রহমান সাকিব:
বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছেন ক্রেতারা। মাসখানেকের ব্যবধানে দাম চার গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ টাকা কেজি। বন্যা আর বৃষ্টিতে ক্ষেত ডুবে গিয়ে মরিচগাছ নষ্ট হচ্ছে। অনেক এলাকায় ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহও করা যাচ্ছে না। আবার সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে দামে। বিক্রেতারা এমন যুক্তি দেখালেও অতিরিক্ত দাম আদায়ের চিত্র দেখা গেছে কক্সবাজার শহরের বাজারগুলোতে।
শহরের বাজারগুলোতে প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে কোন না কোন পণ্যের দাম। এবার এক লাফে কেজি প্রতি কাঁচা মরিচের দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৫০ টাকা। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও অযৌক্তিভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
বুধবার সকালে শহরের বড় বাজার, কালুর দোকান, কানাইয়ার বাজার, উপজেলা বাজার ও বাহারছড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কোরবানের ঈদের আগে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার পায়তারা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। যার অংশ হিসেবে দফায় দফায় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করছে বলে জানা গেছে।
গত এক সপ্তাহ আগে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আর সপ্তাহের ব্যবধান বেড়েছে দ্বিগুণ। এ নিয়ে ভোক্তা সাধারণের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ।
এছাড়া বেড়েছে অন্যান্য পণ্যের দাম। বাজারগুলোতে প্রতি কেজি চিনি ৫৮ টাকা, পিয়াজ ২৫ টাকা, আলু ৩০ টাকা, আদা ১৩৫ টাকা, রসুন ৭০ টাকা, হলুদ ১৪০ টাকা, আদা ১৩০ টাকা, ময়দা ৪৪ টাকা, আটা ৩৩ টাকা, মশুর ডাল ১১০ টাকা, শিম ৯০ টাকা, ধনিয়া ১০০ টাকা, শুকনা মরিচ ২৩০ টাকা, ডাল ৮০ টাকা, সয়াবিন তেল ৮০ টাকা, সরিষার তেল ১৪০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, বেগুন ৩৫ টাকা, জিরা ৩২০ টাকা, মি. জিরা ১৪০ টাকা, লং ৭৫০ টাকা, এলাচি ৬০০ টাকা, ডাল চিনি ৩৮০ টাকা, পটল ৪০ টাকা ও ঢেড়স ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বড় বাজারে বাজার করতে আসা ইউনুছ নামে এক ক্রেতা বলেন, পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক থাকলেও পণ্যের দাম বাড়ছে। মজুদও রয়েছে পর্যাপ্ত। তবুও অকারণে বাড়ানো হচ্ছে দাম। তাই নিয়মিত বাজার তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
কালুর দোকানে বাজার করতে আসা রায়হান নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ৪ দিন আগে কাঁচা মরিচ নিয়েছিলাম কেজি প্রতি কাঁচা মরিচ কিনতে হয়েছে ১৫০ টাকা। হঠাৎ কেন দাম দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে তা তদারকি করা দরকার। এছাড়া টমেটোর দামও বেড়েছে অধিক।
বাংলাদেশ সময় ১৫৩৯ ঘণ্টা, ২৩ জুলাই ২০২০
আরএস/আএন