• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

আমাদের কাছে ‘কুকুর’ও নিরাপদ নয়

নিজস্ব প্রতিদেক / ৬১১ বার ভিউ
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

শাহীন মাহমুদ রাসেল:

ধর্ষণ রুখতে যখন একের পর এক কড়া আইন প্রণয়ন হচ্ছে দেশে, ঠিক তখনই নতুন ব্যধি রুপে ধরা দিচ্ছে ‘ধষর্ণ’! এতটাই বিকৃত মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে, এখন পশুদেরও ধর্ষণ করতে পিছপা হচ্ছে না৷

প্রতিদিন কোথাও না কোথাও নারী এবং শিশুরা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়৷ তাই বলে কি প্রাণীও যৌন শিকারীদের থেকে রেহাই পাবেনা? মানবতার লজ্জাজনক এই ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়কের জামায়াত অফিসের ভেতর। সেখানে একটি কুকুরকে নৃশংসভাবে ‘ধর্ষণ’ করা হয়।

সোমবার (২৯ জুন) একটি কুকুরকে ধর্ষণের ভিড়িও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশে আসে।

কিছুদিন ধরে গবাদিপশু ধর্ষণের ঘটনা শুনে আসছি। কিন্তু এবার ধষির্তা হল একটি কুকুর৷ তাও কিনা তালাবদ্ধ জামায়াত অফিসের ভেতরে। যেখানে বাংলাদেশের একটি ধর্ম-ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের কার্যালয়। এমন ঘটনায় অভিযুক্ত নরপশু ইতিমধ্যে পালাতক রয়েছে বলে জানা পেছে৷

আমরা প্রায়ই মানুষের কুৎসিত আচরণ দেখে বলে থাকি- মানুষ নামের পশু একটা! মানব চরিত্রের কদাকার রূপটিকে বোঝানোর জন্যে আমরা প্রায়ই পশুত্ব শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আসলে কি তাই? মানুষ যতটা হিংস্র আর চরিত্রহীন হতে পারে, কোনো পশুও কি তা পারে? তবু কেন বলি মানুষ সেরা জীব? বিচারহীনতার সমাজে বেড়ে উঠা ভয়ংকর মানুষগুলোকে পশুর সাথে তুলনা করা নিষ্পাপ পশুর প্রতি অবিচার নয়?

ধর্ষণ রোধে আমাদের অপর্যাপ্ত আইন দেখে দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছুই করার নেই ৷ কোথায় আমাদের আইন প্রণেতারা? এখন কী করছেন তাঁরা? টেলিভিশন দেখলেই তাদের বড় বড় বাণী শোনা যায়। ধর্ষণের খবর এলেই শুরু হয় সাময়িক তোলপাড়। তারপর ধীরে ধীরে সবাই তা ভুলে যান।

এই শহরে নারী শিশু থেকে শুরু করে কুকুর পর্যন্ত নিরাপদ নয়। তারপরও নিজেকে মানুষ বলে দাবি করব? সেমিনারে বড় বড় কথা বলবো? সেলিব্রিটি হিসেবে সমাজের আদর কুড়াবো-এটা কোন জাতের সভ্যতা? কেন ধর্ষণের বিষয়ে কঠোর হতে পারছে না রাষ্ট্র? কোন অবস্থাতেই ধর্ষকের বেঁচে থাকা চলবে না, এমন আইন কেন বাস্তবায়ন করতে পারছি না?

আমাদের দেশ আজও পশুর বাসযোগ্য হয়নি। একটি কুকুর ধর্ষণের এই ভিড়িও দেখে আমার বলতে ইচ্ছা করছে বাহবা সমাজ, কি চমৎকার পশু-বান্ধব তুমি! ক্যানিবলরা মানুষের মাংস খায়। আমরা তাদের চেয়ে কম কিসে?

মানুষরূপী পশুদের লিঙ্গ কেটে ফেলা উচিত। যারা একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাদের এই অঙ্গ থাকাই উচিত না। জঙ্গলের পশুও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সঙ্গী ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে মিলিত হতে চায় না। কিন্তু মানুষরূপী পশু প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। পুরুষ এতটা পশু হলো কীভাবে? এর উত্তর অবশ্য আমার জানা নেই।

লেখক: সাংবাদিক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন