আরফাতুল মজিদ:
উখিয়ার মরিচ্যা পাতাবাড়ি লেবুছড়ির ঝরণা ও বান্দরবানের নাফাকুম পাহাড়ি ঝরণার চেয়েও আকর্ষণী হয়ে উঠছে কক্সবাজার টেকনাফের নোয়াখালী পাড়ার ঝরণাটি। দু’পাশে উচুঁ নিচু সারি পাহাড় আর মাঝখানে বহমান স্রোতধারা ঝরণাটি স্থানীয় ভ্রমণ বিলাসি যুবকদের কাছে আকর্ষণীয় বেশ। প্রকৃতির এই অপরূপ ঝরণা ও পাহাড়ি সারির সৌন্দর্য্য দেখতে প্রতিনিয়ত ভীড় করছে যুবকরা। স্থানীয়দের ভাষায় এটি ‘বাঘরাণী’ ঝরণা হিসেবে পরিচিত।
কক্সবাজার শহর থেকে প্রাইভেট গাড়ি, সিএনজি টেক্সী, ইজিবাইক ও মোটর সাইকেল নিয়ে প্রথমে যেতে হবে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর ষ্টেশনে। কক্সবাজার শহর থেকে সিএনজি টেক্সী নিয়ে শামলাপুর ষ্টেশনে গেলে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এরপর শামলাপুর ষ্টেশন থেকে দক্ষিণে প্রায় ২০ কিলোমিটার গেলেই মারিশবুনিয়া ইলিয়াস কোবরা বাজার। ইলিয়াস কোবরা বাজার থেকে আধা কিলোমিটার পর বাঘঘোনা বাজার।
বাঘঘোনা বাজারের একটু পরেই দেখা মিলবে দু’পাশে সারি সারি উচুঁ নিচু পাহাড় আর পাহাড়। পাহাড়ের পাশেই গেলে দেখা যায় একটি ছোট্ট ছরা (ঝরণার পানির স্রোত) । ছোট্ট ছরা দিয়েই কয়েক মিনিট হাটতে থাকলে অপরূপ “বাঘরাণী” ঝরণা চোখে পড়ে। শামলাপুর ষ্টেশন থেকে ঝরণায় যেতে সময় লাগে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত। যেকোনো গাড়ি নিয়ে ঝরণার কাছে যাওয়া যায়।

সম্প্রতি কক্সবাজার শহর থেকে তিনটি বাইক নিয়ে ওই ঝরণাটি উপভোগ করতে যান সিটি কলেজ এলাকার বাসিন্দা ছাত্রলীগ নেতা আকতার কামাল তার বন্ধু আশিকুর রহমান, হানিফ, আরফাত ওয়াহিদ, ওমর ফারুক ও ইমতিয়াজ রকিব।
আকতার কামাল বলেন, মারিশবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু দূরে ঝরণাটি। দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। ঝরণার দু’পাশে সারি সারি উচুঁ পাহাড় গুলো ঝরণাটিকে দিয়েছে যৌবন ও অপরূপ সৌন্দর্য্য। বহমান স্রোতধারা ঝরণার পানিতে গোসল অন্য রকম আনন্দ দেয়।
কক্সবাজার শহর থেকে শাপলাপুর নোয়াখালী পাড়ার ঝরণার দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। মারিশবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু দূরে বাঘঘোনা বাজারের পাশে বাইক রেখে ব্রীজের নিচ দিয়ে হেঁটে গেলেই ঝরণা দেখা যায়।
আকতার কামাল আরও বলেন, আমি বান্দরবানের নাফাকুম ঝরণা, উখিয়ার মরিচ্যা পাতাবাড়ি ঝরণায় গিয়েছিলাম। কিন্তু বেশি আকর্ষণীয় এই ‘বাঘরাণী’ ঝরণাটি। না গেলে বুঝা যাবে না এই ঝরণাটির আকর্ষণ ও যৌন্দর্য্য কি। হয়ত অবহেলার কারণে এটি আজ পিছিয়ে রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও প্রচার পেলেই কক্সবাজার পর্যটনে নতুন মাত্রাযোগ হবে।
মারিশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা কলেজ ছাত্র জয়নাল আবেদীন জানান, এই ঝরণাটির সৃষ্টির কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। জম্মের পর থেকে সবাই ঝরণাটির সাথে পরিচিত। কিন্তু তেমন প্রচার নেই। মানুষও তেমন যায় না। গত কয়েকমাস ধরে ঝরণাটি এলাকার বাইরের মানুষের চোখে বেশ পরিচিত হয়ে উঠছে।
কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্থানীয় যুবকরা দল বেধে আসতে শুরু করছে। আসার সময় খাবারও নিয়ে আসে যুবকরা। তবে আশাপাশে ষ্টেশন থাকায় খাবারের ব্যবস্থা আছে। আপাতত কিছু সংখ্যাক পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও ভীড় নেই পর্যটকদের। হয়ত প্রচার পেলে বান্দরবানের মতো পর্যটকরা আসতে শুরু করবে।

স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার ইলিয়াস হোসাইন বলেন, আমাদের জম্মের আগে থেকে ঝরণাটি রয়েছে। ঝরণাটি বেশ বড় ও আকর্ষণীয়। ইলিয়াস কোবরা বাজার থেকে কিছু দূরে বাঘঘোনা বাজার। বাঘঘোনা বাজারের পাশেই ঝরণাটি দেখা যায়।
এটি ‘বাঘরাণি’ ঝরণা হিসেবে এলাকায় পরিচিত রয়েছে। একসময় এই এলাকায় একটি বাঘ মারা হয়েছে বলে প্রচার রয়েছে। সেই সূত্র ধরে বাঘঘোনা বাজার আর ‘বাঘরাণী’ ঝরণা প্রচার পেয়ে আসছে।
তিনি বলেন, ঝরণাটি উপভোগ করতে এক থেকে দুই ঘন্টা সময় লাগে। তবে ভারী বর্ষায় ঝরণায় একটু ঝুঁকি রয়েছে। কারণ বৃষ্টিপানি ও ঝরণার স্রোত বেশি থাকায় তখন বিভিন্ন জায়গায় অনিরাপদ হয়ে উঠে। তবে আশপাশের এলাকা নিরাপদ রয়েছে। এলাকার সবাই শান্তিপ্রিয় মানুষ।