• শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়াচ্ছে ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিদেক / ৪৮৯ বার ভিউ
আপডেট সময় : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০

এম.এ আজিজ রাসেল: কক্সবাজারে লকডাউন শিথিল হওয়ার পর কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষ। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। কিন্তু স্বস্তি নেই বাজারগুলোতে। পণ্য পরিবহনের অজুহাতে দফায় দফায় দ্রব্যমূল্য বাড়াচ্ছে ব্যবসায়ী। করোনাকালীন নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির থাকায় বিপাকে পড়েছে ভোক্তা সাধারণ।

শহরের বড় বাজার, কালুর দোকান বাজার, বাহারছড়া বাজার, কানাইয়ার বাজার ও উপজেলা বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরণের পণ্যের দাম বাড়ছে দৈনন্দিন। বাজারে ১০০-৮০ টাকার নিচে কোন সবজি মিলছে না। মাছের বাজারও উর্ধ্বমূখী। ৫০০-৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না কোন মাছ। ভাল মানের মাছ নিতে হলে গুণতে হবে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা। কোরবানী উপলক্ষে এখনও স্বাভাবিক রয়েছে মসলার বাজার।

তবে এই সপ্তাহর মধ্যে দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা ক্রেতাদের। চাউল বাজারেও তেমন সুখবর নেই। সবধরণের চাউল বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২০-৫০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীদের অভিমত, এখন পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হয়নি। এ জন্য মজুদ করা যাচ্ছে না পণ্য। পণ্য আসলেই একদিনের মধ্যে সাবাড় হয়ে যাচ্ছে। যোগানের বিপরীতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বাজারে কাঁচা মরিচের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া প্রতি কেজি টমেটো ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, তিত করলা ৭০ টাকা, কাকরুল ৬৫ টাকা, চিচিঙা ৭০ টাকা, দেশী আলু ৪৫ টাকা, কচুরলতি ৪০ টাকা, ঢ্যাড়স ৬০ টাকা।

কালুর দোকানে সবজি কিনতে আসা সাইফুল নামের এক ক্রেতা বলেন, করোনার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সবজির দাম বৃদ্ধি করছে। এতে এক প্রকার সাধারণ মানুষ ঝিম্মি হয়ে রয়েছে তাদের হাতে।

বড়বাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা সাদ্দাম বলেন, লকডাউন চলাকালে সবজি আসা বন্ধ ছিল। এখনও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হয়নি। তাই একটু দাম বাড়ছে। পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হলে কমবে সবজির দাম।

সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বাজারগুলোতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সামুদ্রিক মাছ তেমন নেই। বাজারে বিক্রি হচ্ছে খামার ও পুকুরে উৎপাদিত তেলাপিয়া, পাঙাশ, রুই, কাতলা, বাটা, ট্যাংরা, চিংড়ি। দামও আকাশছোঁয়া। সামুদ্রিক মাছ লইট্যা, রূপচান্দা, কোরাল মাছ পাওয়া গেলেও দাম নাগালের বাইরে।

বড় বাজারে মাছ কিনতে আসা ফরিদ নামের এক ক্রেতা বলেন, ছোট মাছের দামও ৫০০ টাকা। ২০০ টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকার উপরে। অনেক ব্যবসায়ী মজুদ রেখে মাছের দাম বাড়াচ্ছে। বড় আকারের মাছ ১০০০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না।

মাছ ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিন বলেন, ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। এ জন্য বাজারে কাঙ্খিত মাছ মিলছেনা। নিষেধাজ্ঞার পর পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।

বাজারে মুরগী, গরুসহ মসলার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চাউলে দাম কিছুটা বেড়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে জাত ও মানভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল (সাধারণ) বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকায়, মিনিকেট (উত্তম) বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা। নাজিরশাইল প্রতিকেজি (ভালো) ৬০ থেকে ৬২ টাকা, সাধারণ ৫৪ থেকে ৫৮ টাকায়, মাঝারিমানের পাইজাম ও লতা ৪২-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে বিক্রি হতো ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। মোটা স্বর্ণা ও ইরি চাল ৩২-৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৩২-৩৫ টাকা।

পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট মানভেদে ৫০ টাকা। যা গত মাসে বিক্রি হয়েছিল ৪৫ টাকা, আর গত সপ্তাহে ৪৮ টাকা। নাজিরশাইল ৪৭ থেকে ৫১ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৪৭ থেকে ৪৯ টাকা। গত সপ্তাহে ২৮ চাল প্রতিকেজি ৩২ থেকে ৩৪ টাকা বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে বেড়ে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইজাম ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা স্বর্ণা প্রতিকেজি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ২৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি চাল ব্যবসায়ী কাজল পাল বলেন, আগে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ চালের গাড়ি আসতো। কিন্তু এখন শুধু ৪-৫ টি গাড়ি আসছে। তাও অনিয়মিত। তাই চালের দাম কিছুটা বাড়ছে।

বাংলাদেশ সময় ২১৩৬ ঘণ্টা, ৬ জুলাই ২০২০

আএন/আআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন