কক্সবাজার অফিস:
উখিয়ায় স্থাপিত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার দুই ব্যক্তির পরিবারের ভরণপোষনের দায়িত্ব নিয়েছেন পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কমিশনার মিজানুর রহমান। একই সাথে ওই দুই ব্যক্তির কোয়ারেন্টাইনের খরচও বহন করছেন তিনি।
জানা গেছে, কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো সেলিম উল্লাহ ও ফরিদুল আলম নামে দুই ব্যক্তি মৎস্য শ্রমিক। তাদের বাড়ি শহরের নুনিয়ারছড়ায়। মাছের চালানের সাথে ট্রাকে করে তারা নারায়নগঞ্জ আসা-যাওয়া করে। গত ১৮ এপ্রিল মাছ খালাস করে তারা নারায়নগঞ্জ থেকে বাড়িতে আসেন।

পরে খবর পেয়ে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ডের কমিশনার মিজানুর রহমান প্রশাসনের মাধ্যমে তাদেরকে উখিয়াস্থ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠান। কিন্তু সরকারিভাবে তাদের পরিবারকে কোন ধরণের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়নি।

সেলিম উল্লাহ ও ফরিদকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর পর তাদের পরিবারের যাবতীয় ভরণ পোষনের দায়িত্ব নিয়েছেন কমিশনার মিজানুর রহমান। এ দুই পরিবারকে ১৫ দিনের খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও যখন যা প্রয়োজন সবই সরবরাহ করছেন এই কাউন্সিলর।
দরিদ্র হওয়া স্বত্বেও সেলিম ও ফরিদের কোয়ারেন্টাইনের খরচ সরকারিভাবে বহন করা হচ্ছে না। কোয়ারেন্টাইনের খরচও বহন করছেন কমিশনার মিজান। তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার পরপরই কমিশনার মিজান ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে কোয়ারেন্টাইনের রুম ভাড়ার জন্য ২ হাজার টাকা এবং খাবারের জন্য ৫ হাজার টাকা পাঠান।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, তারা দুজনই মৎস্য শ্রমিক। সম্প্রতি তারা ঢাকার নারায়নগঞ্জ থেকে ফিরেছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমের আশঙ্কায় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর পর আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে তাদের পরিবারের যাবতীয় খাবার সামগ্রি এবং তাদের কোয়ারেন্টাইন খরচও দিয়ে যাচ্ছি। যতদিন তাদের কোয়ারেন্টাইন শেষ হবে না ততদিন তাদের পরিবারের পাশে থাকবো।
তিনি বলেন, যে দুজনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে তারা খুবই দরিদ্র। তাদের পক্ষে কোয়ারেন্টাইন খরচ চালানোর সক্ষমতা নেই। প্রাথমিকভাবে আমি তাদের খাবার ও রুম ভাড়া খরচের কিছু টাকা দিয়েছি। সরকারিভাবে তাদের কোয়ারেন্টাইন খরচ বহন করার দাবী জানান তিনি।

কক্সবাজার পৌরসভার ব্যতিক্রম কমিশনার মিজানুর রহমান। পৌরসভার প্রায় কমিশনারেরই তৎপরতা নেই। শুরুর দিকে কয়েকজনের কিছুটা তৎপরতা দেখা গেলেও এখন তৎপরতা প্রায় থেমে গেছে বললেই চলে। কিন্তু কমিশনার মিজানুর রহমান শুরু থেকেই তিনি খাদ্য সহায়তা ও জনসচেতনতা নিয়ে মাঠে আছেন। এক মুহুর্তেরও পিছপা হননি। সরকারি বরাদ্দের দিকে চেয়ে না থেকে ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নিয়মিত ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। যতদিন করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট সংকট কাটবে না ততদিন মানুষের পাশে থাকবেন বলে জানান কমিশনার মিজানুর রহমান।