• মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজির পায়তারা

নিজস্ব প্রতিদেক / ৭০২ বার ভিউ
আপডেট সময় : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সিয়াম সোহেল:

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হঠাৎ বন্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় পেঁয়াজ নিয়ে হৈচৈ পড়ে গেছে। এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চায় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী। তারা পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজির পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।

বড় বাজারে একদিনের ব্যবধানে বেড়ে গেছে দাম। সবচেয়ে বড় এই বাজারে একেক দোকানে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। কোন কারণ ছাড়াই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করায় বিপাকে পড়েছে ভোক্তা সাধারণ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায় পেঁয়াজ নিয়ে লংকাকাণ্ড। নানা অযুহাতে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। তবে খুচরা বিক্রেতারা দাম কারসাজির নেপথ্যে পাইকারী ও আড়তদারদের দোষছেন।

পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করারও অপচেষ্টা চালাচ্ছে পাইকারী ব্যবসায়ী ও আড়তদারেরা।
এক সপ্তাহ আগে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। আর সেই পেঁয়াজ সপ্তাহের ব্যবধানে দাম গিয়ে ঠেকেছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত। দামের এই বড় তারতম্য নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বড় বাজার ছাড়াও শহরের কানাইয়ার বাজার, কালুর দোকান বাজার, বাহারছড়া বাজার, রুমালিয়ারছড়া বাজার ও সদর উপজেলা গেইট এলাকার বাজারেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছে, আগের দামে তারা পেঁয়াজ কিনে রেখেছিল। এখন দাম বেড়ে যাওয়ায় সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হচ্ছে।

বড় বাজারের মাহবুব স্টোর ও বার আউলিয়ার দোকানের এক কর্মচারী জানান, সীমান্ত বন্ধ থাকায় খাতুনগঞ্জ এবং ঢাকা-চট্টগ্রামের আড়তদারদের কাছ থেকে পেঁয়াজ আনা হয়। আমদানি বন্ধ হওয়ায় তারা দাম বাড়িয়েছে। বর্তমানে তাদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পেঁয়াজ পাইকারী দরে আনা হচ্ছে। আমরা বিক্রি করছি মানভেদে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত।

পেঁয়াজ কিনতে আসা ইমরান নামে এক ক্রেতা জানান, ৩/৪ দিন আগেও পেঁয়াজ কিনেছি ৩০-৩৫ টাকায়। এখন সেই পেঁয়াজ দিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।

সুশীল মহল মনে করেন, একদিনের ব্যবধানে দেশে পেঁয়াজের সংকট হতে পারে না। আমদানি বন্ধ হওয়ার খবরে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কারসাজি করছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের তদারকি করা প্রয়োজন।

কক্সবাজার জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী বলেন, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড়বাজারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সাদাত ট্রেডার্স নামে একটি দোকানের গুদামে ৫৪ বস্তা পেঁয়াজ মজুদ পাওয়া গেছে। কিন্তু সেগুলো বাড়তি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ রাখার কোন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, অভিযানে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়ায় দু’টি দোকানকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কোন অবস্থাতেই পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করতে দেয়া হবে না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয় কাজ করছে।

বুধবার সারাদিন বড় বাজার, লিংরোড, বিমান বন্দর রোডসহ বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম তদারকি করা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের লাগাম টানতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন