কক্সবাজার অফিস:
কক্সবাজার জেলা কারাগারে আত্মসমর্পণকারী দুই ইয়াবা ডনের মধ্যে দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ও দুপুরে ইয়াবা কারবারি শাহজান আনচারী ও একেরামের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
মারামারিতে অংশ নেন কারাগারে থাকা দুই গডফাদারের অনুসারীরা। এতে আহত হন চারজন। তবে তাদের নাম ও ঠিকানা পাওয়া যায়নি। জামিনে বের হতে ইয়াবা কারবারি একেরাম প্রায় ২৭ লাখ টাকা শাহজান আনচারীকে দিয়েছেন বলে দাবী করে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেল সুপার মোজাম্মেল হোসেন ।

জানা গেছে, টেকনাফের নাজিরপাড়ার আলোচিত ইয়াবা গডফাদার একরাম মেম্বার জামিনে বের হতে আরেক গডফাদার শহরের বাসটার্মিনাল এলাকার শাহজান আনচারীকে টাকা দিয়েছেন দাবি করে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে ও দুপুরে তাদের মারামারিতে সঙ্গ দেন দুই জনের সমর্থক ও স্ব-স্ব উপজেলার কিছু হাজতি। যার মধ্যে অধিকাংশই ইয়াবা কারবারি।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা গডফাদাররা আত্মসমর্পণ করার পর সরকারি প্রক্রিয়ায় বের হতে সময় লাগতে পারে শুনে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা জামিনে বের হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শাহজান আনচারী বিভিন্ন নেতাদের মাধ্যমে লবিং শুরু করেন। ওই লবিংয়ে যুক্ত হতে শাহজান আনচারীর সাথে কারাগারের ভিতরে কথা হয় টেকনাফের ইয়াবা গডফাদার একরামের। এক পর্যায়ে শাহজান আনচারীকে ২৭ লাখ টাকা দেন একরাম। আনচারীর মানুষ জনৈক রুবেলের (রুবেল নিজেকে আইনজীবী দাবী করে) কাছে একরামের পরিবারের লোকজন টাকা পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে।
টাকা দেওয়ার পর থেকে শাহজান আনচারী জামিনে বের হওয়ার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে একরামকে। কিন্তু জামিন হচ্ছে না। এ নিয়ে কারাগারের ভিতরে তাদের মধ্যে অনেকবার কথা কাটাকাটি হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাহজাহান আনচারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত কক্সবাজারের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি। তাঁর বাড়ি শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায়। আনচারীর তিন ভাইসহ পুরো পরিবার ইয়াবা কারবারে জড়িত। বর্তমানে তার এক ভাইও পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছে।
গত দুই বছরে এক ডজনের উপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়েছিল শাহজান আনচারীর বাড়িতে। ক্রসফায়ারের ভয়ে ২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন শাহজান আনচারী।
আত্মসমর্পণের পর কারাগারেও রাজারহালে জীবন যাপন শাহজান আনচারীর। বিভিন্ন প্রভাবশীল নেতা ও আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা ইয়াবা কারবারিদের যোগান দেয়া অর্থে কারাগারের ভিতরে শাহজান আনচারীর রাজারহালে জীবন যাপন বলে জানা গেছে। এমনকি আত্মসমর্পণ করা শীর্ষ ১০২ জন ইয়াবা কারবারি জামিনে বের হতে বিভিন্নভাবে অর্থের লেনদেনও করেছে আনচারী। সবাই একযোগ হয়ে মোটা অংকের টাকাও সংগ্রহ করে। টাকা আদায়ের পর কারাগারের ভিতরে অবস্থান করে সব দিকে লবিং করেন আলোচিত ইয়াবা কারবারি শাহজান আনচারী। যার অংশ হিসেবে একরামের ২৭ লাখ টাকার বিষয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার।

কক্সবাজার জেল সুপার মোজাম্মেল হোসেন বলেন, মারামারির ঘটনায় তাদেরকে প্রাথমিকভাবে মিমাংস করা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে তাদের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি আপেক্ষ করে জানান, শাহজাহান আনচারী কারাগারে রাজার হালে চলে। মাদক মামলায় কারাভোগ করলেও কারাগারের সাধারণ কারারক্ষী থেকে শুরু করে প্রত্যেক কর্মকর্তা তাকে নিয়মিত কুর্নিশ করে। ভিআইপির মর্যাদায় সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। কারাগারে আইন সবার জন্য এক রকম আর আনচারীর জন্য আরেক রকম। আমার প্রশ্ন হলো কার ক্ষমতায় এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়ে শাহজাহান আনচারীর কারাগারে এমন শাহী জীবন যাপন? কারাগারে বসেই আনচারী নিরাপদে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে দাবী করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আত্মসমপর্ণ করেন ১০২ জন ইয়াবা কারবারি। তাদের মধ্যে শাহজান আনচারীর বাড়ি কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় এবং একরামের বাড়ি টেকনাফের নাজির পাড়া এলাকায়। তারা ইয়াবা গডফাদার হিসেবে পরিচিত।