• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

বিশ্বের বৃহৎ জলবায়ু পুনর্বাসন প্রকল্প কাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিদেক / ৩৩০ বার ভিউ
আপডেট সময় : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০

এম.এ আজিজ রাসেল:

কক্সবাজারের জলবায়ু উদ্বাস্তুরা পাচ্ছে স্বপ্নের নতুন ঠিকানা। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর প্রধানমন্ত্রীর বদন্যতায় স্থায়ীভাবে মাথা গোজার ঠাঁই হচ্ছে উপকূলে নানা দুর্যোগের সাথে লড়াই করা মানুষগুলোর।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কক্সবাজারে বৃহৎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল প্লাটফরমের মাধ্যমে গণভবন থেকে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার সদরের খুরুশকূলে নির্মিত ২০টি ভবন উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের কাজ শুরু হবে।

এসময় প্রথমে ১৯ জন উপকারভোগীদের মাঝে বুঝিয়ে দেয়া হবে বসতঘরের চাবি। ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনুষ্ঠানস্থলে সাজসজ্জাসহ নানা প্রস্তুতিও হয়েছে।

এখানে সবচেয়ে আকর্ষণের বিষয়টি হচ্ছে, নির্মিত ২০টি অত্যাধুনিক ভবনের নামকরণ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই করেছেন। নামগুলো হচ্ছে-১) সাম্পান, ২) কেওড়া, ৩) রজনীগন্ধা, ৪) গন্ধরাজ, ৫) হাসনাহেনা, ৬) কামিনী, ৭) গুলমোহর, ৮) গোলাপ, ৯) সোনালী, ১০) নীলাম্বরী, ১১) ঝিনুক, ১২) কোরাল, ১৩) মুক্তা, ১৪) প্রবাল, ১৫) সোপান, ১৬) মনখালী, ১৭) শনখালী, ১৮) দোলনচাঁপা, ১৯) ইনানী ও ২০) বাঁকখালী।

বিশ্বের বৃহত্তম জলবায়ু পুনর্বাসন প্রকল্প কক্সবাজারের খুরুশকুলে বাঁকখালী নদীর তীরে ২৫৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প। বাঁকখালী নদীর তীরে ২৫৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প ২০২৩ সালে পুরো প্রকল্পের যখন শেষ হবে, তখন সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের বসবাসের সুযোগ পাবে ৪ হাজার ৪০৯টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার, যারা কক্সবাজার বিমানবন্দরের পালে ফদনার ডেইল, কুতুবদিয়া পাড়া ও সমিতি পাড়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বহু বছর ধরে।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর বাস্তুহারা মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে এসব এলাকায় সরকারি খাস জমিতে আশ্রয় নেয়।

এখানে প্রায় ১০০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে আধুনিক পর্যটন জোন। ১৪টি খেলার মাঠ, সবুজ জায়গা, মসজিদ, মন্দির, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পুলিশ ও ফায়ার স্টেশন, তিনটি পুকুর, নদীতে দুটি জেটি, দুটি বিদ্যুতের সাবস্টেশন থাকবে এখানে। প্রকল্পের আবাসিক ভবনগুলো সব ৫ তলা হলেও একটি ভবন হবে দশ তলা, যার নাম হবে শেখ হাসিনা টাওয়ার। এই ভবনের অবস্থান হবে পর্যটন জোনে।

২০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ৩৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য পরিশোধন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, তীর রক্ষা বাঁধ, ছোট সেতু, ঘাটলা ও খাল থাকবে পুরো প্রকল্প এলাকায়।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পুরো এলাকাজুড়ে চলছে নির্মাণযজ্ঞ। শহর থেকে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাওয়ার জন্য সুপ্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের ভেতরের রাস্তা নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে। কাটা হয়েছে পুকুর। জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য নদীর পাশে সাত মিটার উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া ভবনগুলোর আলাদা আলাদা নামও দেওয়া হয়েছে। কোনোটির নাম দেওয়া হয়েছে ইনানী। কোনোটার নাম বাঁকখালী। সাম্পান, ঝিনুক, কোরাল- এরকম নামও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীই এসব নাম ঠিক করে দিয়েছেন বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।

প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন বলেন, এটাই দেশের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য দেশের প্রথম আশ্রয়ণ প্রকল্প। “জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর জন্য এখানে যে পুনর্বাসন, এটাকে আমরা বিশ্বের বৃহত্তম জলবায়ু পুনর্বাসন প্রকল্প বলতে পারি। এ ধরনের প্রকল্প পৃথিবীতে বিরল।”

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, বাংলাদেশের নাম রয়েছে তার সামনের কাতারে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের ঝুঁকির কথা যেমন আসছে, তেমনি আলোচিত হচ্ছে দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বাংলাদেশের মানুষের টিকে থাকার গল্পও।
তিনি আরও বলেন, ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের প্রতিটি ফ্ল্যাটে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সিলিন্ডারের সুবিধা থাকবে। প্রকল্প এলাকায় থাকবে ফায়ার স্টেশন, পুলিশ ফাঁড়ি। প্রতিটি ভবনের ওপর সৌর বিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের সঙ্গে নদীর ধারে ঝাউবন করার নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে মাহবুব হোসেন বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভারনারেবল ২০ গ্রুপের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।”

প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আবাসনের জন্য এই বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষে শুরু হয় ভবন নির্মাণ।

নির্মাণের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, “এটি অত্যন্ত নয়নাভিরাম একটি জায়গা। এই জায়গাটিকে সুরক্ষিত করার জন্য মাটিকে অনেক উঁচু করা হয়েছে। প্রতিটি ভবনের নিচের তলায় কোনো ফ্ল্যাট রাখা হয়নি। ফলে ঘূর্ণিঝড় হলে জলোচ্ছ্বাসের পানি ঢোকারও আশঙ্কা নেই।”
সুপেয় পানির জন্য ইতোমধ্যে ১০টি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। দুটি পুকুরও খনন করা হয়েছে। স্কুল তৈরি করা হয়েছে। প্রচুর তালগাছ ও ঝাউগাছ লাগানো হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, আশ্রয়ণ কেন্দ্রে যারা ফ্ল্যাট পাবেন তাদের ঋণ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে।
যারা ফ্ল্যাট পাচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই মসজীবী। সে কারণে সেখানে একটি শুঁটকি মহালও থাকবে। সেজন্য বিক্রয় কেন্দ্র ও প্যাকেজিং শিল্পও গড়ে তোলা হবে।

তবে অন্য পেশার মানুষও আছেন নতুন ঠিকানায় ওঠার স্বপ্নে বিভোর মানুষগুলোর মধ্যে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এর মধ্যে সংলগ্ন ৬৮২ একর খাস জমি বিমানবন্দরের জন্য বরাদ্দ সহকারে খতিয়ান চূড়ান্ত করা হয়েছে। চিহ্নিত এপরিমাণ জমিতে বর্তমানে অবৈধভাবে বসবাসরত ৪৪০৯ পরিবারের লোকজনকে পুনর্বাসন করার জন্য বাঁকখালী নদীতীরের খুরুশকূলের ২৫৩ দশমিক ৩৫ একর জমিতে তৈরি করা হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্প।

বাংলাদেশ সময় ১৩৪৪ ঘণ্টা, ২২ জুলাই ২০২০

আআর/আএন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন