নিজস্ব প্রতিবেদক
রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম উমখালীর জামে মসজিদের কমিটির সভাপতির সাথে এলাকাবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। ২৬ মে (মঙ্গলবার) বিকাল ৪টায় এ ঘটনা ঘটে। মসজিদের ইমামকে সভাপতি কর্তৃক মারধরের অভিযোগে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে গেলে এই সংঘর্ষ ঘটে বলে জানায় স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, বর্তমান কমিটি বিগত কয়েক বছর যাবৎ মুসল্লিদের যৌক্তিক দাবিগুলো অগ্রাহ্য করে তাদের মনগড়া একক সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছে। মুসল্লিদের কোনো মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমান উল্লাহ্ সওদাগর মুসল্লিদের কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো হুমকি ধমকি দিয়ে থাকে।
এবারের ঈদের জামাতের পর মসজিদের ইমামের ছুটিকে নিয়ে কেন্দ্র করে অযৌক্তিকভাবে তাঁকে চাকরিচ্যূত করে। এতে জনগণ কমিটির সভাপতির কাছে ইমামকে চাকরিচ্যূত করার কারণ জানতে চাইলে সভাপতি তাদের গালিগালাজ করেন এবং এক পর্যায়ে ইমামকে ‘তুই’ ‘তুকারি’ করে মারতে যায়। এসময় বেশকিছুক্ষণ থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। পরে মাগরিবের নামাজের সময় ইমাম নামাজ পড়াতে গেলে সভাপতি মসজিদের ভেতর ইমামকে গলা চেপে ধরে মারধর করে । পরে এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বর্তমান কমিটি বাতিল ঘোষণা করে নতুন কমিটির দাবি জানায়।

৯৮ শতাংশ মুসল্লীর সম্মতিতে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ০২ নং ওয়ার্ডের এমইউপি আজিজুল হক দুদু মিয়া এবং যুবলীগ নেতা মাস্টার রাহমত উল্লাহর নেতৃত্বে নতুন করে অস্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির নেতৃত্বে আগামী ১০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ জানান কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে প্রতিবাদকারী মাহমুদুল হক সহ অন্যান্যরা হামলার আশঙ্কায় আছে বলে জানা গেছে। আমান উল্লাহর গোষ্ঠী যেকোনো সময় প্রতিবাদকারীদের হামলা করতে প্রস্তুত।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা জানান, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম উমখালীর জামে মসজিদের ঘটনার বিষয়টি শুনেছি। অবশ্যই তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।