া পালিয়ে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করে জসিম। তবে গাড়ির মাঠের ফ্ল্যাট বাসায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী থাকতেন। দুই মাস পরপরেই দুবাই ও মালয়েশিয়ায় সফর করত জসিম। অনেকেই তাকে দুবাই জসিম হিসেবে চিনেন। টেকনাফে ইয়াবা ট্যাবলেটের বড় ভেন্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল জসিম। ২৮ মে রোহানসহ তিনজন ইয়াবা নিয়ে আটকের পর নতুন করে আলোচনায় আসে দুবাই জসিম। এরপর সংবাদ শিরোনামও হয় দুবাই জসিম। সংবাদের পর থেকেই ফের আত্মগোপনে চলে যায় জসিমসহ রোহানের সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তবে প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গেছে- রোহানের সিন্ডিকেটটি বিশাল। বিভিন্ন জায়গায় তাদের সদস্য রয়েছে। তাদেরকে প্রায় শনাক্ত হয়েছে। এতে দুবাই জসিম, তৌহিদ ও আলমগীরসহ অনেক জনের নামও রয়েছে।

রোহান সিন্ডিকেটের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কক্সবাজার শহরে রোহানের বড় ভাই হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিল জসিম। জসিমের গাড়ির মাঠ বাসায় নিয়মিত যাতায়ত ছিল রোহানের। জসিমের ছিল নিজস্ব কয়েকটি প্রাইভেট কার ও মোটর সাইকেল। রোহানের বন্ধুরা জসিমকে তার বড় ভাই হিসেবে চিনত। কারণ- জসিমের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়ত ও লেনদেনসহ সব কিছু করত রোহান। টেকনাফ থেকে যখন জসিমের স্ত্রী আসত; তখন তাকে নিয়ে হোটেল সাইমনে থাকত জসিম। এই সবকিছু ম্যানেজ করত রোহান।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কক্সবাজার শহরে শাহ আলম ওরফে রোহানের একটি ইয়াবা সিন্ডিকেটের গ্রুপ রয়েছে। যাদের মাধ্যমে রোহান ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার করে। ওই সিন্ডিকেটে তানিয়া ও রিমি নামে দুইজন তরুণী রয়েছে। তানিয়া কক্সবাজার শহরের ঘোনা পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এক সময়। তানিয়ার আন্ডারে কাজ করত আরো ৪ থেকে ৫ জন মহিলা। এরমধ্যে একজন রিমি। রিমি টেকনাফ শাপলাপুর এলাকার বাসিন্দা। কক্সবাজার শহরে থাকত। যারা নিয়মিত রোহানের ইয়াবা সিন্ডিকেটে জড়িত ছিল। এমনকি রোহানের ক্রেডিট কার্ড হিসেবে ছিল রিমি।

      রোমানের সহযোগি আলমগীর

এদিকে শাহ আলম ওরফে রোহানসহ তিনজন ইয়াবা আটক হলেও অধরা রয়ে গেছে তার সহযোগি তারাবনিয়ারছড়া এলাকার সাকিব, বার্মিজ মার্কেট এলাকার বাবু, মহেশখালীর ছেলে তৌহিদ ও টেকনাফের আলমগীর। তৌহিদ একসময় বাজারঘাটা ওয়াল্টন শো-রুমে চাকরি করত। রোহানের ইয়াবা পাচারে জড়িত হয়ে চাকরি ছেড়ে দেয়। আলমগীর টেকনাফ লেঙ্গুরবিল আদর্শগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তবে কক্সবাজার সিটি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আলমগীর। রোহান ও আলমগীর একই ফ্ল্যাটে থেকে ব্যবসা করতেন ইয়াবা ট্যাবলেটের। তাদের ব্যবসা চলছে জমজমাটভাবে। তাদের ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাতায়ত ছিল টেকনাফ ও কক্সবাজার শহরের অনেক ইয়াবা কারবারির। বছরখানে আগে রোহান ও আলমগীরের সম্পর্ক ভেঙে যায়। যার কারণ হিসেবে; আলমগীরের একটি ইয়াবার বড় চালান রোহানের ইন্ধনে একটি গ্রুপ লুট করে। যার পিছনে ছিল রোহান। এতে তাদের দুইজনের সম্পর্ক ভেঙে যায়। তারাবনিয়ারছড়া এলাকার সাকিব ছিল রোহানের ইয়াবা পাচারকারী হিসেবে। শুক্রবার (২৮ মে) যে সময় পুলিশ ফ্ল্যাটে অভিযান চালান এর একটু আগে ফ্ল্যাট থেকে নেমে যান সাকিব। এতে রক্ষা পায় সে।

এদিকে ভয়েস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকমে “কোটিপতি কলেজ ছাত্রের ইয়াবা গ্যাং; রোহানের উত্থান দুবাই জসিম” শিরোনামে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরপরেই গা ঢাকা দিয়েছে এসব সদস্যরা। আত্মগোপন থেকেই সিন্ডিকেটের সদস্যরা মোবাইল ফোনে রক্ষা করছে যোগাযোগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন