• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় টইটং অঙ্কুর বিদ্যাপীটের বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন পেকুয়া সদর মৌলভী পাড়া সমাজ কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন : সভাপতি-শিব্বির, সাধারণ সম্পাদক – জাহেদ ১৬ মাসে নতুন করে দেশে এসেছেন দেড় লাখ রোহিঙ্গা ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন উখিয়া-টেকনাফে প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক এনজিও চার বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস নোহা বক্সিসহ ২৮ হাজার ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজার মহাজের পাড়ার জসিম ও সাইফুলসহ আটক ৪ পেকুয়ায় সংরক্ষিত বনে অবৈধ স্থাপনা : সংবাদ প্রকাশ করায় বন কর্মকর্তার হুমকি চকরিয়ার মাতামুহুরীসহ নতুন পাঁচ উপজেলা গঠন

টেকনাফে গ্রাহকের ৬৫ লাখ টাকা লোপাট করল ইসলামী ব্যাংকের ৩ কর্তা

ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক: / ১০৮ বার ভিউ
আপডেট সময় : রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৩

গ্রাহকেরা ব্যাংকে টাকা জমা করার পর করা হয় টার্গেট। স্বয়ং ব্যাংক কর্তারাই মিলেমিশে করতেন চেক বই জালিয়াতি। এরপর সুযোগ বুঝেই গ্রাহকের টাকা হাওয়া করে দিতেন তারা। বিভিন্ন সময়ে একাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংক টেকনাফ শাখার ৩ কর্মকর্তা লোপাট করেছেন অন্তত ৬৫ লাখ টাকা। কিন্তু সেই টাকা মেরে খেয়ে হজম করতে পারেননি তারা। অবশেষে মামলা খেয়ে কারাগারে গিয়েছেন ৩ জনই।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) তাদেরকে টেকনাফ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ইসলামী ব্যাংক টেকনাফ শাখার ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন টাকা আত্মসাতের অভিযোগে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই অভিযুক্ত ৩ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ৩ জন হলেন- ইসলামী ব্যাংক টেকনাফ শাখার অফিসার ইমান হোসেন, জুনিয়র অফিসার আজিজ আহমেদ জাবেদ এবং মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তাদের মধ্যে ইমান হোসেন টেকনাফের হৃলার দমদমিয়া এলাকার টান্ডা মিয়ার পুত্র, আজিজ আহমেদ জাবেদ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইনের ইউনিয়ের উজিরপুর গ্রামের মীর আহমেদের পুত্র এবং মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম একই উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই এলাকার শেখ আমিনুল হকের পুত্র।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ নভেম্বর ইসলামী ব্যাংক টেকনাফ শাখায় একজন গ্রাহক তার হিসাবের স্থিতিতে গরমিল পাওয়ায় ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন এর কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। উক্ত মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তার হিসাবের স্থিতির গরমিলের ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পান ব্যবস্থাপক। একইভাবে ১২ নভেম্বর অন্য এক গ্রাহক তার হিসাবের স্থিতির ব্যাপারেও একই অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগেরও শাখা ব্যবস্থাপক যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পান।

অভিযোগ যাচাই-বাছাইকালে শাখা ব্যবস্থাপক ওই শাখার অফিসার ইমান হোসেন, জুনিয়র অফিসার আজিজ আহমেদ জাবেদ এবং মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততা পান। তারা ব্যাংক প্রদত্ত নিজ নিজ আইডি ব্যবহার করে পরস্পর চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ইস্যু করে এবং চেকগুলো ব্যবহার করে নগদ ও স্থানান্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাব থেকে অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন করেন।

তাদের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাবে সেই টাকাগুলো স্থানান্তর করেন। বিষয়টি ব্যবস্থাপক নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত আঞ্চলিক প্রধানকে অবহিত করে নিরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনু্যায়ী, সর্বমোট বিভিন্ন গ্রাহকের হিসাব থেকে সর্বমোট ৫৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অননুমোদিত উত্তোলন করা হয়। একই ভিত্তিতে ব্যাংকের কর্মকর্তা অভিযুক্ত ইমান হোসেনকে ব্যবস্থাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন। একইসাথে অভিযোগকারী দুইজন গ্রাহকের হিসাবের গরমিলের ১৩ লাখ টাকা ব্যবস্থা করে তাদের অভিযোগ তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি একই পদ্ধতিতে সর্বমোট ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।

অভিযুক্ত ইমান হোসেনের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজেই ৩০ লাখ টাকা, আজিজ আহমেদ জাবেদ ৩০ লাখ টাকা এবং মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ৫ লাখ টাকা পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিয়েছেন। যদিও অভিযুক্ত আজিজ আহমেদ জাবেদ এবং মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অডিট টিম সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ইমান হোসেন ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করলেও ব্যবস্থাপক এ পর্যন্ত ৫৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অননুমোদিত উত্তোলনের প্রমাণ পেয়েছেন। এই অবৈধ উত্তোলনের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ইমান হোসেন এবং আজিজ আহমেদ জাবেদ যোউথভাবে ব্যাংক কর্তৃক তাদের প্রদেয় আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ওই লেনদেনগুলো করেছেন। আরও কোনো অবৈধ লেনদেন আছে কিনা- তা জানতে অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা চলমান রয়েছে।

এদিকে, শাখা ব্যবস্থাপক অভিযুক্ত এবং তাদের পরিবারের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ইমান হোসেনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লোপাট করা বাকি ৫২ লাখ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এরইমধ্যে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় থেকে সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্ত ৩ কর্মকর্তাকেই চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

টেকনাফ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মঞ্জু জানান, এ বিষয়টি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বরাবর ব্যবস্থাপক কর্তৃক দায়েরকৃত এজাহারটি ফরোয়ার্ডিংসহ পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন