শাহীন আবদুর রহমান:
করোনা প্যানডেমিক এর সংকটকাল অতিক্রম করছি আমরা সবাই। ইউরোপ আমেরিকা চীন সহ সারাবিশ্বে নীরব তান্ডব চালিয়ে বাংলাদেশে করোনা তার সম্মুখ যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। রীতিমতো স্থবিরতা বিরাজ করছে বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বে।
নিয়মিত ও সময়োপযোগী সতর্কতা বার্তা ও নির্দেশনা প্রদান সত্ত্বেও আমাদের অবিবেচনাপ্রসূত আচরণ, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করা, স্বাস্থ্য বিভাগ বা প্রশাসনের নির্দেশনা না মানা ইত্যাদি কারণে করোনা বাংলাদেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। এর শেষ কোথায় বলা মুশকিল।
তাই এই মূহুর্তে করোনাকে বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিয়ে করোনার সঙ্গেই আমাদের অনির্দিষ্টকাল বসবাস করতে হবে। করোনার সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে কয়েকটি বিষয় আমাদের মনে নাড়া দেয়, কয়েকটি প্রশ্ন আমাদের মনে উঁকি দেয়। এই প্রশ্নগুলোর সর্বশেষ তথ্যনির্ভর উত্তর জানা থাকা তাই জরুরি।
বিভিন্ন পৃষ্ঠতল:
প্লাস্টিক বা স্টেইনলেস স্টীল এ করোনা ৭২ ঘন্টা, পর্টিকেল বোর্ড এ ২৪ ঘন্টার কম সময় এবং তামার উপরে ৪ ঘন্টার কম সময় বেঁচে থাকতে পারে। মৃদু (০.০৫%) ক্লোরিন দ্রবণ বা এলকোহল স্যানিটাইজার দিয়ে এসব পরিস্কার করা যায়। কাগজের উপর করোনার বেঁচে থাকার ব্যাপারে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সবক্ষেত্রেই এলকোহল বেইজড হ্যান্ডরাব দিয়ে হাত পরিস্কার করা বা সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি।
গ্রোচারী বা মুদি দোকান সামগ্রী:
খাবার বা খাবার প্যাকিং এর মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের কোন প্রমাণ এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবুও সম্ভব হলে এলকোহল স্যানিটাইজার দিয়ে ট্রলি বা ব্যাগ পরিস্কার করতে হবে। বাসায় এসে নিয়মমতো হাত পরিস্কার করতে হবে।
শাকসবজি ফলমূল:
পুষ্টিকর খাদ্য তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে শাকসবজি ফলমূল। অন্যান্য যেকোন সময়ের মতো পরিস্কার পানি দিয়ে ভালভাবে এসব পরিস্কার করতে হবে, বিশেষ করে কাঁচা খাওয়ার ক্ষেত্রে। এ ব্যাপারে আলাদা কোন নির্দেশনা নেই। খাওয়ার আগে বরাবরের মতোই হাত পরিস্কার করতে হবে।
জীবাণুমুক্তকরন টানেল:
বিভিন্ন সংস্থা, অফিসে বা বিল্ডিং এ প্রবেশপথগুলোতে করোনার এই সময়ে জীবাণুমুক্তকরন টানেল স্থাপন করতে দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে এর কার্যকারিতার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারণ ড্রপ্লেট ইনফেকশন থেকে এটা কোনভাবেই সুরক্ষা দিতে পারেনা। কন্টাক্ট বা সংস্পর্শ সংক্রমণ প্রতিরোধেও এর তেমন কোন ভূমিকা নেই। বরং এর মাধ্যমে একটা নিরাপত্তার ভুল অনুভব (False Sense of Security) আমাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। চোখ, নাক, মুখে ক্লোরিন এর সংস্পর্শে প্রদাহ হতে পারে।
এখনো পর্যন্ত করোনার সর্বজন স্বীকৃত কোন কার্যকর চিকিৎসা বা প্রতিষেধক বাজারে আসেনি। তাই করোনা থেকে বেঁচে থাকার জন্য বরাবরের মতোই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাত পরিস্কার করা, হাঁচি কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করাই হচ্ছে সর্বোত্তম প্রতিষেধক।