• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

মেরিন ড্রাইভের দু’পাশে নিজের আসল রূপ দেখাচ্ছে প্রকৃতি

নিজস্ব প্রতিদেক / ৫৪৩ বার ভিউ
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০

আরফাতুল মজিদ:

করোনাভাইরাসে পুরো বিশ্ব যখন থমথমে অবস্থা; ঠিক সেই সময়ে পুরো যৌবন ফিরে পেয়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের প্রকৃতি। সড়কের দু’পাশ যেন এখন যৌবনে পরির্পূণ। প্রকৃতির যৌবন। বেড়েছে শীতল ছায়া, মেলেছে রূপ। যেন জম্ম নেওয়া এক নতুন প্রকৃতিময় সড়ক। যার রূপে আলপনা একেঁছে; এপাশে সবুজ পাহাড়, ওপাশে নীল সমুদ্র।

মাঝখান দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে দীর্ঘ পিচঢালা মসৃণ পথ। এ পথের পুরোটাই পাহাড়-সমুদ্রর ছায়া মিতালী। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ছুঁয়ে এ মেরিন ড্রাইভ সড়ক এরমধ্যে দীর্ঘতম খেতাব পেয়েছে।

এখন চোখে পড়ে সবুজ বন-জঙ্গল ফসলের মাঠ গ্রামীণ জনপদের অপরূপ দৃশ্য। অন্যপাশে অকুল দরিয়া সেই বঙ্গোপসাগরে ঢেউয়ের গর্জন। সমুদ্রের কোলঘেঁষে কোথাও নাক বরাবর সোজা কোথাও কিছুটা এঁকেবেঁকে চলা ভিন্ন রকমের মহাসড়ক এখন দেখা যায় ভিন্ন রূপে। নেই তেমন গাড়ির দৌড়। প্রতিযোগিতামূলক বাহারি গাড়ির ছোঁয়াও লাগছে না। জেলেদের মাছ শিকার তেমনও চোখে পড়েনা, হৃদয়-মন নিংড়ানো সাগরবুকে সূর্যাস্ত অবলোকন দেখা যায় ভিন্ন রূপে, লোনা বাতাসের ঝাপটা এখন সহজেই গায়ে লাগে, কখনওবা শিউরে ওঠে জনশূণ্য এই সড়কে। মুক্তির খোঁজে ছুটে চলছে প্রকৃতি তার নিয়মে।

এখন মেরিন ড্রাইভের আসল স্বাদ পাওয়া যায় কক্সবাজার কলাতলী দরিয়ানগর থেকে। ওখান থেকে টেকনাফ সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত একটানা শীতল ছাঁয়ায় চলে গেছে এ সড়ক।
হিমছড়ির পাহাড় চূড়া থেকে পাখির চোখে দেখা যায় এই রাস্তা। আর দিগন্ত বিস্তৃত নীল সমুদ্রও দেখা যায় এখান থেকে। হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্র ছেড়ে প্রায় একশ গজ সামনের সমুদ্র সৈকত ভাটার সময় দখল করে নেয় লাল কাঁকড়ার দল। এখনত কাঁকড়ার ছুঁটে চলার সময়। জনশূণ্য মুক্ত সৈকতে ছুঁটে চলছে লাল কাঁকড়া।

রেজুখাল আর সমুদ্রের মিলনস্থলের একপাশে সারি সারি সুপারি গাছ, অন্যপাশে ঝাউবন। দুই পাশে আছে শ্বাসমূলীয় বন। তারাও ফিরে পেয়েছে নিজস্ব যৌবন।

উখিয়ার জালিয়াপালং এলাকায় মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্যও বেড়েছে এখন। ইনানী থেকে সামান্য সামনে জালিয়াপালং। এখানে আছে রয়েল টিউলিপ বিচ রিসোর্ট। সাগর ঘেঁষে গড়ে ওঠা আধুনিক এ রিসোর্টটি নির্জনে সমুদ্র দেখার অনবদ্য জায়গা। এরপরে বেশ কিছুটা পথ পাহাড় কোলে নির্জন মেরিন ড্রাইভ। সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন ছাড়া এখানে আর কোনো শব্দ পাওয়া বিরল।

কক্সবাজার থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভের চমৎকার একটি জায়গা শামলাপুর। এখানকার সমুদ্র সৈকতটি বেশ সুন্দর ও নির্জন। শামলাপুর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার সামনে আরেকটি সৈকত হাজামপাড়া। এটি কিন্তু নির্জন নয়।

হাজামপাড়া থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সামনে জায়গার নাম শিলখালি। এখানে মেরিন ড্রাইভের একপাশে শিলখালি গর্জন বন। বিশাল বিশাল এ গর্জন বিন গেম রিজার্ভের অংশ। অন্য পাশটায় শিলখালি সমুদ্র সৈকত।

হাজাম পাড়া থেকে সামনে মেরিন ড্রাইভের আরেকটি সুন্দর জায়গা দরগার ছড়া। এখানে সড়ক লাগোয়া রঙিন জেলে নৌকা আর পাহাড়ের সৌন্দর্য মিলে ভিন্ন আমেজ তৈরি করেছে।
দরগাছড়া থেকে টেকনাফ সমুদ্র সৈকত বেশি দূরে নয়। মাত্র পনের কিলোমিটার। বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন এবং নির্জন সৈকতগুলোর একটি।

টেকনাফের এ সৈকতে এসেই শেষ হয়েছে দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটারের মেরিন ড্রাইভ। দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার এখন সুনশান নিরবতা। মানুষের বিচরণ নেই বললেই চলে। এখন সব স্বাধীনতা প্রকৃতির। নিজের রূপে সেজে উঠছে প্রকৃতি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন